রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

Prof Dr Tareque Shamsur Rehman

In his Office at UGC Bangladesh

Prof Dr Tareque Shamsur Rahman

During his stay in Germany

Prof Dr Tareque Shamsur Rahman

At Fatih University, Turkey during his recent visit.

Prof Dr Tareque Shamsur Rehman

In front of an Ethnic Mud House in Mexico

বিশ্বায়নের বিনির্মাণ




বিশ্বায়নের বিনির্মাণ
করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী যেসব পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ডিগ্লোবালাইজেশন’ বা বিশ্বায়নের বিনির্মাণ। অর্থাৎ বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে বিশ্বায়ন বিশ্বব্যাপী যে আবেদন সৃষ্টি করেছিল, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যর্থতা বিশ্বায়নের সেই আবেদনকে ভেঙে দিয়েছে। বিখ্যাত নিউজ ম্যাগাজিন ইকোনমিস্টের গত ১৬ মের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছিল  Goodbye Globalisation—বিদায় বিশ্বায়ন। ইকোনমিস্টের মতে, বিশ্বায়নের ফলে বিশ্ববাণিজ্য উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। এবং বিশ্বায়ন বিশ্ব অর্থনীতিকে দুই দশক ধরে নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু কভিড-১৯ মহামারি বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামিয়েছে এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের যথেষ্ট অবনতি ঘটিয়েছে এবং নতুন করে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করতে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন।
নোভেল করোনাভাইরাস কভিড-১৯ পৃথিবীর ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৮ মে পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা তিন লাখ ১৭ হাজার ৫৬১, আর আক্রান্ত ৪৮ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৮ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৯১ হাজার ৯২ জন (আক্রান্ত ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৬১ জন)। এই পরিসংখ্যানই আমাদের বলে দেয় বিশ্ব অর্থনীতির ব্যর্থতাটা কোথায়। বিশ্বায়ন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ১ নম্বর অর্থনীতিতে পরিণত করলেও (২০১৯ সালে সাধারণ নিয়মে জিডিপির পরিমাণ ২১.৪২ ট্রিলিয়ন ডলার) স্বাস্থ্য সেক্টরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা চরমে পৌঁছেছে। করোনাভাইরাস বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, তা ১৯৩০ সালের পর বিশ্বে আরেকটি মহামন্দার জন্ম দিতে যাচ্ছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য এখন থমকে গেছে। মেক্সিকো যে গাড়ি রপ্তানি করত, তা শতকরা ৯০ ভাগ কমে গেছে। হিথরো বিমানবন্দরের (লন্ডন) যাত্রী মুভমেন্ট শতকরা ৯৭ ভাগ কমে গেছে। যাত্রীবাহী অনেক বিমান সংস্থা এখন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে অথবা জনবল ছাঁটাই করবে। প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন হ্রাস পেয়েছে শতকরা ২৩ ভাগ। অথচ বিশ্বায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল অবাধ যাত্রী মুভমেন্ট, সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়া, আর অবাধ বাণিজ্য। এখন তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সিএনবিসি গত ২৪ এপ্রিল (২০২০) তাদের এক প্রতিবেদনে সাতটি ক্ষেত্র উল্লেখ করেছে, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী বেকার সমস্যা বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই হার শতকরা ৪.৪ ভাগ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩.৮ ভাগ, জার্মানিতে ৫ ভাগ, অস্ট্রেলিয়ায় ৫.২ ভাগ আর চীনে ৫.৯ ভাগ। খুচরা বিক্রি অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। কিন্তু দেখা যায়, চীনে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর পরিমাণ যেখানে ছিল ১০ ভাগ, সেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২০-এ এর পরিমাণ কমেছে মাইনাস ১৫.৮ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রে ওই সময় এর পরিমাণ ০.০ ভাগ থেকে কমেছে মাইনাস ৬.২ ভাগ। পিএমআই (PMI- Purchasing Managers Index) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ইন্ডিকেটর বা নির্দেশক। PMI যদি ৫০-এর নিচে থাকে, তা অর্থনীতিতে সংকোচনের আভাস দেয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চীনে সার্ভিস সেক্টরে  PMI-এর পরিমাণ ৪৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯.৮, জাপানের ৩৩.৮ আর ইউরো জোনের ২৬.৪। অন্যদিকে উৎপাদন খাতে
PMI চীনে ৫০.১, যুক্তরাষ্ট্রে ৪৯.২, জাপানে ৪৪.৮ আর ইউরো জোনে ৪৪.৫। অর্থাৎ শুধু চীনে উৎপাদন খাত সম্প্রসারিত হয়েছে, অন্যান্য অঞ্চলে সংকুচিত হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বিশ্ববাণিজ্যের যে প্রাক্কলন করেছে, তাতে দেখা যায় বিশ্ববাণিজ্যে ১২.৯ থেকে ৩১.৯ ভাগ পর্যন্ত ঘাটতি হবে। এই বাণিজ্যে প্রতিটি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা বিশ্বায়ন বা মুক্তবাণিজ্যের পরিপন্থী। আইএমএফের মতে, বিশ্ব জিডিপি ২০২০ সালে হ্রাস পাবে মাইনাস ২.৫ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৬ ভাগে হ্রাস পাবে। জাপান ও জার্মানিতেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৫ ও মাইনাস ৭ ভাগে হ্রাস পাবে। শুধু চীনে প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে প্লাস ৫ ভাগের ওপরে। আইএমএফের মতে, ২০২০ সালে বিশ্ব প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, চলতি ২০২০ সালে ১৭০টি দেশে মাথাপিছু আয় কমবে।
আমরা পরিসংখ্যানগুলো উল্লেখ করলাম এ কারণে যে বিশ্বায়ন যে সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল, সেই সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটেছে এখন। বলা যেতে পারে বিশ্বায়নের ‘মৃত্যু’ ঘটেছে। তবে চীন ঘুরে দাঁড়াবে। এখন চীন একটি নতুন ধরনের বিশ্বায়নের জন্ম দিতে পারে। অথবা বিশ্বায়ন নতুন করে বিনির্মাণ হবে, যেখানে করপোরেট হাউসগুলোর প্রফিট বা লাভের চাইতে মানবিক বিষয়গুলো (যেমন স্বাস্থ্য খাত) গুরুত্ব পাবে বেশি
Kalerkontho
21.5.2020

ভাইরাস যেসব বিষয়ে ভাবাচ্ছে


চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইতোমধ্যে চার মাসের অধিক সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে এই মহামারিটি নিয়ন্ত্রণে তো আসেইনি, বরং প্রতিদিনই বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সংবাদপত্রগুলো আমাদের যেসব তথ্য দিচ্ছে, তাতে আমরা বেশ কিছু মেসেজ পাই।
এক. বিশ্বব্যপী করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ওয়াল্ডোমিটার নিত্য মনিটরিং করে। তাদের মনিটরিংয়ে মৃত্যুর গ্রাফ এখনও ঊর্ধ্বমুখী। 
দুই. চীনের উহানে গত ১১ মে নতুন করে ৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জিলিনেও করোনা রোগী পাওয়া গেছে। গত ৮ এপ্রিল চীন উহান থেকে 'লকডাউন' তুলে নিয়েছিল এবং অনেক কলকারখানা আবার চালু হয়েছিল। কিন্তু উহানে নতুন করে আক্রান্তের খবর আর শুলান শহরে (জিলিন প্রদেশ) করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর প্রকাশের পর শহর কর্তৃপক্ষ মার্শাল ল' জারি করে শহর পুরো লকডাইনের ঘোষণা দিয়েছে (বিবিসি)। এটা আমাদের জন্য একটা বার্তা যে, একবার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও এই মহামারিটি আবার ফিরে আসতে পারে। 
তিন. কিছু কিছু দেশ এর আগে আক্রান্ত হয়নি, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। খোদ রাশিয়া। রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ইতালি ও যুক্তরাজ্যের আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। গত ১১ মে রয়টার্সের খবর সিউলের নাইটম্যান ও বারে নতুন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর অর্থ হচ্ছে- করোনাভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার পরও (দক্ষিণ কোরিয়ায়) তা নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে 'লকডাউন' কড়াকড়ি করা ও 'সামাজিক দূরত্ব' মেনে চলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। 
চার. কভিড-১৯ একটা নতুন ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ, বিশ্ব এর আগে আর এ ব্যাপারে অবগত ছিল না। এখন বলা হচ্ছে কভিড-১৯ থেকে 'মুক্তি' পেলেও আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিলতায় ভুগতে হবে। এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন হূৎপিণ্ড, কিডনি, ব্রেন, এমনকি রক্ত জমে থাকার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন রোগীরা (ভক্স নিউজ, মে ৮)। এর অর্থ হচ্ছে বিশ্ব এখন একটা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মাঝে থাকবে। এখন অবধি কভিড-১৯-এর কোনো ওষুধ আবিস্কৃত হয়নি। আর আবিস্কৃত হলেও এর মূল্য উন্নয়নশীল বিশ্বের নাগরিকদের ক্রয় সক্ষমতার বাইরে থাকতে পারে। 
পাঁচ. স্বাস্থ্য বিশ্নেষকরা বলেছেন, কভিড-১৯ সহসা নির্মূল হবে না। নূ্যনতম দুই বছর এটি থাকবে। ফলে প্রতিটি রাষ্ট্রকে এটা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ। 
ছয়. করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিকে একটা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো আছে 'চাপের' মুখে। আইএসআর প্রধানের মতে, উঠতি অর্থনৈতিক শক্তির দেশগুলোর এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দরকার হবে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বাজার হারানো, রপ্তানিতে শ্নথগতি, প্রবাসীদের দেশে ফিরে এসে কোনো কর্মসংস্থান করতে না পারার কারণে দেশগুলো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে যে অর্থের প্রয়োজন হবে, তা কোত্থেকে আসবে? ভারতের মতো উঠতি অর্থনীতির দেশ করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষদের কাজে ব্যবহার হবে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিমাণ (২০১৯) ৮৮ হাজার বিলিয়ন ডলার। করোনাভাইরাসের কারণে এই অর্থনীতিতে এখন শ্নথগতি আসবে। অর্থের পরিমাণ বছর শেষে কমে যাবে। ২০১৯ সালে বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৯ ভাগ। ২০২০ সালে এই প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৩ ভাগ। কিন্তু এখন নিশ্চিত করেই বলা যায়, এই প্রবৃদ্ধি আরও একভাগ কমে যাবে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে উন্নয়নমীল বিশ্বের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনাভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওটা এই দেশগুলোর পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যর্থতা, বেকার সমস্যা বেড়ে যাওয়া, রপ্তানি খাতে ধস উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বড় সংকটের মধ্যে ফেলে দেবে। বলা ভালো, বৈশ্বিক রপ্তানিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থান এখন অনেক শক্তিশালী। বৈশ্বিক রপ্তানিতে ২০০০ সালে যেখানে এই দেশগুলোর অবস্থান ছিল শতকরা ২৯ দশমিক ৭ ভাগ, ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ ভাগে, আর ২০১৯ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ অবস্থান শতকরা ৪৪ ভাগ। এতে এখন ধস নামবে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন তাদের বাজার হারাবে। 
বাংলাদেশের কথা যদি বলি, তাহলে বলতেই হবে অর্থনীতি রয়েছে ঝুঁকির মুখে। এ কথা স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধানতম উৎস দুটি; রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে রেমিট্যান্স খাতে একটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটা মন্দাভাব আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। নির্মাণ শিল্পে শ্নথ গতি আসবে, ফলে বেকার হয়ে পড়বেন শত শত কর্মী, যার একটা অংশ সরবরাহ করা হয় বাংলাদেশ থেকে। যেহেতু বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়ার কথা বিশ্ব মিডিয়ায় ছাপা হয়েছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না। বাংলাদেশের অপর একটি বৈদেশিক আয়ের উৎস তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ হচ্ছে আমাদের বড় বাজার। এ খাতে ২০১৯ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের আয় ছিল ৩০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। এখন এই সেক্টরে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আড়াইশ' কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো এখন ক্রেতাশূন্য। একই কথা প্রযোজ্য ইউরোপের প্রতিটি দেশে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বড় বড় শহর ছিল 'লকডাউন'-এ। যেখানে মানুষ জীবন-মৃত্যুর মাঝে বসবাস করছে, সেখানে তৈরি পোশাক কিনবে কে? 
এ তো গেল বাংলাদেশের কথা। আফ্রিকায় রয়েছে খনিজসম্পদ, বিশেষ করে কপার ও জিঙ্ক। এর বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ। এই বাজার এখন নেই। কোনো অর্ডার মিলছে না। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম পড়ে গেছে। জানুয়ারিতে যে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার, তা এখন ১৫ ডলারে নেমে এসেছে (২৭ এপ্রিল)। শতকরা আরও ২০ ভাগ দাম পড়ে যেতে পারে। ১০ ডলারে দাম চলে আসতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। ফলে এর একটি প্রতিক্রিয়া থাকবেই। 
সাত. করোনাভাইরাসের কারণে অনেক দেশ ফেইল্ড স্টেট বা ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কেননা এসব রাষ্ট্র বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবে না। প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাবে না। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যে ধরনের প্রশিক্ষিত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী থাকা দরকার, তা তাদের নেই। ফলে প্রশাসনের ব্যর্থতা অনেক রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে।
এ কারণেই করোনাভাইরাসকে শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করলে আমরা ভুল করব। এর সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। আমরা এটাকে বলেছি 'অপ্রচলিত নিরাপত্তা' ঝুঁকি। একটি ভাইরাস পুরো বিশ্বকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে কভিড-১৯ এর বড় প্রমাণ। নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্য সমস্যা একটা সংকট তৈরি করেছে কিন্তু ব্যাপক অর্থে অর্থনীতি, সামাজিক ও সুশাসনের ক্ষেত্রেও একটা সংকট তৈরি করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও আমরা এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে পারি। সুতরাং বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের করোনা সংকট মোকাবিলা করতে হবে।Samakal 18.5.2020

, 18.5.2020





বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কোন পথে?

  

করোনা ও চীন-মার্কিন সম্পর্ক


 


করোনাভাইরাস নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোনদিকে টার্ন নেবে, তা এ মুহূর্তে স্পষ্ট করে বোঝা না গেলেও এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাসের বিষয়টিকে ইস্যু করে আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চাচ্ছেন। ২০১৬ সালের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘রাশিয়া গেট’ বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার তথাকথিত ‘জড়িত’ ও ‘প্রভাব বিস্তার’ করার অভিযোগ বিগত চার বছরেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
এ নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন। চলতি বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। আর এ নির্বাচনে ট্রাম্পের চীনবিরোধী একাধিক বক্তব্য থেকে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এবার তিনি টার্গেট করেছেন চীনকে। তার স্পষ্ট অভিযাগ, করোনাভাইরাসটি চীনের উহানে অবস্থিত একটি ল্যাব থেকে ‘লিক’ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যখন চীনবিরোধী একটি বক্তব্য দেন তা গুরুত্ব পায় বৈকি। এখানে আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, আর তা হচ্ছে- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি চীনের নাম করে বক্তব্য দিলেও চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র তথা ট্রাম্পবিরোধী কোনো বক্তব্য দেননি। তবে এটা ঠিক চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বক্তব্য আমরা পেয়েছি, যাতে ট্রাম্পের বক্তব্য খণ্ডন করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি অভিযোগ করেছেন উহানের ল্যাবে এ ভাইরাসটি তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ এ ভাইরাসটি মানবসৃষ্ট একটি ভাইরাস। তার দ্বিতীয় অভিযোগটি হচ্ছে, তার পুনর্নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে চায় চীন। তার মতে, তার পুনর্নির্বাচন ঠেকাতে ‘যা শক্তিতে কুলায়’ বেইজিং তা-ই করতে পারে। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগটি করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি এ কথাও বলেছেন, চীনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা তিনি ভেবে দেখছেন। এক্ষেত্রে নতুন করে চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপের দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন।
শুধু ট্রাম্প একাই নন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও একই সুরে কথা বলেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দফতরের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ‘চীন উদ্দেশ্যমূলকভাবে মহামারীর ভয়াবহতা গোপন করেছে।’ ওই প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জানানোর আগেই চীন চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত করেছে। নিজেদের বিশাল কর্মীবাহিনী থাকায় চীন সহজেই ওইসব কাঁচামাল কাজে লাগিয়ে মাস্ক, পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট, গ্লাভসসহ সব পণ্য তৈরি করে নিতে পারবে। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই পম্পেও বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার দায়ে চীনের শাস্তি হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে দাঁড়িয়ে পম্পেও বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। যারা দায়ী, তাদের আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য করব এবং আমাদের সময়মতোই আমরা সেটা করব।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিংবা পম্পেওর বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, করোনাভাইরাসটি চীনে তৈরি এবং মানবসৃষ্ট একটি ভাইরাস। চীন এ তথ্যটি গোপন করেছে এবং চীনের উদ্দেশ্য হচ্ছে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে পুনর্নির্বাচিত হতে না দেয়া। প্রকারান্তরে ট্রাম্প প্রশাসন এটাই বলতে চাচ্ছে, চীন চায় একজন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের অভিযোগের আদৌ কোনো ভিত্তি আছে কি? সত্যি সত্যিই উহানের ল্যাবে এটি তৈরি হয়েছিল কিনা? নাকি এটা চীনের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র?
এর জবাব দেয়ার আগে আমরা আরও কিছু বক্তব্য শুনব। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মানবসৃষ্ট নয়। অথবা জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়নি বলে বিজ্ঞানীরা যে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, তাতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও একমত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জেনেভায় বলেছে চীনের ল্যাবে ভাইরাস তৈরি হয়েছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো ‘প্রমাণ’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে পাঠানো হয়নি। সংস্থাটির ইমারজেন্সি ডাইরেক্টর ডা. মাইকেল জে রায়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুমাননির্ভর। সংস্থার টেকনিক্যাল লিডের মতে, সব প্রমাণ বলছে ভাইরাসটির উৎপত্তি প্রকৃতিতে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও ব্রিটেনের গোয়েন্দাদের জোট ‘ফাইভ আইস’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ল্যাব তত্ত্ব শুধু কিছু সংবাদমাধ্যমেই এসেছে। বাস্তবে এর প্রমাণ নেই। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে এ তথ্যটি জানা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফুচি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত। তিনি আরও বলেছেন, এটি যে চীনের ল্যাবে তৈরি হয়েছে, এর কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ঠড়ী নিউজ ম্যাগাজিন এ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ২৯ এপ্রিল। এটি লিখেছেন এলিজা বারক্লে (Eliza Barclay)। তার প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘Why these
scientists still doubt the coronavirus leaked from a chinese lab’. প্রতিবেদনে তিনি বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর মতামত নিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ উহানের বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানে (Wuhan Institute of virology) কাজ করেছেন। প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যাঞ্জেলা রাসমুসসেনের (Angela Rasmus
sen) একটি উদ্ধৃতিও আছে, যেখানে তিনি ল্যাব থেকে এটি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেছেন। তার মতে, This virus came
from bats under unknown 'circumstances’- বাদুড় থেকে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। এ যুক্তিও কতটুকু গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। কেননা উহানে যখন প্রথম এটি ধরা পড়ে (৩১ ডিসেম্বর ২০১৯), তারপর এটি ছড়িয়ে পড়ে ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে। কেপভার্দে, সাদ, টোগো কিংবা বারবাডোজের মতো দেশ ও অঞ্চলেও এটি ছড়িয়ে পড়েছিল। উহান ল্যাব থেকে ছড়িয়ে পড়লে টোগো বা বারবাডোজের মতো দেশে এত তাড়াতাড়ি এটি ছড়িয়ে যেত না। সুতরাং ‘ল্যাব থিউরি’ যুক্তিযুক্ত নয়। Vox-এর প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মার্ক মিলিই’র একটি বক্তব্য আছে। তার বক্তব্য- ‘It's
inconclusive, although the weight of evidence seems to indicate natural.’ প্রকৃতি থেকেই উৎপত্তি- এমন কথাও জানাতে চেয়েছেন তিনি। নিউজউইক ম্যাগাজিন ২৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন গোয়েন্দা রিপোর্ট (জানুয়ারি) উল্লেখ করে তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, ‘Judged that the outbreak probably occurred naturally’- অর্থাৎ প্রকৃতিতেই জন্ম। যদিও গোয়েন্দা সংস্থা তাদের রিপোর্টে কিছু পরিবর্তন এনে 'accidentally due to unsafe laboratory practices' শব্দটি পরে ব্যবহার করে। দুর্ঘটনাক্রমে এটি হয়ে থাকতে পারে- তাদের শেষ অভিযোগ ছিল এমনই। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও National Emerging Infectious Diseases Laboratories-এর প্রধান অধ্যাপক গেরাল্ড কেউচও বলেছেন, উহান ল্যাবটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। এখান থেকে ভাইরাসটি ‘লিক’ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ধরনের অনেক প্রতিবেদন ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রমাণ করে করোনাভাইরাসটি (কোভিড-১৯) উহান ল্যাবে তৈরি হয়নি, কিংবা উহান ল্যাব থেকে ‘লিক’ হয়নি। আরও দুটি তথ্য দিই। উহানে করোনাভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই ১৬ নভেম্বর (২০১৯) পূর্ব ফ্রান্সের Albert Schweitzen হাসপাতালে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে (CGTN, ৮ মে)। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Center for Research on Coronavirus and other Emerging
Pathogens-এর সহ-পরিচালক ফ্রেডেরিক ডি. বুসম্যানও (Frederic D. Bushman) মনে করেন, ‘Covid-19 is not an
engineered weapon’ (CGTN, ৮ মে)। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে এতসব জেনেও ট্রাম্প কেন চীনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন? এর মূল কারণ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া। এটা প্রমাণিত, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যর্থ। প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন বেকার হয়ে পড়েছেন (৩৩.৫ মিলিয়ন)। আর নোয়াম চমস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে! মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সুতরাং ‘চীনা ভাইরাস’-এর বক্তব্য দিয়ে ট্রাম্প সবার দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন মাত্র।
Jugantor
10.5.2020

বিশ্ব কি আরেকটি মহামন্দা দেখতে যাচ্ছে



নতুন পৃথিবীর মুখ

advertisement
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেনের একটি লেখা সম্প্রতি কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার উপসম্পাদকীয় কলামে ছাপা হয়েছে। সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, তখন একজন নোবেল অর্থনীতিবিদের আগামী পৃথিবীর স্বপ্ন নিঃসন্দেহে অনেক চিন্তার খোরাক জোগাবে। তিনি আশাবাদী হতে চেয়েছেন। এক নতুন পৃথিবী তিনি দেখতে চেয়েছেন যেখানে ‘খানিক কম অসাম্যযুক্ত বিশ্ব’ নতুন এক আদর্শ হিসেবে উপস্থাপিত হবে। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, সাম্প্রতিক এই সংকট (করোনা ভাইরাস) থেকে কি এমন ইতিবাচক কিছু ঘটতে চলেছে? প্রশ্ন হচ্ছে, ইতিবাচক কোন অর্থে? বৈষম্য কি দূর হবে? যুদ্ধ কি বন্ধ হবে? করপোরেট হাউসগুলোর একচেটিয়া মুনাফা করার প্রবণতা কি কমে যাবে? বিশ্বায়ন আমাদের এক নতুন পৃথিবীর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলÑ যেখানে সবকিছু ‘উন্মুক্ত’ হয়ে গিয়েছিল। এখন কি আমরা আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাব? নাকি ‘নতুন এক বিশ্বায়ন’ আমরা প্রত্যক্ষ করব? একটা পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে ওই পরিবর্তনের ধরন কী হবে, গরিব দেশগুলো এ থেকে কতটুকু উপকৃত হবে, নাকি ‘নয়া উপনিবেশবাদ’ আমরা প্রত্যক্ষ করব  এসবই এখন ধারণা মাত্র। ‘নতুন পৃথিবী’র চরিত্র আমরা কেউই জানি না এই মুহূর্তে। 
করোনা ভাইরাস এখন অনেক আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের রেশ ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করবে। আইএমএফের (IMF ) ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা গিওরগিয়েভা গত ২৭ মার্চ বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ইতোমধ্যেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছে। উঠতি অর্থনৈতিক শক্তির দেশগুলো বড় চাপে আছে। বাজার হারানো রপ্তানিতে শ্লথগতি, প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফিরে আসা ও নিজ দেশে কর্মের সংস্থান না করতে পারা ইত্যাদি কারণে এই দেশগুলো এক ধরনের চাপে আছে। আইএমএফ-প্রধানের মতে, উঠতি অর্থনৈতিক শক্তির দেশগুলোর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দরকার ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু কোত্থেকে আসবে এ টাকা? ভারতের মতো দেশ করোনার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের কাজে ব্যবহার হবে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিমাণ (২০১৯) ৮৮ হাজার বিলিয়ন ডলার। করোনা ভাইরাসের কারণে এই অর্থনীতিতে এখন শ্লথগতি আসবে। অর্থের পরিমাণ বছর শেষে কমে যাবে। ২০১৯ সালে বিশ্ব জিডিপির প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২০ সালে এই প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু এখন নিশ্চিত করেই বলা যায়, এ প্রবৃদ্ধি আরও ১ শতাংশ কমে যাবে। দুই. সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল বিশ্বের। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা এই দেশগুলোর পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যর্থতা, বেকার সমস্যা বেড়ে যাওয়া, রপ্তানি খাতে ধস উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বড় সংকটের মধ্যে ফেলে দেবে। বলা ভালো, বৈশ্বিক রপ্তানিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থান এখন অনেক শক্তিশালী। বৈশ্বিক রপ্তানিতে ২০০০ সালে যেখানে এই দেশগুলোর অবস্থান ছিল শতকরা ২৯ দশমিক ৭ ভাগ, ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ ভাগে আর ২০১৯ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই অবস্থান শতকরা ৪৪ ভাগ। এতে এখন ধস নামবে। উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন তাদের বাজার হারাবে। বাংলাদেশের কথা যদি বলি, তা হলে বলতেই হবেÑ বাংলাদেশের অর্থনীতি রয়েছে ঝুঁকির মুখে। এ কথা স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধানত উৎস দুটি . এক. রেমিট্যান্স ও দুই. গার্মেন্টস (তৈরি পোশাক)। ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২ হাজার ৭৬৯ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭-১৮ সালে এর পরিমাণ ১০ হাজার ৭৬১ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলার। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এই রেমিট্যান্স খাতে একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটা মন্দাভাব আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। নির্মাণশিল্পে শ্লথগতি আসবে। ফলে বেকার হয়ে পড়বেন শত শত কর্মী। তাদের একটি অংশ সরবরাহ করা হয় বাংলাদেশ থেকে। যেহেতু বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের রোগী পাওয়ার কথা বিশ্ব মিডিয়ায় ছাপা হয়েছে, সেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না। বাংলাদেশের অন্য একটি বৈদেশিক আয়ের উৎস তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ হচ্ছে আমাদের বড় বাজার। এ খাতে ২০১৯ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের আয় ছিল ৩০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে ছিল ৩২ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার। এখন এই সেক্টরে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আড়াইশ কোটি ডলারের ক্রয় আদেশ বাতিল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো এখন ক্রেতাশূন্য। একই কথা প্রযোজ্য ইউরোপের প্রতিটি দেশে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোর বড় বড় শহর এখন ‘লকডাউন’। যেখানে মানুষ জীবন-মৃত্যুর মাঝে বসবাস করছে, সেখানে তৈরি পোশাক কিনবেন কে? এ তো গেল বাংলাদেশের কথা। আফ্রিকায় রয়েছে খনিজসম্পদ, বিশেষ করে কপার ও জিংক। এর বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ। এই বাজার এখন নেই। কোনো অর্ডার মিলছে না। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম পড়ে গেছে। জানুয়ারিতে যে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার, তা এখন ১৫ ডলারে নেমে এসেছে (গত ২৭ এপ্রিল)। শতকরা আরও ২০ ভাগ দাম পড়ে যেতে পারে। ১০ ডলারে দাম চলে আসতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। ফলে এর একটি প্রতিক্রিয়া থাকবেই। করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক দেশ Failed State বা ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কেননা এই রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবে না। প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাবে না। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যে ধরনের প্রশিক্ষিত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী থাকা দরকার   তা তাদের নেই। ফলে রাষ্ট্র-প্রশাসনের ব্যর্থতা অনেক রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা কেন্দ্র করে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে, জন্ম হবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার। সম্প্রতি কসোভোয় সরকারের পতন ঘটেছে। এটি একটি দৃষ্টান্ত। আগামী দিনগুলোয় এ ধরনের ঘটনা অন্যত্র আমরা আরও প্রত্যক্ষ করব। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বায়ন যুগের অবসান হতে যাচ্ছে। বিশ্বায়নের কারণে বিশ্ব উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। এতে এখন অনেক বাধা-নিষেধ আসবে। বিশ্ব আর উন্মুক্ত থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশ বিদেশিদের তার দেশে প্রবেশ, বসবাস, চাকরি কিংবা চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এতে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে বিশ্বায়ন-পরবর্তী যুগে নয়া এক বিশ্ব ব্যবস্থা। চীনকেন্দ্রিক নতুন এক বিশ্বায়নের জন্ম হচ্ছে। এটি ক্রমাগত স্পষ্ট হচ্ছে। উহানে ডিসেম্বরে (২০১৯) করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলে চীন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলেই মনে হয়। কেননা ভাইরাসটি চীনের অন্য কোনো শহরে ছড়িয়ে পড়েনি। পরিসংখ্যান বলছে, উহান থেকে বেইজিংয়ের দূরত্ব ১ হাজার ১৫২ কিলোমিটার ও সাংহাইয়ের ৮৩৯ কিলোমিটার। অন্যদিকে নিউইয়র্কের দূরত্ব ১৫ হাজার, ইতালির ৮ হাজার ৬৯৫ এবং ইরানের ৫ হাজার ৬৬৭ কিলোমিটার। করোনা ভাইরাস বেইজিং কিংবা সাংহাইয়ে ছড়াল না, ছড়িয়ে পড়ল নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটে। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হলো করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে। নিউইয়র্ক পোস্ট আমাদের জানাচ্ছে, (গত ২৭ মার্চ) প্রতি ১৭ মিনিটে একজন করে মানুষ মারা যাচ্ছে নিউইয়র্কে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরাও সেখানে অনেক মারা গেছেন। কী দুর্ভাগ্যজনক সংবাদ  সেখানে কবরস্থানে জায়গা নেই। তাই বড় বড় ফ্রিজ রাখা হয়েছে হাসপাতালগুলোর সম্মুখে যেখানে মৃত্যুদেহগুলো ফ্রিজ করে রাখা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে মারা গেছে ৫৬ হাজার ৭৯৭ জন, আক্রান্ত ১০ লাখ ২০ হাজার ৩৫৬। চিন্তা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হলেও দেশটি স্বাস্থ্য খাতকে কখনো গুরুত্ব দেয়নি! সংবাদপত্রে একটি খবর বেরিয়েছে, গত জানুয়ারিতেই গোয়েন্দারা একটি রিপোর্ট দিয়েছিল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ রিপোর্টটি উপেক্ষা করেছিলেন। এই সময় যদি ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো, তা হলে এত মৃত্যু এড়ানো যেত। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করলেও নিজ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। আরও কিছু তথ্য দিই। ২০০১ সালের পর থেকে এযাবৎ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পেছনে খরচ করেছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে (৫০৫১৫০ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৭ ডলার, সূত্র : Information Clearing House, 28 March 2020 )। নিউজউইক ম্যাগাজিন গত ২৬ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এক বছরে পারমাণবিক কর্মসূচিতে যে অর্থ ব্যয় করে, তা দিয়ে ৩ লাখ আইসিইউ বেড তৈরি করা সম্ভব, ৩৫ হাজার ভেন্টিলেটর তৈরি করা যায় ও ৭৫ হাজার ডাক্তারের বেতন দেওয়া যায়। নিউজউইক International Campaign to Abolish Nuclear Weapon নামের একটি সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্যটি প্রকাশ করেছে। বলা ভালো, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটর খুবই প্রয়োজন। কিন্তু দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। এক নম্বর শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যেখানে আক্রান্ত দেশগুলোকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসা উচিত ছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ। যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোর কী দৈন্যদশা, তা তো সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত সংবাদ থেকেই বোঝা যায়। করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজন ভেন্টিলেটর, তা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। এমনকি মাস্ক কিংবা চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষা পোশাক (পিপিই), তাও পর্যাপ্ত নেই। কীভাবে এই খাত অবহেলিত ছিল কিংবা স্বাস্থ্য খাতে যারা বিনিয়োগ করে, তারা কী করে এই খাতে আদৌ কোনো বিনিয়োগ করেনি, তা এখন প্রমাণিত হয়েছে। 
একটা পরিবর্তন আসবেই। যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে পুঁজিবাদের আঁস্তাকুড়ে। এখানে ‘মুনাফা’র বিষয়টি প্রাধান্য পায় বেশি। সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি স্থান পায় না। তাই করোনা সংকট ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে, সন্দেহ নেই এতে। কিন্তু এ থেকে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা কী শিখবেন, এটিই বড় প্রশ্ন।
Amader Somoy
5.5.2020

সংবাদগুলো আমাদের আশাবাদী করে না

সামাজিক দূরত্ব, অসচেতনতা ও জননিরাপত্তা

করোনাভাইরাস কি আসলেই একটি জৈব অস্ত্র