বাংলাদেশে অবস্থানরত ১৮টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা গত ৩ মার্চ বেগম জিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেছেন। ওই প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত থাকলেও ভারতীয় হাইকমিশনার ছিলেন না। পরে তারা একটি বিবৃতিও দেন। তারা বলেছেন, গত ১ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরই এর ধারাবাহিকতায় তারা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন। এত ব্যাপকসংখ্যক মিশনপ্রধানের একসঙ্গে বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করা সঙ্গত কারণেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। প্রথমত, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে বিদেশি দাতাগোষ্ঠী যে উদ্বিগ্ন, এটা প্রমাণিত হলো। দ্বিতীয়ত, তারা বড় দুটি দলের মাঝে (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) যে আস্থার সম্পর্ক চান, তারা সাক্ষাৎকারের সময় এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তৃতীয়ত, বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার মধ্য দিয়ে তারা একটি ‘মেসেজ’ অন্তত দিতে চেয়েছেন যে, চলমান সংকটের অবসানে বেগম জিয়া একটি ফ্যাক্টর। চতুর্থত, তাদের বিবৃতি কিংবা বক্তব্যে সরাসরি তারা ‘সংলাপ’ বা ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচনের কথা বলেননি। যদিও এর আগে তারা এ ধরনের কথা বলেছেন।
এখন তাদের এই ‘উদ্যোগ’ কি আদৌ কোনো ফল বয়ে আনবে? তারা যে ‘আস্থার সম্পর্কের’ কথা বলছেন, তা কি প্রতিষ্ঠিত হবে? মন্ত্রীদের কথাবার্তায় এটি স্পষ্ট নয়। বরং প্রধানমন্ত্রীসহ সিনিয়র একাধিক মন্ত্রী সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। চলমান সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হচ্ছে। তাহলে কোন দিকে যাচ্ছে দেশ? আর কতদিন চলবে এই অবরোধ ও হরতালের রাজনীতি। সাধারণ মানুষ এখন জিম্মি। তাদের ভয় ও শঙ্কা নেই এটা বলা যাবে না। শঙ্কা আছে। ভয় আছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাসা থেকে বের হচ্ছে না। এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণেই এক সময় গুজব উঠেছিল যে, সরকার জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে! এটা সাংবিধানিকভাবেই বৈধ।
সংবিধানের ১৪১ক ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনাধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।’ তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর ও সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি ভাবনার সুযোগ নেই। কিন্তু দুটি বিষয় আমাদের ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। বিএনপিঘেঁষা শত নাগরিক কমিটি, বিশেষ করে এর আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ কিছুদিন আগে সরকার ও বিএনপির মধ্যে সংলাপের আয়োজন করতে জাতিসংঘের মহাসচিবকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের ঢাকাস্থ প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা রোডার হাতে তারা চিঠিটি তুলে দেন ৪ ফেব্রুয়ারি। অধ্যাপক আহমদ যথেষ্ট অভিজ্ঞ মানুষ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। এভাবে চিঠি লেখা যায় কি না কিংবা দেশের কোনো অভ্যন্তরীণ ঘটনায় হস্তক্ষেপ (!) করতে বিদেশি কোনো সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো যায় কি না, এটা নিয়ে তিনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক তিনি। গণতন্ত্র নিয়ে তার একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। আমি নিজে তার ছাত্র। সন্দেহ নেই, দেশ এক বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন আছে। সরকার যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, সেটাও ভালো কোনো সংবাদ নয়। তাই বলে আমি বিদেশি হস্তক্ষেপ চাইতে পারি না!
বাংলাদেশে অবস্থানরত ১৮টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা গত ৩ মার্চ বেগম জিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেছেন। ওই প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত থাকলেও ভারতীয় হাইকমিশনার ছিলেন না। পরে তারা একটি বিবৃতিও দেন। তারা বলেছেন, গত ১ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরই এর ধারাবাহিকতায় তারা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন। এত ব্যাপকসংখ্যক মিশনপ্রধানের একসঙ্গে বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করা সঙ্গত কারণেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। প্রথমত, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে বিদেশি দাতাগোষ্ঠী যে উদ্বিগ্ন, এটা প্রমাণিত হলো। দ্বিতীয়ত, তারা বড় দুটি দলের মাঝে (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) যে আস্থার সম্পর্ক চান, তারা সাক্ষাৎকারের সময় এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তৃতীয়ত, বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার মধ্য দিয়ে তারা একটি ‘মেসেজ’ অন্তত দিতে চেয়েছেন যে, চলমান সংকটের অবসানে বেগম জিয়া একটি ফ্যাক্টর। চতুর্থত, তাদের বিবৃতি কিংবা বক্তব্যে সরাসরি তারা ‘সংলাপ’ বা ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচনের কথা বলেননি। যদিও এর আগে তারা এ ধরনের কথা বলেছেন।
এখন তাদের এই ‘উদ্যোগ’ কি আদৌ কোনো ফল বয়ে আনবে? তারা যে ‘আস্থার সম্পর্কের’ কথা বলছেন, তা কি প্রতিষ্ঠিত হবে? মন্ত্রীদের কথাবার্তায় এটি স্পষ্ট নয়। বরং প্রধানমন্ত্রীসহ সিনিয়র একাধিক মন্ত্রী সংলাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। চলমান সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হচ্ছে। তাহলে কোন দিকে যাচ্ছে দেশ? আর কতদিন চলবে এই অবরোধ ও হরতালের রাজনীতি। সাধারণ মানুষ এখন জিম্মি। তাদের ভয় ও শঙ্কা নেই এটা বলা যাবে না। শঙ্কা আছে। ভয় আছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাসা থেকে বের হচ্ছে না। এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণেই এক সময় গুজব উঠেছিল যে, সরকার জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে! এটা সাংবিধানিকভাবেই বৈধ। সংবিধানের ১৪১ক ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনাধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।’ তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর ও সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি ভাবনার সুযোগ নেই। কিন্তু দুটি বিষয় আমাদের ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। বিএনপিঘেঁষা শত নাগরিক কমিটি, বিশেষ করে এর আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ কিছুদিন আগে সরকার ও বিএনপির মধ্যে সংলাপের আয়োজন করতে জাতিসংঘের মহাসচিবকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের ঢাকাস্থ প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা রোডার হাতে তারা চিঠিটি তুলে দেন ৪ ফেব্রুয়ারি। অধ্যাপক আহমদ যথেষ্ট অভিজ্ঞ মানুষ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। এভাবে চিঠি লেখা যায় কি না কিংবা দেশের কোনো অভ্যন্তরীণ ঘটনায় হস্তক্ষেপ (!) করতে বিদেশি কোনো সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো যায় কি না, এটা নিয়ে তিনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক তিনি। গণতন্ত্র নিয়ে তার একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। আমি নিজে তার ছাত্র। সন্দেহ নেই, দেশ এক বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন আছে। সরকার যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, সেটাও ভালো কোনো সংবাদ নয়। তাই বলে আমি বিদেশি হস্তক্ষেপ চাইতে পারি না! এটা আমাদের রাজনৈতিক দৈনতা। আমাদের সমস্যা আমাদেরই মোকাবেলা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি শুভবুদ্ধির উদয় হবেই। সুতরাং বান কি মুনকে চিঠি দেওয়া অর্থহীন। আরও একটি সংবাদেও আমি উদ্বিগ্ন। অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ একটি সংবাদ পরিবেশন করেছে গত ৫ ফেব্রুয়ারি। তাতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার জানুয়ারিতে নয়াদিল্লি সফরের সময় তিনি বাংলাদেশের বিষয়াবলি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাউন্সিলে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ফিল রাইনার ওয়াশিংটনে ৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যটি জানিয়েছেন (যায়যায়দিন ৫ ফেব্রুয়ারি)। এর পেছনে সত্যতা কতটুকু আছে আমরা জানতে পারব না। তবে নিঃসন্দেহে তা উদ্বেগ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট। কেননা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নানা ইস্যুতে আমাদের সংকট চলছে। এমনকি ‘সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’-এর যে কথা যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলে আসছে, তা থেকে যুক্তরাষ্ট্র এতটুকুও সরে আসেনি। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের প্রভাব অনেক বেশি। ভারত খুব সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশে একটি বন্ধুপ্রতিম সরকার চায়। অনেক পর্যবেক্ষকেরই ধারণা, ভারত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন একটি সরকারকেই দেখতে চায়। বাংলাদেশে বিএনপির ব্যাপারে ভারতের নীতিনির্ধারকদের তেমন আপত্তি না থাকলেও জামায়াতের ব্যাপারে তাদের আপত্তি রয়েছে। ফলে ২০-দলীয় জোটের ব্যাপারে ভারতের নীতিনির্ধারকদের অনেক হিসাব-নিকাশ আছে। ভারত তার জাতীয় স্বার্থে নীতি প্রণয়ন করে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের কোনো পার্থক্য নেই। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত বরাবরই একটি ফ্যাক্টর থাকবে।
একটা প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছেÑ আর তা হচ্ছে সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী? এটা সত্য সরকার সাংবিধানিকভাবেই ক্ষমতায় আছে। সংবিধান অনুযায়ীই একটা নির্বাচন হয়েছে গেল বছরের ৫ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে সব দল অংশ না নিলেও নির্বাচন ছিল সাংবিধানিকভাবে বৈধ। কিন্তু ওই নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারেনি। কেননা গণতন্ত্রে ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস’-এর যে কথা বলা হয়, তা রক্ষিত হয়নি। অর্থাৎ বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপিত হয়নি। বিএনপিসহ আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তখন অবশ্য বলা হয়েছিল, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’। আমরা সেটাই ধরে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সরকার এক বছরের মধ্যে আরেকটি নির্বাচনের কথা বলবে। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রায় সবাই বলছেন পরবর্তী নির্বাচন হবে ২০১৯ সালে। সংবিধান আমাদের এ কথাটাই বলেÑ ৫ বছর পরপর নির্বাচন। এটাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের আন্দোলন এখন একটি ‘নয়া নির্বাচন’কে কেন্দ্র করে। আর সংকটটা তৈরি হয়েছে সেখানেই। দুটি বড় দল, আওয়ামী লীগ তথা সরকার আর বিএনপি তথা ২০ দল আজ নো রিটার্নের পর্যায়ে চলে গেছে। কেউ কাউকে এতটুকু স্পেস দিতে চাচ্ছে না। সরকার তার অবস্থানে অনড়। আর বিএনপিও এতটুকু পিছুপা হচ্ছে না। যদিও এটা সত্য, মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের আদৌ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু হরতাল-অবরোধের আহ্বান আসছে। আর সংবাদপত্রের মাধ্যমেই মানুষ জানছে পরবর্তী সপ্তাহের হরতালের খবর। ফলে বিদেশি দাতাগোষ্ঠী যে উদ্বিগ্ন থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সর্বশেষ খবরে দেখলাম জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হাইকমিশনার জেইড রাড হুসেইন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপায় বের করার পরামর্শ দিয়েছেন। বেগম জিয়ার সঙ্গে বিদেশি দূতদের দেখা করা আর জেইড রাড হুসেইনের পরামর্শ মূলত একই সূত্রে গাঁথা। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলো চাচ্ছে একটা সমঝোতা।
এটা সত্যিই দুঃখজনক যে, আমরা আমাদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করতে পারছি না। এভাবে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে কতটুকু উন্নত করবে, এটা আমাদের রাজনীতিবিদরা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করবেন। গত ৮ মার্চ পর্যন্ত অবরোধের ৬২ দিন অতিক্রম করেছে। আর হরতালের ব্যাপ্তি বেড়েছে ৬ মার্চ পর্যন্ত। রোববার থেকে আবারও হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের দিকে তাকালে বোঝা যায়, হরতাল সেভাবে পালিত হচ্ছে না। কিন্তু হরতাল-অবরোধের মধ্যে গাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার সংখ্যা বাড়ছে। অবরোধ আর হরতালের যে পরিসংখ্যান সংবাদপত্রগুলো আমাদের দিচ্ছে, তাতে দেখা যায় অবরোধের ৫৭ দিন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১১৫ জন, এর মাঝে ‘আগুন বোমায়’ মারা গেছেন ৬৪ জন। ক্রসফায়ারে মারা গেছেন ৩১ জন। ৭৯১টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। আর ভাঙচুর হয়েছে ১০২৯টি। এই পরিসংখ্যান আমাদের কোনো আশার কথা বলে না। এর শেষ কোথায়, তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু প্রত্যাশা করতে পারি এই পরিস্থিতি আমাদের কাম্য নয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমজনতার নেই। সিদ্ধান্ত নেবে সরকার আর বিএনপি। এ জন্যই আস্থার সম্পর্কটা গড়ে তোলা জরুরি। এটা দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে। এই আস্থা রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
Daily Amader Somoy
09.03.15
Prof Dr Tareque Shamsur Rehman
In his Office at UGC Bangladesh
Prof Rahman With US Congressman Joseph Crowley
here you go!!!
Prof Dr Tareque Shamsur Rahman
During his stay in Germany
Prof Dr Tareque Shamsur Rahman
At Fatih University, Turkey during his recent visit.
Prof Dr Tareque Shamsur Rehman
In front of an Ethnic Mud House in Mexico
যে ছবি কথা বলে
17:20
No comments
একটি
ছবি ছাপা হয়েছে প্রতিটি সংবাদপত্রে ১ মার্চ। একটি বাচ্চার করুণ কাহিনী,
মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। নাম না জানা এ শিশুর কাহিনীর জন্ম অগ্নিদগ্ধ ও
ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া চালকের সহকারী মোঃ
শাকিলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ১৮ বছরের শাকিল এখন না ফেরার দেশে। আর
হাসপাতালে এসে এক মায়ের আহাজারির দৃশ্য ফোকাস বাংলার মাধ্যমে পৌঁছে গেছে
প্রতিটি মিডিয়ায়। শাকিলের মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে যে বালকটি, বোধকরি শাকিলের
ভাই সে। তার করুণ ছবি, ক্যামেরায় তোলা সেই ছবি যে কোনো বিবেকবান মানুষের
হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আশিয়ান ট্রান্সপোর্টের গাড়িতে
দুর্বৃত্তরা আগুন দেয় ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে, যখন শাকিল গাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল।
মাত্র ১৮ বছরের এক যুবক। যাকে নিয়ে সংবাদপত্র লিখবে না। হয়তো আমাদের
সংবাদকর্মীরা আর তার খোঁজও নেননি। খোঁজ নিলে দেখা যেত, এ শাকিলই ছিল ওই
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। একজন বাস সহকারী, কতই বা তার আয়?
হয়তো ওই আয়েই কোনো মতে সংসার চলত। হয়তো বাবা-মাকে সাহায্য করার জন্যই তার এ
পেশায় আসা। সে এখন চলে গেছে না ফেরার দেশে। যে ছোট্ট বাচ্চাটার ছবি ফোকাস
বাংলা তুলেছে, তার করুণ কাহিনী আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে 'রাজনীতির' নামে
গত প্রায় ৬০ দিনে এ ধরনের অনেক শাকিলের পরিবারকে অসহায় করে দিয়ে গেছে।
রাজনীতির নামে সহিংসতার শিকার হয়েছে সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ। যারা
আর্থিকভাবে বিত্তবান, তাদের ক্ষতি হয়েছে কম এবং যারা রাজনীতি করেন, ক্ষমতায়
আছেন বা আগামীতে ক্ষমতায় যেতে চান, তাদের ক'জন মারা গেছেন? তাদের ক'জনইবা
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? সংবাদপত্র আমাদের সাক্ষী। সংবাদপত্রগুলো খুঁজে দেখলে এ
শ্রেণীর একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
যখন শাকিলের খবর
পত্রপত্রিকায় পড়ছি, তখন তার একই সময় ছাপা হওয়া আরেকটি ছোট সংবাদে আটকে গেল
আমার চোখ। তবে পার্থক্য হলো অগ্নিদগ্ধ শাকিল মারা গেলেও ছোট্ট ফারজানা
বেঁচে আছে। ছোট্ট ফারজানার ওই ছবি ও সেইসঙ্গে একটি প্রশ্নও ছাপা হয়েছে একটি
জাতীয় দৈনিকে ২৬ জানুয়ারি। রামেকের বার্ন ইউনিটের বেডে বসে আছে ফারজানা। ৫
বছর বয়সী এ বাচ্চাটার পেট্রলবোমার আগুনে মুখের বাম পাশ পুড়ে গেছে। আঘাতে
বাম চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে গেছে। চোখের নিচ থেকে থুতনি পর্যন্ত দগদগে ঘা।
ফারজানার অভিযোগ, 'আমি কিছু করিনি, মানুষ আমাকে পুড়াইলো ক্যান?' ফারজানার এ
প্রশ্নের জবাব কে দেবে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সাংবিধানিকভাবে
এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত, তিনি দেবেন এ প্রশ্নের জবাব? খালেদা
জিয়া, যিনি সরকার পতনের ডাক দেয়ায় জন্ম হয়েছে এ সহিংস রাজনীতির, তিনি দেবেন
এ প্রশ্নের জবাব? সংবাদপত্রের ভাষায় 'দুর্বৃত্তরা'ই এ পেট্রলবোমা ছোড়ে।
তাদের নাম-ঠিকানা মাঝেমধ্যে ধরা পড়লে ছাপা হয় বটে, কিন্তু রাজশাহীর তানোরে
বাসে যে বা যারা পেট্রলবোমা ছুড়ে ফারজানাকে আহত করল, তারা গ্রেফতার হয়নি।
ধরা পড়লে ওদের কাছে জানতে চাইতাম কেন ওরা এ কাজটি করল?
এ
পেট্রলবোমার সংস্কৃতি যে আমাদের রাজনীতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, আমরা বোধকরি
কেউই এটা বুঝতে চাইছি না! বুঝতে না পারাটা অস্বাভাবিক। বুঝতে চাইছি না!
আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় সুষ্ঠুভাবে বলা আছে, 'সকল নাগরিকের জন্য
আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য,
স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।' কিন্তু মানুষ যখন দগ্ধ হয়, তখন তার
মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় বৈকি! সংবিধানে চলাফেরার স্বাধীনতা (৩৬ নং
অনুচ্ছেদ) নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু রাজনীতির নামে যারা বাসে পেট্রলবোমা
ছুড়ছে, তারা তো সংবিধানের ওই ধারাকে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে! এ থেকে
আমরা বের হয়ে আসব কীভাবে? কে দেবে আমাদের এ নিশ্চয়তা? রাজনীতির নামে বলি
হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ফারজানা কিংবা শাকিলের 'স্বপ্ন' নস্যাৎ করেছে এ 'নষ্ট
রাজনীতি'। এ নষ্ট রাজনীতি থেকে যদি আমরা বের হয়ে আসতে না পারি, তাহলে
আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আগামী প্রজন্মের শাকিলরা আমাদের ক্ষমা করবে না।
পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা কিংবা অসহিষ্ণুতা দেশ ও জাতির কোনো মঙ্গল
ডেকে আনতে পারবে না। বর্তমান যে সঙ্কট, সেই সঙ্কট রাজনীতিবিদদেরই কাটিয়ে
উঠতে হবে। কোনো 'তৃতীয় শক্তি' এর সমাধান করতে পারবে না। যারা বিদেশি
রাষ্ট্রদূতদের দিকে হাত বাড়ান, তারাও ভুল করছেন।
বাংলাদেশের
রাজনীতি একটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অবরোধ আর হরতালের মধ্য দিয়ে
প্রতিদিন আমরা পার করছি। আর প্রতিদিনই পেট্রলবোমা আক্রমণের শিকার হচ্ছে
সাধারণ মানুষ। বার্ন ইউনিটগুলোতে অগ্নিদগ্ধ মানুষের করুন কাহিনী প্রতিদিনই
ছাপা হচ্ছে সংবাদপত্রে। ছোট্ট শিশুরা অগ্নিদগ্ধ বাবাকে চিনতে পারছে না।
প্রশ্ন রাখছে- সে তো কোনো অন্যায় করেনি। তাহলে তাকে মানুষ পোড়াল কেন? এ
প্রশ্নের জবাব কারও কাছে নেই। সাধারণ মানুষ জানেও না এ পরিস্থিতির অবসান
হবে কীভাবে? বা কখন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে দেশ? এমনিতেই অবরোধের
মাঝে ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীতে খুব বেশি যানবাহন না এলেও, খোদ রাজধানীতে
কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে
অনিয়মিতভাবে ক্লাস হচ্ছে। ভয়ের মাঝেও মানুষ তার নিত্যদিনের কাজ করে নিচ্ছে।
কিন্তু তাদের মাঝে আছে অসন্তোষ আর রাজনীতিবিদদের প্রতি এক ধরনের বিদ্বেষ।
এ
পরিস্থিতিতেও দোষারোপের রাজনীতি আমরা লক্ষ্য করছি। সরকার দায়ী করছে
বিএনপিকে। সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরকে অভিযুক্ত
করছে। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। তাদের
দাবি, ৫ জানুয়ারি (২০১৪) নির্বাচন না হলে এ পরিস্থিতির জন্ম হতো না।
পরস্পর দোষারোপের মধ্য দিয়ে এক অসহিষ্ণু রাজনীতির জন্ম হয়েছে এ দেশে। এ বড়
দল দুটোর বাইরে শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদদের কেউই কোনো সমাধান বের করতে
পারছেন না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সরকারের 'বিশেষ দূত' এইচএম এরশাদ ৫
ঘণ্টা অনশন পর্যন্ত করেছেন ৩০ জানুয়ারি। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এখনও
অবস্থান ধর্মঘট করছেন। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এরই মধ্যে আরও
দুইটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। একটি, নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান
মান্না গ্রেফতার হয়েছেন। দ্বিতীয়টি, একজন বাংলাদেশী-আমেরিকান অভিজিৎ রায়
জঙ্গিদের হাতে খুন হয়েছেন। দুটো ঘটনাই চলমান রাজনীতির জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। যে অভিযোগে মান্না গ্রেফতার হয়েছেন, তাকে হালকাভাবে দেখার
কোনো সুযোগ নেই। সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ সংঘটিত করা (?) কিংবা ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই-একটি লাশ ফেলে দেয়া, শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং
শাস্তিযোগ্য অপরাধও। আমার ভাবতে অবাক লাগে, মান্নার মতো একজন রাজনীতিবিদ কী
করে এ কাজটি করলেন? অভিজিতের হত্যাকা-ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে,
তিনি একজন আমেরিকান নাগরিক। ফলে তদন্ত করতে এফবিআই বাংলাদেশে এসেছে এবং
কাজ শুরু করেছে। তাদের তদন্তে কী বেরিয়ে আসবে, আমরা জানি না। কিন্তু
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে একটা বাজে ধারণার জন্ম দেবে, তা বলার
আর অপেক্ষা রাখে না। এরই মধ্যে ১৬ জন রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার
কার্যালয়ে দেখা করেছেন। পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী প্রায় ২ ঘণ্টা কূটনীতিকরা
খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। কূটনীতিকরা সহিংসতা বন্ধ ও পারস্পরিক আস্থা
তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া কূটনীতিকদের জানিয়েছেন, সংলাপের
উদ্যোগ নিলে কর্মসূচি তিনি প্রত্যাহার করে নেবেন। তবে সংলাপের ব্যাপারে
সরকার রাজি, তা তারা স্পষ্ট করেননি। এমনকি সিনিয়র মন্ত্রীরা জানিয়েছেন,
কোনো সংলাপ হবে না। এরই মধ্যে ৪ মার্চ কোর্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে
জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রেখেছেন।
এটা সত্যিই দুঃখজনক যে,
আমরা আমাদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করতে পারছি না। এভাবে বিদেশিদের
হস্তক্ষেপ আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে কতটুকু উন্নত করবে, এটা আমাদের
রাজনীতিবিদরা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করবেন। ৩ মার্চ পর্যন্ত অবরোধের ৫৭ দিন
অতিক্রম করেছে। আর হরতালের ব্যাপ্তি বেড়েছে ৬ মার্চ পর্যন্ত। ধারণা করছি,
আবারও হরতালের ডাক দেয়া হবে। ঢাকা শহরের দিকে তাকালে বোঝা যায়, হরতাল
সেভাবে পালিত হচ্ছে না। কিন্তু হরতাল-অবরোধের মধ্যে গাড়িতে পেট্রলবোমা
হামলার সংখ্যা বাড়ছে। অবরোধ আর হরতালের যে পরিসংখ্যান সংবাদপত্রগুলো আমাদের
দিচ্ছে, তাতে দেখা যায়, অবরোধের ৫৭ দিন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১১৫ জন, এর
মাঝে আগুন-বোমায় মারা গেছেন ৬৪ জন। ক্রসফায়ারে মারা গেছেন ৩১ জন। ৭৯১টি
গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। আর ভাংচুর হয়েছে ১ হাজার ২৯টি। এ পরিসংখ্যান
আমাদের কোনো আশার কথা বলে না। এর শেষ কোথায়, তাও আমরা জানি না।
ভয়টা
হচ্ছে অবরোধ আর হরতালের মধ্য দিয়ে যে সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে, এ সংস্কৃতি
থেকে আমরা আদৌ বের হয়ে আসতে পারব কিনা? ১ মার্চ সংবাদপত্রে যে ছবিটি ছাপা
হয়েছে, ওই বাচ্চার করুণ চাহনী আমাকে এ কথাটাই স্মরণ করিয়ে দিল। এ ছবি আমরা
আর দেখাতে চাই না। এ সংবাদ সংবাদপত্রেও আর দেখতে চাই না। রাজনীতির সনাতন যে
চিত্র, সেটাই আমরা দেখাতে চাই। রাজনীতিবিদদের মাঝে প্রতিযোগিতা থাকবে,
দ্বন্দ্ব থাকবে, ক্ষমতায় যাওয়ার প্রবণতা থাকবে। কিন্তু 'পেট্রলবোমা'র
রাজনীতি কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ধারার কথা বলে না। আমাদের সবার মাঝে
শুভবুদ্ধির উদয় হোক, এটাই শুধু কামনা করতে পারি আমরা। শাকিলের মৃত্যু, আর
ফারজানাদের 'অসহায়ত্ব' এর ছবি দেখেও আমরা যদি কিছু না 'শিখি' সেটা হবে বড়
দুঃখের এবং কষ্টের।
Daily ALOKITO BANGLADESH
08.03.15
জয়শঙ্করের ঢাকা সফর
17:43
No comments
ভারতের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রসচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের ঢাকা সফর শেষ
হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। 'সার্কযাত্রা'র অংশ হিসেবে তাঁর এই ঢাকা সফর।
ভুটানের রাজধানী থিম্পু থেকে জয়শঙ্কর তাঁর 'সার্কযাত্রা' শুরু করেন। ঢাকা
হয়ে তিনি গেছেন ইসলামাবাদে। তারপর কাবুল। নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণ করার
পর তাঁর পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার অংশ হিসেবেই
জয়শঙ্করকে তিনি ঢাকা পাঠিয়েছিলেন। জয়শঙ্করের ২৪ ঘণ্টার ঢাকা সফরে তিনি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি ঢাকা আসার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। একই
সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নয়াদিল্লি সফরেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে এটা
ঠিক, নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর চূড়ান্ত হয়নি এখনো। তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
তবে ২৬ মার্চ তাঁর ঢাকা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করছি, আগামী ৯ মার্চ
নয়াদিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর মোদি তাঁর ঢাকা
সফর চূড়ান্ত করতে পারেন। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে মমতা কোনো 'মেসেজ' দেবেন,
এটাই সবাই ধারণা করছেন। হয়তো মোদির ঢাকা সফরের সময় তিস্তা চুক্তির
ব্যাপারে একটা সুখবর তিনি দিতে পারেন। এ জন্যই মোদি-মমতা বৈঠকটি বেশ
গুরুত্বপূর্ণ। জয়শঙ্করের ঢাকা সফরের সময় তিস্তাসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনা
হয়েছে। তবে কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। তিনি কূটনৈতিক ভাষা প্রয়োগ করে বিভিন্ন
প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশের ব্যাপারে মোদি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তার কিছুটা আভাস আমরা
পেয়েছিলাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের সময়। তাঁকে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে তাঁর সফরের গুরুত্ব আমরা
বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। জাপান সবচেয়ে বড় ঋণদাতা দেশ হলেও জাপানি
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এই সংবর্ধনা পাননি। তার পরও সুষমা স্বরাজের
ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলোর ব্যাপারে কোনো
ইতিবাচক মনোভাব আমরা লক্ষ করিনি। তিস্তার পানি বণ্টনের ব্যাপারে যে সমস্যা
ছিল, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরের পরও রয়ে গেছে। কৌশলী মমতা
'আস্থা' রাখার কথা বলে গেলেও এটা বলতে ভোলেননি যে 'দুই দেশের স্বার্থ
বিবেচনা করে পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান' হবে। এ ক্ষেত্রে মেসেজটা স্পষ্ট-
পশ্চিম বাংলার স্বার্থ উপেক্ষা করে কেন্দ্র এককভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো
চুক্তি করতে পারবে না। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন। সুতরাং
কৌশলী মমতা 'তিস্তা কার্ড'টি কখনোই বিজেপির হাতে তুলে দেবেন না। তবে
স্থলসীমানা চুক্তিটি ভারতীয় লোকসভায় চলতি বাজেট অধিবেশনেই পাস হবে। কেননা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আপত্তি তুলে নিয়েছেন। আসাম বিজেপির আপত্তিও নেই।
ফলে এই একটি ক্ষেত্রে আমরা সমাধানটা পেয়ে যাচ্ছি। নরেন্দ্র মোদি আন্তনদী
সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা বলেছেন। বাংলাদেশের জন্য এটা নিঃসন্দেহে
একটি চিন্তার কারণ। তিস্তায় যেমন পানি নেই, তেমনি চুক্তি করার পরও পদ্মায়
পানি হ্রাস পেয়েছে। এখন ভারত যদি শেষ পর্যন্ত ভারতীয় পরিবেশবাদীদের
বিরোধিতা করে আন্তনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের
নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে যাবে।
ভারত গেল ছয় বছর বাংলাদেশের কাছ থেকে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ সে অর্থে তেমন সুবিধা পায়নি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করিডর পেতে যাচ্ছে ভারত। অরুণাচল
থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ যাবে বিহারে। চলতি বছরই বহুল
বিতর্কিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে ভারত। প্রতিটি ক্ষেত্রে
ভারতের স্বার্থ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ
সমস্যা সমাধানের যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তা থেকে
যাচ্ছে উপেক্ষিত। ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল ভারত। ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব
মুখার্জি ঢাকায় এসে ২০ কোটি ডলারের অনুদান দিয়েছিলেন। প্রায় ১৪টি প্রকল্পে
এই অর্থ ব্যয় করার কথা। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। ভারতের
সঙ্গে আমাদের রয়েছে বিশাল এক বাণিজ্য ঘাটতি। ২০০৯-১০ সালে ঘাটতির পরিমাণ
ছিল ২.৯০ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১০-১১ সালে তা এসে দাঁড়ায় ৩.৫০ বিলিয়ন ডলারে।
সর্বশেষ তথ্য নিলে দেখা যাবে, ঘাটতির পরিমাণ চার বিলিয়ন ডলারকেও (অর্থাৎ
৪০০০ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে। এই বাণিজ্য ঘাটতি এখন ভারত ব্যবহার করছে তার
স্বার্থে। অথচ ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের বিশাল চাহিদা রয়েছে। কিন্তু শুল্ক ও
অশুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশি পণ্য ভারতে বাজার পাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে
ভারতের পক্ষ থেকে কিছু পণ্যের শুল্ক ছাড়ের কথা বলা হয় বটে, কিন্তু অনেক
ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বাংলাদেশ ওসব পণ্য উৎপাদন করে না। ভারত আমাদের জমি
ব্যবহার করছে তথাকথিত 'কানেকটিভিটি'র নামে। কিন্তু কোনো 'ফি' প্রদান করছে
না। উপরন্তু নেপাল ও ভুটান এ সুবিধা পাচ্ছে না। ভারত এখন অব্দি এ দুটো
দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়নি।
নরেন্দ্র মোদি তাঁর পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তবে দুটো দেশে, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায়, ভারতের 'একটি' ভূমিকা এই অঞ্চলে
ভারতের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উভয় দেশেই ভারতের ভূমিকা চীনের
স্বার্থকে আঘাত করেছে। শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিরিসেনার বিজয়ের
পেছনে ভারত একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল বলে সংবাদপত্রে খবর হয়েছে। সিরিসেনা
চীনের প্রভাব থেকে শ্রীলঙ্কাকে বের করে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। সাবেক
প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে ছিলেন অতিমাত্রায় চীননির্ভর। প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে
সিরিসেনার নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করেছে। নরেন্দ্র
মোদি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভুটানে গিয়েছিলেন। অতীতে ভারতের কোনো
সরকারপ্রধানই ভুটানকে তেমন একটা গুরুত্ব দেননি। ভুটান-ভারত বাণিজ্যিক
সম্পর্কও তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। তবে ভুটানের একটা স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব
রয়েছে। আর এটা বিবেচনায় নিয়েই মোদি ভুটানে গিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ভুটান
সফরের পর যেসব সিদ্ধান্তের কথা জানা গিয়েছিল, তার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
যেমন- ভুটানে মোদির সফরের পরপরই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোগবে এক
বিবৃতিতে বলেছিলেন, ভুটানে দূতাবাস খুলতে চীনকে অনুমতি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ভুটানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সম্প্রতি খুব
তোড়জোড় শুরু করেছে চীন। চীনের এই উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন ভারত।
শুধু তা-ই নয়, সফর শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, 'জাতীয় স্বার্থে দুই দেশ
(ভারত ও ভুটান) একে অপরকে সাহায্য করবে।' মোদির ভুটান সফর ও যৌথ বিবৃতি
প্রকাশিত হওয়ার পর এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ভুটান ও ভারতের নিরাপত্তাজনিত
উদ্বেগ একই। ভারতের সীমান্তে চীনের 'আগ্রাসন' আর ভুটানের উত্তরেও চীনের
'আগ্রাসন' একই রকমের উদ্বেগের কারণ। চীনের সম্ভাব্য 'আগ্রাসন' রোধে ভারত ও
ভুটান একে অপরকে সাহায্য করবে বলেও যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। শুধু
তা-ই নয়, ভারতের জি নিউজ আমাদের জানাচ্ছে যে ভারত চীন সীমান্তে দ্বিগুণ
সেনা মোতায়েন করছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চীন
শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং চীনা হামলা বাড়ছে। বলা ভালো, ভারত-চীন সীমান্তে
ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের ৪০টি ঘাঁটি রয়েছে। মোতায়েন রয়েছে ১৫ হাজার
সেনা। এখন দ্বিগুণ সেনা মোতায়েনের বিষয়টি ও ভুটানে চীনা দূতাবাস না খোলার
সিদ্ধান্ত ভারত-চীন সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ বলা হয়েছিল, মোদির
জমানায় চীন-ভারত সম্পর্কে উন্নতি হবে। এমনকি মোদির শপথ নেওয়ার পরপরই চীনা
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর এই আভাসই দিয়েছিল যে এই দুই দেশের মধ্যে
সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে। এখন মনে হচ্ছে চীনের ব্যাপারে মোদির মনোভাবে
পরিবর্তন এসেছে। চীনকে ভারত এখন এ অঞ্চলে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে
মনে করছে। এ অঞ্চলের উন্নয়নে চীন নাক গলাক, তা ভারত কোনোভাবেই চাইবে না।
আমরা মোদির শাসনামলে 'ইন্ডিয়া ডকট্রিনের' নতুন এক রূপ দেখতে পাব। মোদির
ভুটান সফরের সময় চীন প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে আলোচিত হলেও বাংলাদেশে সুষমা
স্বরাজের সফরের সময় এ প্রসঙ্গটি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে একটা খবর এসেছে যে
চীনা অর্থায়নে সোনাদিয়ায় যে গভীর সমুদ্রবন্দরটি নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল, তা
ভারত তার নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। ভারত মনে করে, এটি নির্মিত হলে
এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়বে। একই সঙ্গে চীনা পণ্যে এ অঞ্চল সয়লাব হয়ে
যাবে এবং প্রতিযোগিতায় ভারতীয় পণ্য মার খাবে। এখন গভীর সমুদ্রবন্দরটি
নির্মিত হচ্ছে পায়রাবন্দরে। ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বিসিআইএম
(বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার)-এর ভবিষ্যৎ একটা প্রশ্নের মুখে থাকল।
ভারতের নয়া পররাষ্ট্রসচিব ঢাকা ঘুরে গেলেন। বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছে
বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের ফলও জেনেছেন
জয়শঙ্কর। এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের ব্যাপারেও আলোচনা
করেছেন তিনি। ভারত বড় অর্থনীতির দেশ। ভারত আমাদের উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে
পারে। আমরা সেটা চাইও। কিন্তু ভারতের আমলাতন্ত্র যদি বাংলাদেশকে সমমর্যাদার
দৃষ্টিতে না দেখে, তাহলে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি তা
থেকে বের হয়ে আসা যাবে না। আমরা চাইব, ভারতের মোদি সরকার বাংলাদেশের
সমস্যাগুলোর ব্যাপারে আন্তরিক হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেবে। জয়শঙ্করের
ঢাকা সফরের পর এই সমস্যাগুলো বোঝার একটা ক্ষেত্র এখন তৈরি হয়েছে।
Daily Kaler Kontho
04.03.15
ভারত-চীন সম্পর্ক ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি
17:34
No comments
গেল সেপ্টেম্বরে চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফর এবং আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক তাকে অভ্যর্থনা প্রদানের ঘটনা পঞ্চাশের দশকের দু’দেশের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিলেও অতি সম্প্রতি অরুনাচল প্রদেশ নিয়ে দু’দেশের আস্থার সম্পর্কে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত ২০ ফেব্র“য়ারি প্রধানমন্ত্রী মোদি অরুনাচল সফর করেন। সেখানে তিনি রেলপথ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এর প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির অরুনাচল সফরকে সমালোচনা করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা সরকার কখনোই অরুনাচল প্রদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বেইজিংয়ের মতে চীনের অন্তর্গত তিব্বতের মনিয়ুল, লোয়ুল ও নিু সায়ুল এলাকা নিয়ে ‘তথাকথিত অরুনাচল’ প্রদেশ গড়েছে নয়াদিল্লি। ওই এলাকাগুলো এখনও ভারতের ‘অবৈধ দখলদারির’ কবলে রয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ অভিমত সঙ্গত কারণেই দু’দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।
অনেকেই স্মরণ করতে পারেন, কিছুদিন আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিসিদা ভারতে এসেছিলেন। সেখানে তিনি অরুনাচল প্রদেশ যে ভারতের সে ব্যাপারে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিসিদার ওই বক্তব্যে চীন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। চীন মনে করে, ভারত জাপানকে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। আগামী মে মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদি চীন সফরে যাবেন। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব ও কর্তৃত্ব বাড়ছে। মোদি তার পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়াকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি প্রথম সফরে ভুটান গিয়েছিলেন। ওই সময় সেখানে চীনবিরোধী বক্তব্যও তিনি দিয়েছিলেন। চীন এখন পর্যন্ত ভুটানে তার দূতাবাস খোলার অনুমতি পায়নি শুধু ভারতের আপত্তির কারণে। নয়া পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর তার দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে ভুটান হয়ে ২ মার্চ ঢাকায় এসেছেন। এরপর যাবেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে।
ইতিমধ্যে ওবামার ভারত সফর (২৫ জানুয়ারি ২০১৫) এ অঞ্চলে নতুন এক মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এ মেরুকরণ কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তথা ভারত মহাসাগর আগামী দিনে প্রত্যক্ষ করবে এক ধরনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা। এ দুটি অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ‘সামরিক তৎপরতা’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে একটি সামরিক ঐক্য গঠিত হয়েছে। উদ্দেশ্য চীনের ওপর ‘চাপ’ প্রয়োগ করা। অন্যদিকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীন তার নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মালাক্কা প্রণালী হয়ে ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে অ্যারাবিয়ান গালফ পর্যন্ত যে সমুদ্রপথ, তার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় চীন। কারণ এটি তার জ্বালানি সরবরাহের পথ। চীনের জ্বালানি চাহিদা প্রচুর। এদিকে ভারতও ভারত মহাসাগরে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ভারতের নৌবাহিনীর ‘নিউ ইস্টার্ন ফ্লিটে’ যুক্ত হয়েছে বিমানবাহী জাহাজ। রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। আন্দামান ও নিকোবরে রয়েছে তাদের ঘাঁটি। ফলে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চীন ও ভারতের মধ্যে রয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়ার কর্তৃত্ব নিয়ে চীন ও ভারতের অবস্থান এখন অনেকটা পরস্পরবিরোধী। যেখানে চীনা নেতৃত্ব একটি নয়া ‘মেরিটাইম সিল্ক রুটের’ কথা বলছে, সেখানে মোদি সরকার বলছে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক করিডোরের’ কথা। স্বার্থ মূলত এক ও অভিন্ন- এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আর এ কর্তৃত্ব
প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এশিয়ার এ দুটি বড় দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এটাকেই কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
একসময় মার্কিন গবেষকরা একটি সম্ভাব্য চীন-ভারত অ্যালায়েন্সের কথা বলেছিলেন। জনাথন হোলসলাগ ‘ফরেন পলিসি’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে ঈযরহফরধ-র (অর্থাৎ চীন-ভারত) ধারণা দিয়েছিলেন। নয়া চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের (২০১৪) পর ধারণা করা হচ্ছিল, দেশ দুটি আরও কাছাকাছি আসবে। কিন্তু শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা, ওবামার ভারত সফর এবং চীনা প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে এ সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। নতুন আঙ্গিকে ‘ইন্ডিয়া ডকট্রিনের’ ধারণা আবার ফিরে এসেছে। এ ডকট্রিন মনরো ডকট্রিনের দক্ষিণ এশীয় সংস্করণ। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ায় অন্য কারও কর্তৃত্ব ভারত স্বীকার করে নেবে না। একসময় এ এলাকা, অর্থাৎ ভারত মহাসাগরীয় এলাকা ঘিরে ‘প্রিমাকভ ডকট্রিনের’ (২০০৭ সালে রচিত। শ্রীলংকা, চীন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ঐক্য) যে ধারণা ছিল, শ্রীলংকায় সিরিসেনার বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধারণা এখন আর কাজ করবে না। ফলে বাংলাদেশ তার পূর্বমুখী ধারণাকে আরও শক্তিশালী করতে বিসিআইএমে’র (বাংলাদেশ, চীনের ইউনান রাজ্য, ভারতের সাত বোন, মিয়ানমার) প্রতি যে আগ্রহ
দেখিয়েছিল, তাতে এখন শ্লথগতি আসতে পারে। সামরিক ও অর্থনেতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত এখন আর বিসিআইএম ধারণাকে প্রমোট করবে না। আর বাংলাদেশের একার পক্ষে চীন ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে বিসিএম ধারণাকে এগিয়ে নেয়াও সম্ভব হবে না।
তবে এটা স্বীকার করতেই হবে, ওবামার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে ভারত নানাভাবে লাভবান হয়েছে। ‘পাক্বা গুজরাতি’ নরেন্দ্র মোদি জাতিগতভাবেই ব্যবসা বোঝেন। ১২১ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত। জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ ভাগ মানুষ অতিদরিদ্র, অর্ধেক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নেই, ৩১ ভাগ মানুষের দৈনিক আয় ১ দশমিক ২৫ সেন্টের নিচে (যা জাতিসংঘ নির্ধারিত অতি দরিদ্রের মানদণ্ড)। ভারতে প্রতি তিনজনের একজন দরিদ্র। প্রতিদিন মারা যায় ৫ হাজার শিশু। আর কন্যা শিশুর ভ্রুণ হত্যা করার কাহিনী তো অনেক পুরনো। সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছিল, ভারতে ১ লাখ ৮৩ হাজার কৃষক ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে গত ১০ বছরে আÍহত্যা করেছে। এখানে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন মোদি। তার পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো। আর বিনিয়োগ বাড়াতেই তিনি চীনা ও মার্কিন বিনিয়োগকারীদের দিকে হাত বাড়িয়েছেন। স্বভাবতই ভারতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। দারিদ্র্য কমবে। যদি বৈষম্য কমিয়ে আনা যায়, তাহলে ভারত আরও এগিয়ে যাবে। মোদির স্বার্থ এখানেই।
তবে একটা ভয়ের কারণ আছে- চিরবৈরী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা। ওবামার ভারত সফরের পরপরই ভারত পারমাণবিক বোমা বহনযোগ্য মিসাইল অগ্নি-৫ উৎক্ষেপণ করে। এ অগ্নি-৫-এর ব্যাপ্তি সুদূর চীন পর্যন্ত। ভারত এখন আর পাকিস্তানকে বিবেচনায় নিচ্ছে না। ভারতের টার্গেট চীন। অর্থাৎ চীনের কর্তৃত্ব কমানো। অগ্নি-৫ নিক্ষেপের পরদিনই পাকিস্তান তার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘রাদ’ বা ‘ব্রজে’র পরীক্ষা চালায়। এর আগে পাকিস্তান পারমাণবিক বোমা বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। ফলে দেশ দুটি আবারও এক ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় নিয়োজিত হয়। মোদির পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানের গুরুত্ব কম। যদিও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের উপস্থিতি দেখে মনে হয়েছিল দু’দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মোদির পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। ইতিমধ্যে তিনি ভুটান ও নেপাল সফর করেছেন। এ মার্চেই তিনি যাবেন শ্রীলংকায়। সেখানে তিনি জাফনাতেও যাবেন। মার্চে বাংলাদেশে আসতে পারেন। চীনকে গুরুত্ব দেয়ার পেছনে কাজ করছে তার
বাণিজ্যিক নীতি। তিনি চান বিনিয়োগ। তবে চূড়ান্ত বিচারে চীনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এ মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছে না। তবে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমানোই হবে মোদি সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার।
মোদির পররাষ্ট্রনীতি পর্যালোচনা করে বলা যায়, মোদি একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছেন। একদিকে চীন, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি রাশিয়ার সঙ্গেও সমমর্যাদাভিত্তিক সম্পর্ক রক্ষা করে মোদি তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছেন। রাশিয়া থেকে তিনি অস্ত্র কিনছেন। ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি রাশিয়ার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন (এ প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানও অনেকটা ভারতের মতো)। রাশিয়া ও চীনকে সঙ্গে নিয়ে ভারত ব্রিকস ব্যাংক গড়ে তুলছে, যা হবে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প আরেকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক। বাংলাদেশও এ ব্যাংকের ব্যাপারে আগ্রহী। সুষমা স্বরাজের বেইজিং সফরের সময় সেখানে ত্রিদেশীয় একটি ‘মিনি সামিট’ হয়েছে। চীন, রাশিয়া ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সেখানে মিলিত হয়েছেন। ফলে বোঝাই যায়, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক ও পারমাণবিক সম্পর্ক গড়ে তুললেও চীন ও রাশিয়াকেও কাছে রাখতে চায়। আগামী দিনগুলোয় স্পষ্ট হবে এ সম্পর্ক কোন পর্যায়ে উন্নীত হয়।
একুশ শতক হবে এশিয়ার। তিনটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি- চীন, জাপান ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক একুশ শতকের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করবে। সঙ্গত কারণেই বিশ্বের বৃহৎ শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ থাকবে এ অঞ্চলের ব্যাপারে। যদিও জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। জাপানের নিরাপত্তার গ্যারান্টারও যুক্তরাষ্ট্র। জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও। ফলে এ অঞ্চলে চীনের সঙ্গে যে বিবাদ (জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে), তাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি পক্ষ নিয়েছে। এদিকে চীনের নয়া প্রেসিডেন্ট শি জেন পিং যে নতুন সিল্ক রুটের কথা বলছেন, তা অন্য চোখে দেখছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এতে করে বিশাল এক এলাকাজুড়ে চীনা কর্তৃত্ব, প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইতিহাসের ছাত্ররা অনেকেই জানেন, ২১০০ বছর আগে চীনের হ্যান রাজবংশ এই ‘সিল্ক রোড’ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ রোডের মাধ্যমে চীনের পণ্য (সিল্ক) সুদূর পারস্য অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যেত। এর মধ্য দিয়ে আজকের যে মধ্যপ্রাচ্য সেখানেও চীনের প্রভাব বেড়েছিল। চীনের নয়া প্রেসিডেন্ট এর নামকরণ করেছেন ‘নিউ সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট’। এটা চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত। একই সঙ্গে একটি ‘মেরিটাইম সিল্ক রুটের’ কথাও আমরা জানি, যা কি-না চীনের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর একটা যোগসূত্র ঘটিয়েছিল। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ মেরিটাইম সিল্ক রুটের ধারণাও কয়েকশ’ বছর আগের। এ মেরিটাইম সিল্ক রুট ধরে চীনা অ্যাডমিরাল ঝেং হে (মা হে) ১৪০৫ থেকে ১৪৩৩ সাল- এই ২৮ বছর প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভারত মহসাগরে চীনা পণ্য নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ১৪২১-১৪৩১ সালে তিনি দু’বার বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে এসেছিলেন। চীন এ নৌরুটটি নতুন করে আবার ব্যবহার করতে চায়।
তবে কয়েকশ’ বছরের ব্যবধানে এ অঞ্চল অনেক বদলে গেছে। চীন আর একক শক্তি নয়। ভারত তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। আর যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সঙ্গে নিয়েই তার নিজের স্বার্থ আদায় করতে চায়। ফলে এটা স্পষ্ট নয় ভারত-চীন সম্পর্ক আগামীতে কোন পর্যায়ে গিয়ে উন্নীত হবে। কারণ ভারত মহাসাগরে চীন ও ভারতের যথেষ্ট স্বার্থ রয়েছে। এ স্বার্থ যদি পরস্পরবিরোধী হয়, তাহলে সংঘর্ষ অনিবার্য। মে মাসে মোদির চীন সফরের আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান কৈলাসের যাত্রা সহজ করতে চায় ভারত। চীন এ ব্যাপারে নমনীয় হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এখন কৈলাসে যেতে হয় উত্তরাঞ্চলের কাঠগোদাম থেকে হেঁটে। এটা কষ্টদায়ক ও পথটি দুর্গম। পথটিও দীর্ঘ। অথচ কৈলাসে গাড়িতে করে যাওয়া সম্ভব। গ্যাংটকের পাশেই নাথুলা। রাস্তাও ভালো চীনের দিকে। চীন অনুমতি দিলে গাড়িতে করেই তীর্থযাত্রীরা কৈলাসে যেতে পারবেন। মোদি নিজেও এ পথে কৈলাস যেতে চান। সুতরাং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনা প্রভাব কমাতে মোদির উদ্যোগ এবং চীনের ব্যাপারে মোদির ব্যক্তিগত আগ্রহ- এ দু’য়ের মধ্য দিয়ে আস্থার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হয়, সেটাই দেখার বিষয়।
Daily JUGANTOR
০৩ মার্চ, ২০১৫
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে
18:50
No comments
একটা ছবি : প্রশ্ন অনেক
18:31
No comments
একটি ছবি ছাপা হয়েছে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ২২ ফেব্রুয়ারি। ১১ পাতায় যে ছবিটি ছাপা হয়েছে, তা অনেক কথা বলে। আর এ ছবিটি ছাপা হয়েছে এমন একটি সময় যখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তার ঠিক একদিন আগে ঢাকা সফর শেষ করে কলকাতায় ফিরে গেছেন। প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষভাবে এই ছবিটির সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির ঢাকা সফরের একটা যোগসূত্র আছে। ছবিটি পানিশূন্য তিস্তা নদীর। কাউনিয়া (রংপুর) থেকে যায়যায়দিনের প্রতিবেদক আমাদের জানাচ্ছেন তিস্তা মরা খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও তিন-চার ইঞ্চি পানি রয়েছে। আর এ ছবির সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির যোগসূত্রতা এ কারণেই যে শুধু তার একগুঁয়েমির কারণেই তিস্তা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর যখন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন তিস্তা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মমতার আপত্তি ও ঢাকায় ওই সময় না আসার কারণে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আর স্বাক্ষরিত হয়নি। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে মমমতা ব্যানার্জির ঢাকা সফরের সময়ও চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আমরা আশার কথা তেমন একটা শুনিনি। শুধু বলা হয়েছে 'আস্থা' রাখার জন্য। প্রশ্ন হচ্ছে_ এই আস্থাটা আমরা আর কতদিন ধরে রাখব? যেখানে বৃহত্তর রংপুর জেলার ২৫টি উপজেলার ৬৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল সেচের অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে, যেখানে ফসল উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, সেখানে আমরা আর কতদিন তিস্তা চুক্তির জন্য অপেক্ষা করব। ২০১১ সালেই দুই দেশ (ভারত ও বাংলাদেশ) নীতিগতভাবে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে রাজি হয়েছিল, সেখানে শুধু মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণেই কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। তখন তিস্তা যখন পানি 'শূন্য', যখন তিস্তাবাসীর হাহাকারের ছবি পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনেকেই স্মরণ করতে পারেন গেল বছর মোদি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর পরই তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে জুলাই মাসে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। নিঃসন্দেহে তখন তিনি বাংলাদেশের সমস্যাগুলো জেনে গেছেন। কিন্তু তিনিও কোনো উদ্যোগ নেননি সমস্যা সমাধানের। তবে তার এই সফরে বেশ কটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বলাই বাহুল্য বিভিন্ন ইস্যুর ক্ষেত্রে ভারতীয় যে নীতিগত সিদ্ধান্ত তাতে বাংলাদেশের স্বার্থ খুব বেশি রক্ষিত হয়নি। বাস্তবতা হচ্ছে_ তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে কোনো 'কমিটমেন্ট' ছিল না। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে অ্যারাইভাল ভিসা প্যাকেজ ঘোষিত হয়নি। অশুল্ক বাণিজ্য বাধা অপসারণের কিছু হয়নি। ভারতে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল প্রচারে কোনো উদ্যোগের কথাও বলে যাননি সুষমা। এগুলো সবই বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল। তবে ওই সময় খালেদা-সুষমা বৈঠকের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয়েছিল মোদি সরকার খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে একটি ফ্যাক্টর বলে মনে করেন। এমনকি খালেদা জিয়া স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করার মধ্যদিয়ে ভারত যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি 'ফ্যাক্টর' তা বিএনপিও স্বীকার করে নিয়েছিল। তবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিটি দেশ বাংলাদেশে 'সব দলের অংশগ্রহণ'-এ একটি নির্বাচনের কথা বলেছে, সেখানে সুষমা স্বরাজ এ ধরনের কোনো কথা বলেননি। বরং বলা হয়েছিল 'অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান জনগণকেই করতে হবে।' এতে সরকারের প্রতি মোদি সরকারের একটি প্রচ্ছন্ন সমর্থনই প্রকাশ পায়। সুষমার সঙ্গে আলাপে 'দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই'_ বেগম খালেদা জিয়ার এ ধরনের উক্তির একটা ব্যাখ্যা হতে পারে এরকম_ বিএনপি চায় ভারত বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুক! সরকারি দলের পক্ষ থেকে তখন এরকম একটি অভিযোগই উঠেছিল। এটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি দৈন্য। আমরা আমাদের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারি না। আমাদের দ্বারস্থ হতে হয় বিদেশিদের। এবারই যে এরকমটি হলো তা নয়। এর আগেও হয়েছে। সুষমার এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিলি্ল সফরও নিশ্চিত হয়েছিল। এটা প্রধানমন্ত্রীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুষমার ওই সফর বাংলাদেশের স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য কোনো ম্যাসেজ ছিল না। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবরোধ পার করেছে ৫১ দিন। এই পরিস্থিতি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের যে স্বস্তি দেবে না, এটা বলাই বাহুল্য।
এক কথায় সুষমা স্বরাজের এই সফরের মধ্যদিয়ে বড় কিছু অর্জিত হয়নি। আগামী ৫ বছর বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে। অর্থাৎ ২০১৯ সাল পর্যন্ত। এই সময়সীমায় তিস্তা চুক্তি হবে কিংবা সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের সংবিধান কবে নাগাদ সংশোধন হবে, এটা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিস্তার পানি বণ্টন পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। মমতা ব্যানার্জি এটা হাতছাড়া করতে চাইলেন না। কেননা ২০১৬ সালে সেখানে বিধান সভার নির্বাচন। নির্বাচনে পানির বিষয়টি তিনি দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করবেন। আর সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় ইতোমধ্যে অপসারিত হয়েছে। সুতরাং বিজেপির পক্ষে এটি লোকসভায় পাস করিয়ে আইনে পরিণত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো কিংবা সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়টি একান্তই মানসিকতার ব্যাপার। ভারতের ব্যুরোক্রেসি বাংলাদেশকে সমমর্যাদার দৃষ্টিতে দেখে না। ফলে রাজনৈতিক নেতারা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং) সীমান্তে হত্যাকা- হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও হত্যাকা- হচ্ছে। বন্ধ হচ্ছে না। একটা কথা এখানে বলা দরকার। সুষমা স্বরাজকে যে সম্মান বাংলাদেশ দিয়েছিল তাতে ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর ব্যাপারে আরো ইতিবাচক হওয়া। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ত্রিপুরায় ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ হয়ে আগরতলা গেছে এই খাদ্যশস্য। এর জন্য রাস্তাঘাট ও ব্রিজও বাংলাদেশ সংস্কার করে দিয়েছে। বাংলাদেশের এই 'উদ্যোগ'-এর প্রতিদান হিসেবে ভারত আমাদের কী দেবে সেটাই দেখার বিষয় এখন। বাংলাদেশ শুধু দেবে, আর ভারত তার স্বার্থে বাংলাদেশকে ব্যবহার করবে, এই মানসিকতায় ভারতের নেতারা যদি পরিবর্তন না আনেন তাহলে দু'দেশের সম্পর্ক উন্নত হবে না। সুষমা আর মমতা এলেই কিন্তু তারা জয় করে যেতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। অনেক প্রশ্ন তারা রেখে গেছেন তাদের ওই সফরের মধ্যদিয়ে। মিডিয়া এবং জাতীয় নেতারা যেভাবে তাদের এই সফরকে চিহ্নিত করেছেন এবং অতি উৎসাহ ভাব প্রকাশ করেছেন, তা কোনো ভালো খবর নয়। এতে আমাদের দৈন্যই প্রকাশ পেয়েছে। কিছুদিন আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাকে নিয়ে এত নাচানাচি হয়নি। অথচ আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জাপান কিংবা চীনের অবস্থান ভারতের চেয়ে বেশি। এমনকি বেগম জিয়ার সব প্রটোকল ভেঙে হোটেলে গিয়ে সুষমার সঙ্গে দেখা করা নিয়েও কথা উঠেছিল। খোদ ভারতীয় পত্রিকায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তখন। ভারত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর সন্দেহ নেই তাতে। কিন্তু এখন সবাই মিলে যদি ভারতকে তোষামোদ করে চলি তাহলে ভারতের ব্যুরোক্রেসি এ সুযোগ নেবেই। ভারতকে সমমর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে হলে, সেভাবে আচরণ করাই মঙ্গল। আমরা তা করিনি।
আমরা বার বার বলে আসছি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় আমাদের শক্ত অবস্থানে যেতে হবে। এটা ঠিক ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে ভারত এক ধরনের নীরবতা অবলম্বন করেছিল। এই নীরবতাই সমর্থনের শামিল। বাংলাদেশে ভারতের প্রচুর স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের বিশাল বাজার। ১৬ কোটি দেশের এই বাংলাদেশে ভারতের বিক্রি করার অনেক কিছু আছে এবং ভারত তা করছে। উপরন্তু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে তাদের একটা পথ দরকার। তাও তারা পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রাপ্তির খাতা শূন্য। আমাদের পণ্যের যে বাজার সৃষ্টি হয়েছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে তা এখন ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। ফলে বাংলাদেশ তার বাজার হারাবে। এমনিতেই বাংলাদেশ তার পণ্য নিয়ে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। আমরা বার বার এ কথাগুলো বলছি। যখন মনমোহন সিং বাংলাদেশে এসেছিলেন তখনো বলেছি। এরপর যখন সুষমা এলেন তখনো আমরা বললাম। কিন্তু তাতে এতটুকু দৃষ্টি দেয়নি ভারত। অথচ আমরা সুষমা স্বরাজকে ও পরে মমতাকে যেভাবে সম্মান দিলাম, তা সমসাময়িককালে বিরল একটি ঘটনা। এখন ভয় হচ্ছে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়, ওই সফরটা না জানি কেমন হয়!
ভারত বড় দেশ। আমাদের উন্নয়নে ভারত একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে_ এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু ভারতীয় নেতারা সবসময় তাদের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখেন। ছোট্ট একটি ঘটনা_ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গে ইলিশের চাহিদার কথা বলেছিলেন। অথচ তিনি তিস্তার পানির অভাবে বৃহত্তর রংপুরের মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের কথা একবারও বললেন না। পানির চেয়ে মমতার কাছে ইলিশই বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। ঘটনাটি ছোট, কিন্তু বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
২ মার্চ ভারতের নয়া পররাষ্ট্রসচিব সুব্রামানিয়াম জয়শংকর ঢাকা আসছেন। এ সফর একটি রুটিন ওয়ার্ক হলেও এ সফরে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদির মনোভাব জানাবেন ঢাকাকে। তার ওই সফরে মোদির ঢাকা সফরও চূড়ান্ত হতে পারে। জয়শংকরের এ সুযোগটাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। আমাদের সমস্যাগুলো আবারো আমরা তুলে ধরতে পারি জয়শংকরের কাছে। বিশেষ করে তিস্তা পানিশূন্য হওয়ায় আমরা যে পরিবেশগত মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি এ বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরতে পারি। যাতে মোদির ঢাকা সফরের সময় আমরা তার কাছ থেকে একটি আশ্বাসের বাণী শুনতে পারি। মমতা ব্যানার্জি যাতে রুদ্র কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেন, সে ব্যাপারে আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করতে পারি। কেন্দ্রীয় সরকার মমতা ব্যানার্জির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে। সেই সঙ্গে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে যখন প্রচুর বৃষ্টি হয় উজানে, অর্থাৎ সিকিমে, সেখানে জলাধার নির্মাণ করে পানি ধরে রাখা যায় কিনা সে ব্যাপারে একটি যৌথ কমিশন গঠন করার প্রস্তাব রাখতে পারি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও পানি ঘাটতি মেটাতে যৌথ ব্যবস্থাপনার কথা বলে আসছেন। জয়শংকরের ঢাকা সফরের সময়ও আমরা এ ব্যাপারটি পুনর্ব্যক্ত করতে পারি। দক্ষিণ এশিয়ার মোট আয়তনের ৭২ ভাগ ভারতের। সুতরাং ভারতকে বাদ দিয়ে কোনো সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়।
Daily JAI JAI DIN
02.03.15
শুধুমাত্র তিস্তা চুক্তিই নয়
17:59
No comments
বহুল
আলোচিত মমতা ব্যানার্জির ঢাকা সফর শেষ হয়েছে গেল সপ্তাহে। বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে এ সফরের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কেননা ভারত আমাদের সঙ্গে
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করবে- এর পুরোটাই নির্ভর করছে মমতা
ব্যানার্জির ওপর। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একটি চুক্তি করতে চাইলেও মমতার
আপত্তির কারণে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিটি হতে পারেনি। যদিও যতদূর জানা
যায়, একটা খসড়া চুক্তিতে উভয় দেশ রাজি হয়েছিল। কিন্তু মমতার আপত্তির কারণে
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি। এখন চুক্তিটি আদৌ স্বাক্ষরিত হবে কিনা, সে
ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। সে কারণেই মমতার ঢাকা সফরের সময়
আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। আমরা ধারণা করেছিলাম, মমতা আমাদের একটা
'কমিটমেন্ট' করে যাবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। শুধু বলে গেছেন, আস্থা
রাখতে। এ আস্থা রাখার কথা বলা একটি কূটনৈতিক ভাষা। এতে করে সমস্যার সমাধান
করা যাবে না। আমরা এটাও লক্ষ্য করেছি মমতার ঢাকা সফর কলকাতায় একটি মিশ্র
প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার ঢাকা সফরের পর কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক
আনন্দবাজারে মন্তব্য করা হয়েছিল এভাবে- 'পশ্চিমবঙ্গের পাওনা শূন্য'। এর
অর্থ পরিষ্কার, তিস্তায় পানিবণ্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটা আপত্তি রয়েছে।
সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে তিস্তা চুক্তি হবে- এটা আশা করতে পারছি না। তবে শুধু
তিস্তার পানি বণ্টনই নয়, আরও বেশ কিছু ইস্যু রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের
মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে ভারতের সাবেক মনমোহন সিং
সরকারের সঙ্গে বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পার্থক্য
নেই। কেননা মোদি সরকার ক্ষমতায় এসে অবধি একটি সমস্যাও সমাধানের উদ্যোগ
নেয়নি। বরং সমস্যাগুলো যেভাবে ছিল, সেভাবেই রয়ে গেছে। এটা ঠিক, মোদি
দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মাথায় জুলাই মাসে (২০১৪) তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সুষমা স্বরাজকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার দুবার সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় কোনো আলোচনা হয়নি।
তবে বাংলাদেশের মনোভাব বুঝতে সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর যথেষ্ট
গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার সফরের সময় কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বটে;
কিন্তু তাতে করে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটুকু রক্ষিত হয়েছে, সে প্রশ্ন
থাকবেই।
বাংলাদেশ ছোট দেশ হতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনার দেশ।
বাংলাদেশে ভারতের প্রচুর স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের বিশাল বাজার। ১৬
কোটি মানুষের এই বাংলাদেশে ভারতের বিক্রি করার অনেক কিছু আছে এবং ভারত সেটা
করছেও। উপরন্তু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভেতর
দিয়ে তাদের একটা পথ দরকার। সেটাও তারা পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রাপ্তির
খাতা শূন্য। আমাদের পণ্যের যে বাজার সৃষ্টি হয়েছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
রাজ্যগুলোতে, তা এখন ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। ফলে
বাংলাদেশ তার বাজার হারাবে। এমনিতেই বাংলাদেশ তার পণ্য নিয়ে ভারতীয় বাজারে
প্রবেশ করতে পারছে না। আমরা বারবার এ কথাগুলো বলছি। যখন মনমোহন সিং
বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখনও বলেছি। এরপর যখন সুষমা এলেন, তখনও আমরা বললাম।
কিন্তু তাতে এতটুকু দৃষ্টি দেয়নি ভারত। অথচ আমরা সুষমা স্বরাজকে ও পরে
মমতাকে যেভাবে সম্মান দিলাম, তা সমসাময়িককালে বিরল একটি ঘটনা। এখন ভয় হচ্ছে
নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর নিয়ে, ওই সফরটা না-জানি কেমন হয়!
ভারত
বড় দেশ। আমাদের উন্নয়নে ভারত একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে- এটাই আমাদের
প্রত্যাশা। কিন্তু ভারতীয় নেতৃবৃন্দ সব সময় তাদের স্বার্থটাকেই বড় করে
দেখেন। ছোট্ট একটি ঘটনা- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে মমতা ব্যানার্জি
পশ্চিমবঙ্গে ইলিশের চাহিদার কথা বলেছিলেন। অথচ তিনি তিস্তার পানির অভাবে
বৃহত্তর রংপুরের মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের কথা একবারও বললেন না। পানির
চেয়ে মমতার কাছে ইলিশই বড় হয়ে দেখা দিল। ঘটনাটি ছোট; কিন্তু বেশ
তাৎপর্যপূর্ণ। ২ মার্চ ভারতের নয়া পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামনিয়াম জয়শংকর ঢাকা
আসছেন। এ সফর একটি রুটিন ওয়ার্ক হলেও এই সফরে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাপারে
নরেন্দ্র মোদির মনোভাব জানাবেন ঢাকাকে। তার ওই সফরে মোদির ঢাকা সফরও
চূড়ান্ত হতে পারে। জয়শংকরের সফরের এই সুযোটাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি।
আমাদের সমস্যাগুলো আবারও আমরা তুলে ধরতে পারি জয়শংকরের কাছে। বিশেষ করে,
তিস্তা পানিশূন্য হওয়ায় আমরা যে পরিবেশগত মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি,
এ বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরতে পারি। যাতে করে মোদির ঢাকা সফরের সময় তার
কাছ থেকে একটি আশ্বাসের বাণী আমরা শুনতে পারি। মমতা ব্যানার্জি যাতে রুদ্র
কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেন, সে ব্যাপারে আমরা ভারতের কেন্দ্রীয়
সরকারকে অনুরোধ করতে পারি। কেন্দ্রীয় সরকার মমতা ব্যানার্জির ওপর চাপ
প্রয়োগ করতে পারে। সেইসঙ্গে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে যখন প্রচুর বৃষ্টি হয়
উজানে, অর্থাৎ সিকিমে, সেখানে জলাধার নির্মাণ করে পানি ধরে রাখা যায় কিনা
সে ব্যাপারে একটি যৌথ কমিশন গঠন করার প্রস্তাব রাখতে পারি। বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও পানি ঘাটতি মেটাতে যৌথ
ব্যবস্থাপনার কথা বলেছেন। জয়শংকরের ঢাকা সফরের সময়ও আমরা এ ব্যাপারটি
পুনর্ব্যক্ত করতে পারি। দক্ষিণ এশিয়ার মোট আয়তনের ৭২ ভাগ ভারতের। সুতরাং
ভারতকে বাদ দিয়ে কোনো সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়।
আগেই উল্লেখ করা
হয়েছে, মোদি তার পররাষ্ট্রনীতিতে দক্ষিণ এশিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। একটি
স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া তিনি চান। কিন্তু বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা।
প্রধানমন্ত্রী মোদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ফোন করে
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের সাফল্য কামনা করলেও এই দুটো দেশ এরই
মধ্যে এক ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। ওবামার
জানুয়ারিতে ভারত সফরের পরপরই ভারত পারমাণবিক বোমা বহনযোগ্য অগ্নি-৫ মিসাইল
উৎক্ষেপণ করেছে। এটি তাদের আধুনিক সংস্করণ। এ অগ্নি-৫ এর ব্যাপ্তি সুদূর
চীন পর্যন্ত। ভারত এখন আর পাকিস্তানকে বিবেচনায় নিচ্ছে না। ভারতের টার্গেট
এখন চীন। অর্থাৎ চীনের কর্তৃত্ব কমানো। অগ্নি-৫ নিক্ষেপের পরদিনই পাকিস্তান
তার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র 'রাদ' বা 'ব্রজ' এর পরীক্ষা চালিয়েছে। এর আগে
পাকিস্তান 'হাতাফ' নামে পারমাণবিক বোমা বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা
চালিয়েছিল। ফলে দেশ দুইটি আবারও এক ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায়
নিয়োজিত হলো। মোদির পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানের কোনো জায়গা নেই। যদিও শপথ
গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের উপস্থিতি দেখে মনে
হয়েছিল, দুই দেশের সম্পর্ক বাড়বে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মোদির
পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো গুরুত্ব
পাচ্ছে বেশি। এরই মধ্যে তিনি ভুটান, নেপাল সফর করছেন। এ মার্চেই তিনি যাবেন
শ্রীলঙ্কায়। তিনি জাফনায়ও যাবেন। মার্চে বাংলাদেশেও আসতে পারেন। চীনকে
গুরুত্ব দেয়ার পেছনে কাজ করছে তার ব্যবসায়িক নীতি। তিনি চান বিনিয়োগ।
কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে চীনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এ
মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছে না। তবে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমানোই হবে মোদি
সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার।
মোদির পররাষ্ট্রনীতি পর্যালোচনা
করলে এটা বলা যায়, মোদি একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছেন।
একদিকে চীন, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি রাশিয়ার সঙ্গেও
সমমর্যাদাভিত্তিক সম্পর্ক রক্ষা করে মোদি তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা
করছেন। রাশিয়া থেকে তিনি অস্ত্র কিনছেন। ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি রাশিয়ার
অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। (এ প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানও অনেকটা ভারতের
মতো)। রাশিয়া ও চীনকে সঙ্গে নিয়ে ভারত ব্রিকস ব্যাংক গড়ে তুলছে, যা কিনা
হবে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প 'আরেকটি বিশ্বব্যাংক'। বাংলাদেশও এ ব্যাংকের
ব্যাপারে আগ্রহী। সুষমা স্বরাজের বেইজিং সফরের সময় সেখানে ত্রিদেশীয় একটি
'মিনি সামিট' হয়েছে। চীন, রাশিয়া ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সেখানে মিলিত
হয়েছেন। ফলে বোঝাই যায়, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ও
পারমাণবিক সম্পর্ক গড়ে তুললেও চীন ও রাশিয়াকে কাছে রাখতে চায়। এখন আগামী
দিনগুলোই প্রমাণ করবে এ সম্পর্ক কোন পর্যায়ে গিয়ে উন্নীত হয়।
অনেকেই
স্মরণ করতে পারেন, একুশ শতক হবে এশিয়ার। তিনটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি চীন,
জাপান ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক একুশ শতকের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ
করবে। সঙ্গত কারণেই বিশ্বের বৃহৎ শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ থাকবে এ
অঞ্চলের ব্যাপারে। যদিও জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঐতিহাসিক।
জাপানের নিরাপত্তার গ্যারান্টারও যুক্তরাষ্ট্র। জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের
ঘাঁটি রয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও। ফলে এ অঞ্চলে চীনের
সঙ্গে যে বিবাদ (জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে) তাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি পক্ষ
নিয়েছে। এদিকে চীনের নয়া প্রেসিডেন্ট শি জেন পিং যে নয়া সিল্ক রুটের কথা
বলছেন, তা 'অন্য চোখে' দেখছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের
নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এতে করে বিশাল এক এলাকাজুড়ে চীনের প্রভাব ও
প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ঠিক এমনি এক পরিস্থিতিতে মোদি চাচ্ছেন দক্ষিণ
এশিয়ায় তার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব
কমানোও হবে তার অন্যতম স্ট্র্যাটেজি। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে এ কারণেই
গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে পারে
না। শুধু তিস্তার পানিবণ্টনই নয়, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প, টিপাইমুখ বাঁধ,
শুল্ক, অশুল্ক বাধা, ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ
তার জাতীয় স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় শক্ত
অবস্থানে যেতে হবে। ২ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরের সময়
বাংলাদেশ পক্ষের উচিত হবে এই অবস্থান স্পষ্ট করা।
Daily ALOKITO BANGLADESH
01.03.15
গণতন্ত্রের নয়ামাত্রা : শ্রীলংকা ও দিল্লির অভিজ্ঞতা
00:55
No comments
সম্প্রতি শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের হেরে যাওয়া এবং এর পর পরই ভারতের
দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে আম আদমি পার্টির বিজয় গণতন্ত্রের নতুন একটি মাত্রা
দিয়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও যে হেরে
যেতে পারেন, শ্রীলংকায় রাজপক্ষের পরাজয় সেটিই প্রমাণ করল আবার। শুধু তা-ই নয়,
বিরোধী দলের সমন্বয়েও যে একটি ঐকমত্যের সরকার গঠন করা যায়, এটাও সেখানে প্রমাণ
করেছেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মূল কথাটাই হচ্ছে
রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত দলগুলোর পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা। তা গণতান্ত্রিক
তত্ত্বে বলা হয়, ‘কনফিডেন্স
বিল্ডিং মেজারস’
বা সিবিএম। এই সিবিএমেরই আমরা প্রকাশ দেখলাম দিল্লির বিধানসভার নির্বাচনে আম আদমি
পার্টির অভাবনীয় বিজয়ের পর রামলীলা ময়দানে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ভাষণের মধ্য দিয়ে।
একতরফাভাবে তার এই বিজয় নিয়ে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। এমনকি বিজেপির
মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী কিরণ বেদি সম্পর্কেও তিনি কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি।
বরং বলেছেন, ‘কিরণ
বেদিকে আমি সম্মান করি। নির্বাচনী লড়াইয়ে হারজিত থাকবেই। তিনি আমার বড় দিদির মতো।
তাকে সঙ্গে নিয়ে তার পরামর্শ মতো চলব।’ এটা তিনি
না বললেও পারতেন। কেননা আগামী পাঁচ বছর দিল্লির রাজ্য শাসনে তাকে বিজেপির মতামত বা
পরামর্শ না নিলেও চলবে। কেননা বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে বিজেপির আসন মাত্র ৩টি।
আবার ওই তিনটি আসনের মধ্যে আবার কিরণ বেদির আসনটিও নেই। অর্থাৎ দিল্লির বিধানসভায়
বিজেপি আছে বটে কিন্তু সাংবিধানিকভাবে দিল্লি বিধানসভায় কোনো বিরোধী দল থাকবে না।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুধু কিরণ বেদির কথাই বলেননি, বলেছেন অজয় মাকেনের কথাও। মাকেন
ছিলেন কংগ্রেসের নেতা। আর কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি দিল্লি বিধানসভায়।
গণতন্ত্র নিয়ে যারা ভাবেন, বলেনÑ
তাদের কাছে এ দুটি দেশের ঘটনার গুরুত্ব অনেক। গণতান্ত্রিক সমাজে পরস্পরের মাঝে
আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকতে হয়। না হলে সমাজ অহিংস হয়ে ওঠে। গণতান্ত্রিক
ভাবধারা ভেঙে পড়ে। সমাজ একদলীয় হয়ে পড়ে। সিরিসেনার অভিজ্ঞতা অনেক দিনের। কিন্তু
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ‘রাজনৈতিক
অভিজ্ঞতা’
তো মাত্র দুই বছরের। দু’বছরের
একটি দল নিয়ে সবাইকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। আসলে শ্রীলংকা বলি ও
নয়াদিল্লির বিধানসভার নির্বাচন বলি, বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের। ব্যক্তি এখানে মুখ্য
নয়। উন্নয়নশীল বিশ্বের গণতন্ত্রের জন্য এটা একটা বড় শিক্ষাÑ যেখানে ক্ষমতায় থেকেও
ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জনরায়ে হেরে যান। হেরে যাওয়ার আগেই রাজাপক্ষে পরাজয় স্বীকার
করে নিয়েছিলেন এবং কোনো আপত্তির কথা তার সমর্থকদের মুখ থেকে শোনা যায়নি। কোনো
সূক্ষ্ম কারচুপির কথাও আমরা শুনিনি। এটাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। সাধারণ মানুষের
সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় যাওয়া যায়। আবার জনসমর্থন না থাকলে ‘জোর
করে’
সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করেও ক্ষমতায় থাকা যায়। রাজাপক্ষের বিদায় এটাই প্রমাণ করেছিল
আবার। অথচ রাজপক্ষে এক সময় যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। শ্রীলংকাকে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে
তিনি রক্ষা করেছিলেন। ২০০৯ সালে তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তিনি ‘বিজয়ী’
হয়েছিলেন। তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে শ্রীলংকা সেনাবাহিনীর বিজয় নানা বিতর্কের জন্ম
দিলেও এটা প্রমাণিত হয়েছিল, রাজাপক্ষে যদি ওই সময় টাইগারদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক
যুদ্ধ পরিচালনা না করতেনÑ তাহলে সম্ভবত শ্রীলংকা এর রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব নিয়ে আজ
পর্যন্ত টিকে থাকতে পারত না। এখানে বলা ভালো, রাজাপক্ষে ২০০৫ সালে ক্ষমতাসীন হয়ে
সেখানে গণতন্ত্রের পরিপন্থী এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার
একটি প্লাস পয়েন্ট ছিল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলা তামিল বিদ্রোহ দমন করেছিলেন। ২৬ বছর
ধরে চলা তামিল বিদ্রোহ দমন করে তিনি শ্রীংহলি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে অবিসংবাদিত
নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিল পারিবারিককরণের। তার দু’ভাই,
ছেলেÑ তারা সবাই সরকারের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব
খাটাতেন। এই পারিবারিককরণ শ্রীলংকার সাধারণ মানুষ খুব ভালোভাবে নেয়নি। তামিল
টাইগারদের পরাজিত করে তার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে ২০১০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। তার দ্বিতীয় টার্ম শেষ হওয়ার কথা আরও দু’বছর
পর। তৃতীয় টার্মে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতেন না। এক্ষেত্রে সংবিধান অন্যতম
বাধা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত উচ্চাকাক্সক্ষী রাজাপক্ষে সংবিধানে পরিবর্তন এনে নিজের
জন্য তৃতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ প্রশস্ত করেছিলেন। ধারণা ছিল, তার সঙ্গে
প্রতিদ্বন্দ্বিবতা করার মতো কোনো উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাবে না বিরোধী দল।
কিন্তু তার সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিথ্রিপাল সিরিসেনা যে স্বয়ং তাকেই চ্যালেঞ্জ
করবেন, এটা তিনি বুঝতে পারেননি। এক সময় সিরিসেনা তার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এমনকি
ক্ষমতাসীন শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির তিনি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সিরিসেনা গত
অক্টোবর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর রাজাপক্ষেকে তিনি চ্যালেঞ্জ করতে শুরু
করেন। আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল ইউনাইটেড
ন্যাশনাল পার্টি কোনো প্রার্থী দেয়নি। বরং তারা একত্র হয়ে সিরিসেনাকে নিজেদের
প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নির্বাচনে তাকে সর্বাত্মক সমর্থন করেন। নির্বাচনের
আগে সিরিসেনার সঙ্গে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির যে সমঝোতা হয়েছিল, এর আলোকেই
বিরোধী দল নেতা রবিল বিক্রমাসিংহেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
বিক্রমাসিংহে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়েছেন।
শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
সিরিসেনার বিজয় ছিল গণতন্ত্রের বিজয়। তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’
জয়ী হয়ে এত জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও কেন রাজাপক্ষে হেরে গেলেনÑ এ প্রশ্ন এখন
অনেকেই করছেন। আসলে রাজাপক্ষে জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ক্ষমতা মানুষকে
যে ‘অন্ধ’ করে দেয়, রাজাপক্ষে ছিলেন এর বড়
প্রমাণ। তিনি শ্রীলংকার মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে এক ধরনের একনায়কতন্ত্র চালু
করেছিলেন। তার কথাই ছিল আইন। শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ শিক্ষিতের দেশ শ্রীলংকার মানুষ
এটা গ্রহণ করে নেয়নি। ওই একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে মানুষ তার ওপর থেকে মুখ
ঘুরিয়ে নিয়েছিল। তিনি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। তা শ্রীলংকার সাধারণ মানুষ
সমর্থন করেনি। এমনকি তিনি পরিবারতন্ত্র চালু করেছিলেন। এটাও মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
যদিও শ্রীলংকায় এক ধরনের পরিবারতন্ত্র আছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা
কুমারাতুঙ্গা কিংবা তার মা প্রয়াত শ্রীমাভো বন্দেরনায়েকে পরিবারতন্ত্রেরই
প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন। বন্দেরনায়েকে ছিলেন স্বাধীনতা-পরবর্তী (১৯৪৮ সালে দেশটি
স্বাধীন হয়) শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী শ্রীমাভো
প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে মেয়ে চন্দ্রিকাও প্রেসিডেন্ট হন। মেয়ে চন্দ্রিকা যখন
প্রেসিডেন্ট, তখন মা শ্রীমাভোও দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সে দেশে।
নিঃসন্দেহে সিরিসেনার প্রেসিডেন্ট
হিসেবে নিযুক্তি সবাইকে অবাক করেছে। তাকে ঘিরে একটি বড় ধরনের ‘ঐক্য’ গড়ে উঠেছে।
আমাদের মতো দেশ হলে নির্বাচনে বিরোধী দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি)
নিজেদের প্রার্থী দিত। কিন্তু দলটি তা করেনি। বরং সিরিসেনাকে সমর্থন করে একটি
ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করেছে শ্রীলংকায়। নয়াদিল্লির বিধানসভার নির্বাচন কিংবা
নির্বাচন-পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের বক্তব্য ওই স্পিরিটই প্রতিনিধিত্ব করে।
কেজরিওয়াল বলেছেন, সবাইকে নিয়েই তিনি প্রশাসন পরিচালনা করবেন। তিনি একাই সব
সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু চাচ্ছেন সবাইকে নিয়ে প্রশাসন চালাতে। গণতন্ত্রে এ
কথাটাই বলে। মানুষটা ছোট। কিন্তু অরবিন্দ কেজরিওয়াল এখন অনেক ‘বড় মানুষ’। বলেছেন
নয়াদিল্লিতে কোনো ‘ভিআইপি কালচার’ থাকবে না। মন্ত্রীরা গাড়ির ওপর লালবাতি জ্বালিয়ে
চলাচলে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেবেন না।
ভারতে এক ধরনের ‘পপুলিজম’-এর মধ্য
দিয়ে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বলা হচ্ছে, এটা একটা ‘মোদিওয়েভ’
বা ‘মোদি ঢেউ’। তা সারা ভারত ছুঁয়ে গেছে। দিল্লিতেও ওই একই ধরনের ‘পপুলিজম’
কেজরিওয়ালকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু পার্থক্যটা হচ্ছে, ওবামার সঙ্গে বৈঠকে মোদি
১০ লাখ টাকা দামের স্যুট পরে প্রমাণ করলেনÑ তিনি মূলত ধনী, ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরই
প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে রামলীলা ময়দানে সাধারণ একটা প্যান্ট ও নীল সোয়েটার
পরে কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রমাণ করলেন, তিনি আসলে সাধারণ
মানুষেরই মুখ্যমন্ত্রী। সংবাদপত্র থেকে নিশ্চয়ই অনেকে জেনেছেন, শপথগ্রহণের দিন
দিল্লির ট্যাক্সিচালকরা রামলীলা ময়দানে যেসব যাত্রী কেজরিওয়ালের শপথগ্রহণ
অনুষ্ঠানে গেছেন, তাদের কারও কাছ থেকেই ভাড়া নেননি। কেননা ট্যাক্সিচালকদের ভাষায়Ñ
কেজরিওয়াল তো তাদেরই লোক! কেজরিওয়াল কোনো জেড গ্রেডের (ভিআইপিদের জন্য) নিরাপত্তাও
নিচ্ছেন না। তিনি কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করেছেনÑ যা তার শাসনামলে বাস্তবায়ন করবেন।
যেমনÑ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, বিদ্যুতের বিল অর্ধেক করা, বিনামূল্যে গরিবদের জন্য ৭০০
লিটার পানি প্রতি মাসে (আগে ছিল ২০ হাজার লিটার), স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, হাসপাতালে
ফ্রি বেড ইত্যাদি। তার ওই প্রতিশ্রুতি সুশাসনের কথাই বলে। আর সুশাসনই হচ্ছে
গণতন্ত্রের মূল কথা।
গণতন্ত্রকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে কিংবা গণতন্ত্রের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে শ্রীলংকা ও দিল্লিতে আম আদমি পার্টির উত্থান থেকে আমরা শিখতে পারি। তাদের অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারি। সাম্প্রতিক কালে সিরিসেনা কিংবা অরবিন্দ কেজরিওয়াল আমাদের কাছে দুটি দৃষ্টান্ত। সিরিসেনা সংবিধান সংশোধন করে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে এক সময়ের আয়কর বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা ও এখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা। দু’জনই বলেছেন সবাইকে নিয়ে কাজ করার কথা। এখন আগামী দিনগুলোই বলবে তারা কতটুকু সফল হবেন।
গণতন্ত্রকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে কিংবা গণতন্ত্রের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে শ্রীলংকা ও দিল্লিতে আম আদমি পার্টির উত্থান থেকে আমরা শিখতে পারি। তাদের অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাতে পারি। সাম্প্রতিক কালে সিরিসেনা কিংবা অরবিন্দ কেজরিওয়াল আমাদের কাছে দুটি দৃষ্টান্ত। সিরিসেনা সংবিধান সংশোধন করে পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে এক সময়ের আয়কর বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা ও এখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা। দু’জনই বলেছেন সবাইকে নিয়ে কাজ করার কথা। এখন আগামী দিনগুলোই বলবে তারা কতটুকু সফল হবেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)











