সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপুল বিজয়ের পর এখানকার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মাঝে একটা প্রশ্ন উঠেছে, পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক এখন কোন পর্যায়ে উন্নীত হবে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলো এখন বেশ সতর্ক। রিপাবলিকান পার্টি এখন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়েছে। ফলে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতির আড়ালে কংগ্রেস একটি বড় ভূমিকা পালন করবে এবং প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করবে একটি কনজারভেটিভ নীতি গ্রহণ করতে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি আক্রমণ এবং চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করার ব্যাপারে কংগ্রেস বেশকিছু নীতি গ্রহণ করতে পারে। এমনকি আইএস দমনে ইরানের সহযোগিতা চেয়ে ওবামা খামেনিকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতে আপত্তি তুলেছেন রিপাবলিকানরা। ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার সম্ভাবনাও এখন প্রশ্নের মুখে থাকল।
ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। ন্যাটো রাশিয়াকে ঘিরে ফেলতে চায় ও ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য মোতায়েন করতে চায়- এ অভিযোগ রাশিয়ার দীর্ঘদিনের। ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। সেপ্টেম্বরে (২০১৪) পূর্ব ইউক্রেনে বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনের যে চুক্তি হয়েছে, ওই চুক্তির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য ওবামা পুতিনকে অনুরোধ করেছেন। বেইজিংয়ে ওবামা-পুতিন সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তারা বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মাঝে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হতে চায়। এ নিয়ে সেখানে যুদ্ধ চলছে এবং তাতে প্রায় চার হাজার নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। এখন রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোনদিকে মোড় নেয়, সেদিকে দৃষ্টি থাকবে অনেকের।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক। কংগ্রেস নির্বাচনে তার সমর্থকদের পরাজয়ের পর প্রথম সফর হিসেবে ওবামা চীনে যান। সেখানে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলনে যোগ দেন। এরপর যান মিয়ানমারে ইস্ট এশিয়া সামিটে যোগ দিতে। মিয়ানমারে এটা তার দ্বিতীয় সফর। দ্বিতীয়বার নির্বাচনের পরপরই (২০১২) তিনি মিয়ানমার সফর করেছিলেন। এরপর যান অস্ট্রেলিয়ায় জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক আগামীতে কোনদিকে গড়ায়, এ ব্যাপারে বিশ্লেষকদের আগ্রহ এখন অনেক বেশি। অভিযোগ আছে, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে 'ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলার' এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চীনকে দুর্বল করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নিচ্ছে 'ট্রান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট' বা টিপিপিএফটি করার। প্রস্তাবিত এ চুক্তিতে চীনকে রাখা হয়নি। অথচ এশিয়ার তথা প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি চীন। ২০০৯ সালে প্রথম টিপিপিএফটির কথা জানা যায়। এখন এ চুক্তির আওতায় আছে ১১টি দেশ- অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেঙ্েিকা, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ২০১২ সালে এ অঞ্চলের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। আর সেবা খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৪২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব জিডিপির ৪০ ভাগ এ অঞ্চলের। আর বিশ্ব বাণিজ্যের ২৬ ভাগ পরিচালিত হয় এ অঞ্চলে। কিন্তু চীনকে বাদ দিয়ে এ চুক্তি নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। আগামী বছর এ চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। রিপাবলিকানরা চাইবে অতি দ্রুত এ চুক্তিটি স্বাক্ষর হোক। তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, চীন এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের দুটি বড় অর্থনীতির একটি জোট গঠিত হলো। দক্ষিণ কোরিয়া অনেক আগেই মধ্যম সারির অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রফতানির ২৬ দশমিক ০৫ ভাগ রফতানি হয়েছে চীনে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৯ ভাগ। বলা হচ্ছে, ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি (এ অঞ্চলে) বাড়বে ৩০০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রফতানির ৩৯ দশমিক ৫ ভাগ। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ২১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এখন প্রশ্ন থাকবে, টিপিপিএফটি চালু হলে চীন-দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের ওপর তা কতটুকু প্রভাব ফেলবে? একইসঙ্গে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ব্রাজিলকে নিয়ে ব্রিকস ব্যাংক গড়ে উঠেছে, যা কিনা বিশ্বব্যাংকের কর্তৃত্ব ও প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে যাচ্ছে। চীন এরই মধ্যে 'এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক গঠন করেছে। বাংলাদেশের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ এ ব্যাংকের ব্যাপারে এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে চীনের এ ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র আগামীতে খুব ভালোভাবে নেবে বলে মনে হয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্র চীনের এ ভূমিকাকে অস্বীকার করতে পারবে না। কেননা যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস ও তেল আহরণ ক্ষেত্র, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ও কৃষিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। দুই দেশের মাঝে সম্পর্ক খারাপ হলে এ বিনিয়োগে তা প্রভাব ফেলবে।
সামরিক ক্ষেত্রেও পারস্পরিক অবিশ্বাস আছে। চীন রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে 'সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন' নামক একটি সংস্থা গড়ে তুলেছে। মধ্য এশিয়ায় তথা জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করছে এ সংস্থাটি। শুধু তাই নয়, পূর্ব চীন সাগরে চীন একটি 'ওয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন' গড়ে তুলেছে। অর্থাৎ বিতর্কিত ও তেল সম্পদসমৃদ্ধ এ অঞ্চলে চীন অন্য কারও কর্তৃত্ব স্বীকার করে না। এটা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে আঘাত করার শামিল। এ অঞ্চলে চীনের ভূমিকাকে অনেক পর্যবেক্ষক 'চীনা মনরো ডকট্রিন' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত 'মনরো ডকট্রিনের' সময় যা ছিল ইউরোপীয় শক্তি (অর্থাৎ মার্কিন এলাকায় কোনো ইউরোপীয় শক্তির জড়িত থাকাকে চ্যালেঞ্জ করা)। এক্ষেত্রে চীনা এলাকায় কোনো বিদেশি শক্তির (জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র) জড়িত থাকার বিষয়ে চীনের অপছন্দ। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে তার নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক স্প্রি্রটের ছয়টি যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় মহাসাগরে মোতায়েন করা হবে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে 'ঘিরে ফেলার' যে নীতি প্রণয়ন করেছে, তার অংশ হিসেবেই ভারতীয় মহাসাগরে এ যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েন করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা স্বীকার করে না। বলা ভালো, ভারত মহাসাগরে চীনের যথেষ্ট স্বার্থ রয়েছে। চীনের জ্বালানি সম্পদের প্রায় ৬০ ভাগ চীন এ পথে আমদানি করে। চীন কোনো অবস্থাতেই চাইবে না এ জ্বালানি সম্পদ সরবরাহে কোনো বাধা আসুক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরকে একত্রিত করে চীন তার 'মুক্তার মালা' নীতি প্রণয়ন করেছে। অর্থাৎ এ অঞ্চলে চীন তার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায়। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৌজাহাজের উপস্থিতি এক ধরনের স্নায়ুচাপ সৃষ্টি করবে চীনের ওপর। চীন এটা ভালো চোখে নেবে না, এটাই স্বাভাবিক। ফলে আগামীতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
তাই পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার করার প্রতিযোগিতা নতুন করে এক 'স্নায়ুযুদ্ধের' জন্ম দিতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ সময়কার পরিস্থিতিকে মেলান যাবে না। ওই সময় বিশ্ব-রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। দুই পরাশক্তির প্রভাব বিস্তার করার মানসিকতার কারণে ওই সময়ে বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনার জন্ম হয়েছিল। যুদ্ধ হয়নি বটে। কিন্তু দীর্ঘসময় বিশ্বকে একটি উত্তেজনার মধ্যে রেখেছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল সত্য; কিন্তু তা ছিল সাময়িক। ২০ বছর পর নতুন আঙ্গিকে 'স্নায়ুযুদ্ধ' শুরু হয়েছে। তবে পার্থক্যটা হলো স্নায়ুযুদ্ধে একসময়কালে পক্ষ ছিল দুটি- যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। এখন পক্ষ বেশ ক'টি। চীন, ভারত এমনকি ইরানও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর। এখন দেখতে হবে, এ শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কোন পর্যায়ে উন্নীত হয়। এখানে প্রয়োজন একটি 'রিয়েল পলিটিকসের'। অর্থাৎ বাস্তববাদী নীতি গ্রহণ করা। বিশ্ব নেতারা যদি এ বাস্তববাদী নীতি গ্রহণ না করেন, তাহলে বিশ্বে উত্তেজনা থাকবেই। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, এ বাস্তববাদী নীতির বড় অভাব। যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। তথাকথিত 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' সূচনা করে মুসলিম বিশ্বকে পদানত রাখার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে। দেশটি আফগানিস্তানে যুদ্ধের সূচনা করে, তা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরাক-সিরিয়ায় সীমিত যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের সীমানাও পরিবর্তিত হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের ওপরও 'চাপ' বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের রাজনৈতিক দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নতুন নতুন উপাদান যুক্ত হচ্ছে রাজনীতিতে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কনজারভেটিভ রিপাবলিকানদের দখলে চলে যাওয়ায় বিশ্ব-রাজনীতিতে উত্তেজনার সম্ভাবনা আরও বাড়ল।
Daily Alokito Bamgladesh
23.11.14
Prof Dr Tareque Shamsur Rehman
In his Office at UGC Bangladesh
Prof Rahman With US Congressman Joseph Crowley
here you go!!!
Prof Dr Tareque Shamsur Rahman
During his stay in Germany
Prof Dr Tareque Shamsur Rahman
At Fatih University, Turkey during his recent visit.
Prof Dr Tareque Shamsur Rehman
In front of an Ethnic Mud House in Mexico
এই যুদ্ধের শেষ কোথায়
15:34
No comments
ভুয়া ডিগ্রিধারীদের বহিষ্কারই যথেষ্ট নয়
16:56
No comments
সংবাদটি
ছাপা হয়েছে একটি জাতীয় দৈনিকে। তাতে বলা হয়েছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহ-উপাচার্যকে তার পিএইচডি ডিগ্রি ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা
হয়েছে। তার এই বহিষ্কার এখন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং আমরা যারা
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর শিক্ষকতা করে আসছি, আমাদের একটি
বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কেননা আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেরই
পিএইচডি এবং বিদেশি ডিগ্রি রয়েছে। আমাদের সবার পিএইচডি নিয়েও প্রশ্ন থাকতে
পারে! আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে চিনি, যিনি এখন
সম্ভবত চাকরি করেন না অথবা ছুটিতে আছেন। তিনি অনলাইনে একটি ‘পিএইচডি’
ডিগ্রি নিয়েছিলেন অর্থনীতিতে তথা ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে। যদিও এই বিষয়ে তার
অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি ছিল না। তিনি ওই ডিগ্রিটা নিয়েছিলেন, যাতে করে
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসনে কাস নিতে সুবিধা হয়। তবে
সচেতনভাবে তিনি ওই ডিগ্রিটি ব্যবহার করতেন না নামের আগে। কিন্তু যাকে নর্থ
সাউথ থেকে বহিষ্কার করা হলো, যতদূর জানি তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এমনকি তিনি এর আগে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়
ইস্ট-ওয়েস্টে সহ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখানে অনেক প্রশ্ন এসে
যায় সঙ্গত কারণেই। এক. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে নিয়োগের আগে তার
ডিগ্রিটি সঠিক কি না, তা কেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে যাচাই-বাছাই
করে নিল না? দুই. তিনি আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই দায়িত্বে
ছিলেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয় কেন তার ডিগ্রি যাচাই করল না? তিন. তিনি তো
দীর্ঘদিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেছেন। তাহলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়
কেন তার ব্যাপারে আগে সতর্ক হলো না। ২০০৪ সালে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের
অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ইংরেজি নিউ এইজ পত্রিকায় তখন এ সংক্রান্ত
একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। যিনি সংবাদটি প্রকাশ করেছিলেন, তিনি আমাকে
মেইলে কনফার্ম করেছেন এবং ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাহলে এই ব্যক্তি
সম্পর্কে আগেই সতর্ক থাকা উচিত ছিল। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আমি
ধন্যবাদ দেব যে, তারা শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কার করল। কিন্তু
বহিষ্কারই যথেষ্ট নয়। আমি মনে করি একটি বড় অপরাধের যা শাস্তি তা তার
প্রাপ্য। নিজেকে এবং নিজের ডিগ্রি ‘জাস্টিফাই’ করার জন্য অপর একটি দৈনিকে
ছাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার তথাকথিত ডিপিএ ডিগ্রিটি পিএইচডি মানের। এই
তথ্যটি ভুল এবং প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার শামিল। ডিপিএ নামের একটি ডিগ্রি
আছে বটে, কিন্তু তা কোনো অবস্থাতেই পিএইচডি সমমান তো নয়ই, বরং একাডেমিক
মানেরও নয়। মূলত ডিপিএ ডিগ্রি দেওয়া হয় অনলাইনে। ১৯৭৭ সালে অনলাইন ছিল না।
কিন্তু ওই সময় কিভল্যান্ড (ওহাইও) বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপিএ ডিগ্রি ছিল, তা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে জানাতে পারেনি। উপরন্তু ডিপিএ ডিগ্রি তাদেরই
দেওয়া হয়, যারা ব্যবসা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একটু খোঁজখবর নিলেই
দেখা যাবে, ডিপিএ ডিগ্রিটি কী এবং তা কীভাবে দেওয়া হয়। ইন্টারনেটের এই যুগে
কিভল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন কিছু নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডিগ্রি ভেরিফাই’ নামে একটা শাখা আছে। সেখান থেকেও তথ্য
নেওয়া যায়। এ ধরনের একটি ভুয়া পিএইচডির খবর আমাদের চোখ খুলে দিল।
ট্যাবলয়েড দৈনিক মানবজমিন আরেকটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমাদের
জানিয়েছে, দেশে প্রায় ৫ হাজার ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রিধারী রয়েছে। যারা
ইতোমধ্যে ওই ডিগ্রি ব্যবহার করে অনেক সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। ওই প্রতিবেদক
আমাকে জানিয়েছেন, খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই
ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। এটা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা
অত্যন্ত দুঃখজনক। শর্ষের ভেতরেই যদি ভূত থাকে, তাহলে আমরা ভূত তাড়াব
কীভাবে? সমাজের সর্বত্র এখন ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির ছড়াছড়ি (যে কারণে আমি
নিজে এখন আর নামের আগে ‘ড.’ শব্দটি ব্যবহার করি না। এটা আমার প্রতিবাদও
বলতে পারেন!)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত, নিম্ন
আদালত, বেসরকারি ব্যাংকের এমডি, উকিল, জজ, সচিব সবাই এখন নির্বিবাদে এই
ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। কেউ জানেন। কেউ আবার জানেন না।
সংবাদপত্রের কর্মীরা প্রায়ই না জেনেশুনে, পরীক্ষা না করে নামের আগে ‘ড.’
শব্দটি জুড়ে দেন। এতে করে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়ে যায়। এক এনজিও
নেত্রীকে আমি বারবার বলেছি এই পদবি ব্যবহার না করার জন্য। তিনি তা করছেন
এবং অবৈধভাবে অধ্যাপক শব্দটিও ব্যবহার করছেন। কে দেখবে এসব?
কেউ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে না গেলে তার ডিগ্রি যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই। তবে কমিশন প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের তালিকা এখন চাইতে পারে। আমরা যখন মঞ্জুরি কমিশনে ছিলাম তখন আমার উদ্যোগেই ও আমার এক সহকর্মীর সহযোগিতায় শিক্ষকদের একটা ‘ডাটা ব্যাংক’ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু ওই কাজটি করা আর হয়নি। কারা এর জন্য দায়ী? অবৈধ কর্মকর্তারা সব জায়গাতেই আছে। কীভাবে সব কিছু ‘ম্যানেজ’ করতে হয়, তা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানে। তাই ‘ম্যানেজ’ হয়ে গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটা ব্যাংকের উদ্যোগটি এখন ইউজিসির ডিপ ফ্রিজে। যারা সেখানে সদস্য হিসেবে যান, তারা বিষয়টি বোঝেন কি না, তাতে আমার সন্দেহ রয়েছে। এখন একজন সহ-উপাচার্যের ভুয়া পিএইচডির বিষয়টি যখন ধরা পড়ল, তখন ইউজিসির উচিত অবিলম্বে ‘ডাটা ব্যাংক’-এর কার্যক্রম শুরু করা।
পিএইচডি হচ্ছে একটা গবেষণা। একজন গবেষককে একটি তত্ত্বের আলোকে একটা নতুন গবেষণা উপস্থাপন করতে হয়। এটা একটা বৈজ্ঞানিক গবেষণা। নতুন একটি তথ্য তিনি গবেষণা করে উপস্থাপন করবেন। কিন্তু আমাদের ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা তা কী করছেন? কোথায় তাদের গবেষণা? আরও একটা কথা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ব্যাপকভাবে পিএইচডি দেওয়া শুরু হয়েছে। কী তার কোয়ালিটি? কে তাদের তত্ত্বাবধায়ক? কীভাবে তারা গবেষণা করছেন? এসব দেখার কেউ নেই। মজার কা-, যার নিজেরই পিএইচডি নেই, অধ্যাপকও ননÑ তারাও এখন পিএইচডির তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পিএইচডি নিচ্ছেন কোনো রকম গবেষণা না করেই। পুলিশের শীর্ষ ব্যক্তিসহ ডজন ডজন কর্মকর্তা এখন পিএইচডি ডিগ্রিধারী অথবা নেওয়ার পথে। অথচ একটিবারের জন্যও তারা লাইব্রেরিতে যাননি। ফিল্ড ওয়ার্ক করেননি। কে তাদের থিসিস লিখল? ছুটি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কেউ ছুটি নিচ্ছেন না। আমরা পিএইচডি ডিগ্রিটাকে এখন হাস্যাস্পদ ব্যাপারে পরিণত করেছি। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে শুরু করে প্রায় সব বিষয়েই পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদের ওই ফিল্ডে নিজস্ব কোনো শিক্ষক নেই। ধার করা শিক্ষক দিয়ে তারা পিএইচডি কোর্স পরিচালনা করছে। এটি কি ঠিক? এর কি আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে? যদি সত্যিকার অর্থেই ডিগ্রি দিতে হয়, তাহলে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সিনিয়র শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ধার করা শিক্ষক দিয়ে পিএইচডি কোর্স পরিচালনা করা যাবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এ ব্যাপারে ইউজিসিকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার আহ্বান জানাচ্ছি। ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির ছড়াছড়ি রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতার চেয়েও মারাত্মক। সমাজকে তা অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার কথা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংসদের শিক্ষা-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি তৎপর হয়েছে। সংসদীয় কমিটির পরবর্তী সভায় আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি রয়েছে। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম তাদের ‘একটি’ ভূমিকা দেখার জন্য। এখন যেটা করার দরকার, তা হচ্ছেÑ ১. ইউজিসি অবিলম্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষকদের ‘ডাটাবেজ’ তৈরি করবে। এক মাসের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষকদের ডিগ্রির তালিকা দেবে এবং ইউজিসি তা যাচাই-বাছাই করবে এবং ভুয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে। ২. অনলাইন পিএইচডি যে একাডেমিক কোনো ডিগ্রি নয়, তা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করবে ও সতর্ক করবে। ৩. ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির ব্যবহার নিষিদ্ধ ও ব্যবহারকারীদের কঠোর শাস্তির বিধানসংবলিত আইন সংসদে পাস করতে হবে। অথবা প্রচলিত আইনে সংশোধনী আনতে হবে। ৪. প্রয়োজনে ইউজিসি এ সংক্রান্ত একটি ‘সেল’ গঠন করবে। ৫. প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি করে ‘সেল’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যারা তাদের শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রির মান পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। ৬. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রক্রিয়ায় বিশেষ কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপ করতে হবে। কোনো প্রার্থী পদে থেকে পিএইচডি করতে পারবেন না। আইন অনুসরণ করে ছুটি নিয়ে প্রার্থীকে গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। ভাড়া করা শিক্ষক দিয়ে পিএইচডি কোর্স চালু করা যাবে না। কোনো বিভাগে ন্যূনতম ৪ থেকে ৫ জন অধ্যাপক না থাকলে, সেই বিভাগ পিএইচডি কোর্স চালু করতে পারবে না। ইউজিসি এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। একটা অদ্ভুত সমাজে আমরা বসবাস করছি। ভুয়া ডিগ্রি দেখিয়ে আমরা শিক্ষকতার চাকরি নিচ্ছি। বছরের পর বছর চাকরি করছি। কিন্তু ভুয়া ডিগ্রির খবর জানাজানি হয়ে গেলেও কোনো শাস্তি হচ্ছে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক কানেকশনে পার পেয়ে যাচ্ছেন। একটা অন্যায় আরেকটি অন্যায়ের জন্ম দেয়। একটি ভুয়া পিএইচডি আরেকটি ভুয়া পিএইচডির জন্ম দিচ্ছে। টাকার বিনিময়ে এখন পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে এই যে বেসাতি, তা পৃথিবীর কোনো দেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা ইউজিসির দায়িত্ব অনেক বেশি। আমরা আশ্বস্ত হতে চাই তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটি সঠিকভাবেই পালন করবেন। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র Daily Amader Somoy 16.11.14
কেউ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে না গেলে তার ডিগ্রি যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই। তবে কমিশন প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের তালিকা এখন চাইতে পারে। আমরা যখন মঞ্জুরি কমিশনে ছিলাম তখন আমার উদ্যোগেই ও আমার এক সহকর্মীর সহযোগিতায় শিক্ষকদের একটা ‘ডাটা ব্যাংক’ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু ওই কাজটি করা আর হয়নি। কারা এর জন্য দায়ী? অবৈধ কর্মকর্তারা সব জায়গাতেই আছে। কীভাবে সব কিছু ‘ম্যানেজ’ করতে হয়, তা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানে। তাই ‘ম্যানেজ’ হয়ে গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটা ব্যাংকের উদ্যোগটি এখন ইউজিসির ডিপ ফ্রিজে। যারা সেখানে সদস্য হিসেবে যান, তারা বিষয়টি বোঝেন কি না, তাতে আমার সন্দেহ রয়েছে। এখন একজন সহ-উপাচার্যের ভুয়া পিএইচডির বিষয়টি যখন ধরা পড়ল, তখন ইউজিসির উচিত অবিলম্বে ‘ডাটা ব্যাংক’-এর কার্যক্রম শুরু করা।
পিএইচডি হচ্ছে একটা গবেষণা। একজন গবেষককে একটি তত্ত্বের আলোকে একটা নতুন গবেষণা উপস্থাপন করতে হয়। এটা একটা বৈজ্ঞানিক গবেষণা। নতুন একটি তথ্য তিনি গবেষণা করে উপস্থাপন করবেন। কিন্তু আমাদের ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা তা কী করছেন? কোথায় তাদের গবেষণা? আরও একটা কথা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ব্যাপকভাবে পিএইচডি দেওয়া শুরু হয়েছে। কী তার কোয়ালিটি? কে তাদের তত্ত্বাবধায়ক? কীভাবে তারা গবেষণা করছেন? এসব দেখার কেউ নেই। মজার কা-, যার নিজেরই পিএইচডি নেই, অধ্যাপকও ননÑ তারাও এখন পিএইচডির তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পিএইচডি নিচ্ছেন কোনো রকম গবেষণা না করেই। পুলিশের শীর্ষ ব্যক্তিসহ ডজন ডজন কর্মকর্তা এখন পিএইচডি ডিগ্রিধারী অথবা নেওয়ার পথে। অথচ একটিবারের জন্যও তারা লাইব্রেরিতে যাননি। ফিল্ড ওয়ার্ক করেননি। কে তাদের থিসিস লিখল? ছুটি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কেউ ছুটি নিচ্ছেন না। আমরা পিএইচডি ডিগ্রিটাকে এখন হাস্যাস্পদ ব্যাপারে পরিণত করেছি। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে শুরু করে প্রায় সব বিষয়েই পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদের ওই ফিল্ডে নিজস্ব কোনো শিক্ষক নেই। ধার করা শিক্ষক দিয়ে তারা পিএইচডি কোর্স পরিচালনা করছে। এটি কি ঠিক? এর কি আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে? যদি সত্যিকার অর্থেই ডিগ্রি দিতে হয়, তাহলে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সিনিয়র শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ধার করা শিক্ষক দিয়ে পিএইচডি কোর্স পরিচালনা করা যাবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এ ব্যাপারে ইউজিসিকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার আহ্বান জানাচ্ছি। ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির ছড়াছড়ি রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতার চেয়েও মারাত্মক। সমাজকে তা অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার কথা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংসদের শিক্ষা-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি তৎপর হয়েছে। সংসদীয় কমিটির পরবর্তী সভায় আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি রয়েছে। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম তাদের ‘একটি’ ভূমিকা দেখার জন্য। এখন যেটা করার দরকার, তা হচ্ছেÑ ১. ইউজিসি অবিলম্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষকদের ‘ডাটাবেজ’ তৈরি করবে। এক মাসের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষকদের ডিগ্রির তালিকা দেবে এবং ইউজিসি তা যাচাই-বাছাই করবে এবং ভুয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে। ২. অনলাইন পিএইচডি যে একাডেমিক কোনো ডিগ্রি নয়, তা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করবে ও সতর্ক করবে। ৩. ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির ব্যবহার নিষিদ্ধ ও ব্যবহারকারীদের কঠোর শাস্তির বিধানসংবলিত আইন সংসদে পাস করতে হবে। অথবা প্রচলিত আইনে সংশোধনী আনতে হবে। ৪. প্রয়োজনে ইউজিসি এ সংক্রান্ত একটি ‘সেল’ গঠন করবে। ৫. প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি করে ‘সেল’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যারা তাদের শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রির মান পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। ৬. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রক্রিয়ায় বিশেষ কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপ করতে হবে। কোনো প্রার্থী পদে থেকে পিএইচডি করতে পারবেন না। আইন অনুসরণ করে ছুটি নিয়ে প্রার্থীকে গবেষণা পরিচালনা করতে হবে। ভাড়া করা শিক্ষক দিয়ে পিএইচডি কোর্স চালু করা যাবে না। কোনো বিভাগে ন্যূনতম ৪ থেকে ৫ জন অধ্যাপক না থাকলে, সেই বিভাগ পিএইচডি কোর্স চালু করতে পারবে না। ইউজিসি এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। একটা অদ্ভুত সমাজে আমরা বসবাস করছি। ভুয়া ডিগ্রি দেখিয়ে আমরা শিক্ষকতার চাকরি নিচ্ছি। বছরের পর বছর চাকরি করছি। কিন্তু ভুয়া ডিগ্রির খবর জানাজানি হয়ে গেলেও কোনো শাস্তি হচ্ছে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক কানেকশনে পার পেয়ে যাচ্ছেন। একটা অন্যায় আরেকটি অন্যায়ের জন্ম দেয়। একটি ভুয়া পিএইচডি আরেকটি ভুয়া পিএইচডির জন্ম দিচ্ছে। টাকার বিনিময়ে এখন পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে এই যে বেসাতি, তা পৃথিবীর কোনো দেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা ইউজিসির দায়িত্ব অনেক বেশি। আমরা আশ্বস্ত হতে চাই তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটি সঠিকভাবেই পালন করবেন। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র Daily Amader Somoy 16.11.14
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসছে?
19:21
No comments
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিপুল পরাজয়ের পর
যে প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হচ্ছে, ডেমোক্রেটদের এ পরাজয়
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ইঙ্গিত বহন করে কিনা? অর্থাৎ সোজাসাপটা যে
কথাটা মার্কিন টিভিতে বারবার আলোচিত হচ্ছে তা হল, ওবামা তার
পররাষ্ট্রনীতিতে আদৌ কোনো পরিবর্তন আনবেন কিনা? মার্কিন রাজনীতিতে
প্রেসিডেন্টের ভূমিকা সর্বাধিক হলেও প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়েই
তার পররাষ্ট্র তথা দেশরক্ষা নীতি পরিচালনা করতে হয়। একা প্রেসিডেন্ট
সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বটে, কিন্তু কংগ্রেস তা আটকে দিতেও পারে। তাই
প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের সমর্থন চাইতে হয়। সামনে অনেক ইস্যু- দেখতে হবে
ওবামা এসব ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেন।মধ্যপ্রাচ্যের আইএস জঙ্গিদের
উত্থান ও ইরাক-সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে নতুন একটি জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র
সুন্নিস্তান-এর জন্মের সম্ভাবনা প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য এক নম্বর ইস্যু।
প্রেসিডেন্ট সেখানে, বিশেষ করে ইরাকে আরও ১৫শ আমেরিকান সৈন্য পাঠানোর
সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইরাকে আরও আছে ১৪শ সৈন্য। এরা যুদ্ধে অংশ নেবে না বটে;
কিন্তু বলা হচ্ছে ইরাকি সেনাবাহিনী ও কুর্দি বাহিনীকে এরা প্রশিক্ষণ দেবে।
আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও কিছু সৈন্য
সেখানে থেকে যাবে। এই সৈন্য মোতায়েনের জন্য প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কাছে ৫
দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ চেয়েছেন। প্রশ্ন এখানেই- কংগ্রেস এই অর্থ অনুমোদন
করবে কি-না?দ্বিতীয়ত, ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে একটি খবর বেরিয়েছে যে,
ওবামা অত্যন্ত গোপনে গেল মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী
খামিনিকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ওই চিঠিতে ওবামা সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক
চুক্তির বিনিময়ে (ইরান-যুক্তরাষ্ট্র) ইরাক-সিরিয়ায় ইসলামিক জঙ্গিদের ঠেকাতে
ইরানের সহযোগিতা চেয়েছেন। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, ইরান
পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে, এই অভিযোগ ওবামা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের। এমনকি
একাধিকবার এমন কথাও বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানের
পারমাণবিক চুল্লিগুলোতে বোমা হামলা করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে
ছয়-জাতি আলোচনা চলে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও চীন এই ছয় জাতি আলোচনায়
শরিক হলেও কোনো ফলাফল তাতে পাওয়া যায়নি। এমনকি ওবামার ইরানি ধর্মীয় নেতাকে
চিঠি দেয়া ও সাহায্য চাওয়ার অর্থ হচ্ছে পরিষ্কার- ইরান এই অঞ্চলে একটি
ফ্যাক্টর। ইরানকে বাদ দিয়ে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। ফলে মার্কিন নীতিতে
পরিবর্তন আসছে। সুতরাং এই পরিবর্তন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের
সহাবস্থানের বিষয়টিকে কনজারভেটিভরা কীভাবে দেখাবে, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ইরানকে কতটুকু ছাড় দেবে, এ নিয়ে আলোচনার শেষ
নেই।কট্টরপন্থী সিনেটর ম্যাকেইন এখন সিনেটের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত
কমিটির চেয়ারম্যান। এ বছরের শেষ নাগাদ National Defense Authorization Act
পাস হবে কি-না, তাতে বড় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছরের প্রতিরক্ষা
বাজেট পাস হওয়ার কথা। এটা ৫২১ বিলিয়নে (৪৯৬ বিলিয়ন থেকে) উন্নীত করার
প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এটা পাস না হলে আটকে যাবে সমস্ত
সামরিক কার্যক্রম। ওবামা Overseas Contingency Fund-এর জন্য (বিদেশে সৈন্য
মোতায়েন বাবদ খরচ) ৭৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ফান্ডের প্রস্তাব করেছেন।
কিন্তু সিনেট অনুমোদন করেছে ৫৯ মিলিয়ন ডলার। দূরপাল্লার বিমান (এ-১০), যা
আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে
বিমানবাহিনী। এটা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা
বাজেট পাস হতে হবে। প্রতিরক্ষা বাজেটের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি এখন
ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাজেট পাস না হলে আইএস জঙ্গি দমনে অব্যাহত সামরিক
অভিযানে ভাটা পড়বে। রিপাবলিকানরা তা কি চাইবে? একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র
গঠনের সম্ভাবনাও বাড়ছে। এটা নিয়েও প্রশ্ন থাকবে।মার্কিন
পররাষ্ট্রনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক।
কংগ্রেস নির্বাচনে তার সমর্থকদের পরাজয়ের পর প্রথম সফর হিসেবে ওবামা চীনে
যান। সেখানে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (আপেক) যোগ দেন। এরপর
যান মিয়ানমারে ইস্ট এশিয়া সামিটে যোগ দিতে। মিয়ানমারে এটা তার দ্বিতীয়
সফর। দ্বিতীয়বার নির্বাচনের পরপরই (২০১২) তিনি মিয়ানমার সফর করেছিলেন। এবার
যান অস্ট্রেলিয়ায় জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক
আগামীতে কোনদিকে গড়ায়, এ ব্যাপারে বিশ্লেষকদের আগ্রহ এখন অনেক বেশি। চীন
এখন বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি। অভিযোগ আছে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ধীরে
ধীরে ঘিরে ফেলার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সামরিক ও
অর্থনৈতিকভাবে চীনকে দুর্বল করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। অর্থনৈতিক
ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ফ্রি
ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা টিপিপিএফটি করার। প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে চীনকে রাখা
হয়নি। অথচ এশিয়ার তথা প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি চীন। ২০০৯
সালে প্রথম টিপিপিএফটির কথা জানা যায়। এখন এই চুক্তির আওতায় আছে ১১টি দেশ-
অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, কানাডা,
পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার
প্রক্রিয়া চলছে। ২০১২ সালে এই অঞ্চলের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫
ট্রিলিয়ন ডলার। আর সেবাখাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৪২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব
জিডিপির ৪০ ভাগ এ অঞ্চলের। আর বিশ্ব বাণিজ্যের ২৬ ভাগ পরিচালিত হয় এ
অঞ্চলে। তবে চীনকে বাদ দিয়ে এই চুক্তি নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। আগামী বছর
এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ নিয়ে
প্রশ্ন থাকবেই। রিপাবলিকানরা চাইবে অতি দ্রুত এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হোক।
তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, চীন ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের দুটি বড়
অর্থনীতির একটি জোট গঠিত হল। দক্ষিণ কোরিয়া অনেক আগেই মধ্যম সারির
অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার
মোট রফতানির ২৬ দশমিক ০৫ ভাগ রফতানি হয়েছে চীনে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে
রফতানি হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ০৯ ভাগ। বলা হচ্ছে ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার
রফতানি (এই অঞ্চলে) বাড়বে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে, যা মোট রফতানির ৩৯ দশমিক ৫
ভাগ। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ২১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এখন প্রশ্ন থাকবে
টিপিপিএফটি চালু হলে চীন-দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের ওপর তা কতটুকু প্রভাব
ফেলবে? একই সঙ্গে চীন, রাশিয়া, ভারত ও ব্রাজিলকে নিয়ে ব্রিকস ব্যাংক গড়ে
তুলেছে, যা কিনা বিশ্বব্যাংকের কর্তৃত্ব ও প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে যাচ্ছে।
চীন ইতিমধ্যে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক গঠন করেছে।
বাংলাদেশের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ এই ব্যাংকের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আগ্রহ
প্রকাশ করেছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে চীনের এই ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র আগামীতে
খুব ভালো চোখে দেখবে বলে মনে হয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্র চীনের এই ভূমিকাকে
অস্বীকার করতে পারবে না। কেননা যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। চীন
যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস ও তেল আহরণ ক্ষেত্রে, রিয়েল স্টেট ব্যবসা, কৃষিতে
প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হলে এই বিনিয়োগে তা
প্রভাব ফেলবে। অনেকেরই জানার কথা যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ
নিয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের
পক্ষে চীনকে অস্বীকার করা সহজ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় চীন অর্থনৈতিক
ক্ষেত্রে, মুদ্রা বিনিময় ক্ষেত্রে আরও উদার হোক। যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন
ধরেই চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আলোচনা
খুব একটা এগিয়ে যায়নি। পরিবেশ, বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নির্গমন
ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার তীব্র সমালোচক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।বৈশ্বিক
উষ্ণতা হ্রাসের জন্য একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার উল্লেখ করা
হচ্ছে। কপ সম্মেলনে বারবার এ কথাগুলো বলা হয়। এক্ষেত্রে বড় অর্থনীতির
দেশগুলোর দিকে (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র) আঙুল নির্দেশ করা হলে,
যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনের কথা বলছে। কেননা ইতিমধ্যে চীন বায়ুমণ্ডলে অন্যতম
কার্বন নির্গমনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। চীনের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গৌণ। তেমন
কোনো উদ্যোগ চীন নেয়নি। ফলে এ প্রশ্নে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিমত
আছে।সামরিক ক্ষেত্রেও পারস্পরিক অবিশ্বাস আছে। চীন রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছে। মধ্য এশিয়ায়
তথা জ্বালানি সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করছে এই
সংস্থাটি। শুধু তাই নয়, পূর্ব চীন সাগরে চীন একটি এয়ার ডিফেন্স
আইডেনটিফিকেশন জোন গড়ে তুলেছে। অর্থাৎ বিতর্কিত ও তেলসম্পদ সমৃদ্ধ এই
অঞ্চলে চীন অন্য কারও কর্তৃত্ব স্বীকার করে না। এটা পরোক্ষভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে আঘাত করার শামিল। এ অঞ্চলে চীনের ভূমিকাকে অনেক
পর্যবেক্ষক চীনা মনরো ডকট্রিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের
বিখ্যাত মনরো ডকট্রিনের সময় যা ছিল ইউরোপীয় শক্তি (অর্থাৎ মার্কিন এলাকায়
কোনো ইউরোপীয় শক্তির জড়িত থাকাকে চ্যালেঞ্জ করা), এক্ষেত্রে চীনা এলাকায়
কোনো বিদেশী শক্তির (জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র) জড়িত থাকার বিষয়টি চীনাদের
অপছন্দ। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সম্পর্ককে অনেকে থুসিডিডেজ ফাঁদ
(Thucydides Trap) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ
থুসিডিডেজের নামে এই মতবাদের নামকরণ। এই মতবাদের মূল বিষয়টি হচ্ছে একটি
উঠতি শক্তির সঙ্গে একটি স্বীকৃত শক্তির দ্বন্দ্ব। চীন উঠতি শক্তি ও
যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃত শক্তি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দুই শক্তির মধ্যকার
সম্পর্ক প্রভাব বিস্তার করার প্রতিযোগিতাকে লুসিডিডেজ ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত
করা হয়েছে।
ওবামার চীন সফরের সময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু আলোচনা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে, এটা বলা যাবে না। এমনকি ওবামার হংকংয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্তব্যও চীনা নেতারা খুব ভালোভাবে নেবেন না। সুতরাং রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস যে চীনের ব্যাপারে আরও কড়া নীতি গ্রহণ করবে, এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং ওবামার জন্য আগামী দুবছর খুব একটা ভালো সময় কাটবে না।রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন আছে। ইউক্রেনের ব্যাপারে রাশিয়ার আগ্রাসী নীতির প্রশ্নে অনেক কংগ্রেস নেতার আপত্তি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পুতিন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মানসিকতা নিয়ে রাশিয়াকে পরিচালনা করছেন। রিপাবলিকানরা এতে অখুশি এবং রাশিয়ার ওপর আরও কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপের পক্ষপাতী। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এখন অবধি ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেয়নি। এখন পর্যন্ত রাশিয়া এর প্রতিবাদ করে আসছে। কিন্তু একবার যদি ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেয়, তাহলে ন্যাটোর সনদের ৫নং ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে পাশে এসে দাঁড়াবে ইউক্রেনের। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে সীমিত যুদ্ধের সম্ভাবনা অনিবার্য।মিডটার্ম নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ওবামার অনেক সিদ্ধান্ত বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সিদ্ধান্ত সিনেট সমর্থন করেছে। এখন সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ কোনোটারই নিয়ন্ত্রণ তার সমর্থক অর্থাৎ ডেমোক্রেটদের হাতে নেই। ফলে আগামী দুবছর ওবামার জন্য হবে অত্যন্ত কঠিন এক সময়। এক্ষেত্রে ওবামা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার প্রশাসনিক ক্ষমতা কিংবা তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন বটে, কিন্তু তাতে করে কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী একটি দ্বন্দ্বে তিনি জড়িয়ে যাবেন। ফলে প্রশাসনের গতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আবার রিপাবলিকানদের কট্টর মনোভাব (মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা) বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেতিবাচক ইমেজের জন্ম দেবে। তাই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় একটি কমপ্রোমাইজ দরকার। কংগ্রেসকে যেমনি প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা রাখতে হবে, ঠিক তেমনি প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস নেতাদের আস্থায় নিতে হবে। দেখা যাক, আগামী দুবছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কী পরিবর্তন আসে। ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র Daily JUGANTOR 14.11.14
ওবামার চীন সফরের সময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু আলোচনা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে, এটা বলা যাবে না। এমনকি ওবামার হংকংয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্তব্যও চীনা নেতারা খুব ভালোভাবে নেবেন না। সুতরাং রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস যে চীনের ব্যাপারে আরও কড়া নীতি গ্রহণ করবে, এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং ওবামার জন্য আগামী দুবছর খুব একটা ভালো সময় কাটবে না।রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন আছে। ইউক্রেনের ব্যাপারে রাশিয়ার আগ্রাসী নীতির প্রশ্নে অনেক কংগ্রেস নেতার আপত্তি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পুতিন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মানসিকতা নিয়ে রাশিয়াকে পরিচালনা করছেন। রিপাবলিকানরা এতে অখুশি এবং রাশিয়ার ওপর আরও কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপের পক্ষপাতী। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এখন অবধি ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেয়নি। এখন পর্যন্ত রাশিয়া এর প্রতিবাদ করে আসছে। কিন্তু একবার যদি ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেয়, তাহলে ন্যাটোর সনদের ৫নং ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে পাশে এসে দাঁড়াবে ইউক্রেনের। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে সীমিত যুদ্ধের সম্ভাবনা অনিবার্য।মিডটার্ম নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ওবামার অনেক সিদ্ধান্ত বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সিদ্ধান্ত সিনেট সমর্থন করেছে। এখন সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ কোনোটারই নিয়ন্ত্রণ তার সমর্থক অর্থাৎ ডেমোক্রেটদের হাতে নেই। ফলে আগামী দুবছর ওবামার জন্য হবে অত্যন্ত কঠিন এক সময়। এক্ষেত্রে ওবামা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার প্রশাসনিক ক্ষমতা কিংবা তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন বটে, কিন্তু তাতে করে কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী একটি দ্বন্দ্বে তিনি জড়িয়ে যাবেন। ফলে প্রশাসনের গতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জিত হবে না। আবার রিপাবলিকানদের কট্টর মনোভাব (মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা) বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেতিবাচক ইমেজের জন্ম দেবে। তাই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় একটি কমপ্রোমাইজ দরকার। কংগ্রেসকে যেমনি প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা রাখতে হবে, ঠিক তেমনি প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস নেতাদের আস্থায় নিতে হবে। দেখা যাক, আগামী দুবছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কী পরিবর্তন আসে। ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র Daily JUGANTOR 14.11.14
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ
07:39
No comments
গত
২৯ অক্টোবর হংকংয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে গণতন্ত্রকামীদের বৈঠকের পর খুব
সঙ্গত কারণেই একটি প্রশ্ন উঠেছে। তা হচ্ছে হংকংয়ের ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে?
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পরিচালিত এই আন্দোলন কি শেষ পর্যন্ত
ব্যর্থতায় পরিণত হলো? বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যারা ছিল মূলত তরুণ, তারা কি
শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবে, নাকি রণে ভঙ্গ দেবে এটাও একটি মৌলিক
প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গেল এক মাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় এই
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের খবর ফলাও করে প্রচারিত হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল
হংকংয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার। তাদের দাবি ছিল হংকংয়ের যে পার্লামেন্ট,
সেখানকার সদস্যরা জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত হবেন। একই সঙ্গে হংকংয়ের
প্রধান নির্বাহীও জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ২১ অক্টোবর
দু’পক্ষের মাঝে (বিক্ষোভকারী ও হংকং প্রশাসন) যে সংলাপ হয় এবং যা টিভিতে
সরাসরি প্রচারিত হয় তা এক রকম ব্যর্থতায়ই পরিণত হয়েছে। কেননা কোনো
সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় কোনো পক্ষ রাজি হয়নি। ফলে একটা প্রশ্ন থেকেই গেল
হংকংয়ের ভবিষ্যৎ আসলে কি?
অনেকেই জানেন ১৯৯৭ সালে হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ‘এক দেশ দুই অর্থনীতি’ তত্ত্বের আলোকে হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। প্রয়াত চীনা নেতা দেং জিয়াও পিং ছিলেন এই তত্ত্বের প্রবক্তা। অর্থাৎ হংকং তার পুঁজিবাদী অর্থনীতি নিয়েই চীনের সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির সঙ্গে একত্রিত হয়েছিল। হংকংয়ে সমাজতান্ত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাও প্রবর্তিত হয়নি। হংকংয়ে একটি পার্লামেন্ট আছে। এর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৭০ জন (অন্তর্ভুক্তির পরে ১৯৯৮ সালে ছিল ৬০ জন)। এরা তিনভাবে নির্বাচিত হন। ‘বেসিক ল’ (যা অনেকটা সংবিধানের আলোকে) মতে ভৌগোলিক অঞ্চল অর্থাৎ জেলা থেকে সরাসরি নির্বাচিত হন ৩৫ জন। তথাকথিত পেশাভিত্তিক প্রতিনিধির রয়েছেন ৩৫ জন (বিভিন্ন পেশা)। প্রথম দিকে নির্বাচন কমিটির একটা প্রতিনিধিত্ব ছিল এখন তা আর নেই। অন্যদিকে প্রধান নির্বাহী একটি প্রাথমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে তার ক্ষমতা পরিচালনা করেন। এই প্রশাসনিক কাউন্সিলে রয়েছেন ২৯ জন সদস্য। ১৫ জন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা আর ১৪ জন সাধারণ প্রতিনিধি। চীনের পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটি সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে। প্রধান নির্বাহী তার কাছে দায়বদ্ধ। গণতন্ত্রকামীরা এর পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু তা হয়নি।
এখন প্রশ্ন একটাই-হংকংয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন কি কোনো মেসেজ দিয়ে গেল? কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াতে এই আন্দোলন নিয়ে মাতামাতি কম দেখছি না। শত শত চ্যানেলের ভিড়ে কোথাও না কোথাও হংকংয়ের এই আন্দোলন ও চীনের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। অনেকেই হংকংয়ের এই আন্দোলন, যা কিনা পরিচিতি পেয়েছে ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ হিসেবে, তার সঙ্গে আরব বসন্ত সময়কালীন কায়রোতে যে আন্দোলন হয়েছিল তার একটা মিল খোঁজার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট’ হয়েছে, তার সঙ্গে হংকং অক্যুপাই আন্দোলনের যেমনি মিল আছে, তেমনি আছে অমিলও। খোদ নিউইয়র্ক শহরে ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ বড় ধরনের আবেদন সৃষ্টি করতে পারলেও তাতে পরিবর্তন এসেছে অতি সামান্যই। মানুষ এখন আর ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর কথা মনে করে না। তবে মিসরের রাজধানী কায়রোতে যে অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট হয়েছিল তাতে পরিবর্তন এসেছিল। হোসনি মোবারকের পতন, মুরসির উত্থান ও পতন এবং সর্বশেষ সিসির ক্ষমতা করায়ত্ত করার মধ্য দিয়ে ‘আরব বসন্ত’-এর নতুন ইতিহাস এখন রচিত হয়েছে। থাইল্যান্ডের অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের খবরও আমরা জানি। প্রতিবাদের এটা একটা ধরন। এই প্রতিবাদ কোথাও কোথাও সরকারের পতন ঘটিয়েছে এটা সত্য। তবে সাধারণ মানুষ এ ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছে খুব কম ক্ষেত্রেই। অনেক ক্ষেত্রেই একটি বিশেষ শ্রেণী এই আন্দোলন থেকে ফায়দা উঠিয়েছে। মিসরে সাধারণ মানুষ এই অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট থেকে যেমনি উপকৃত হয়নি, ঠিক তেমনি ইউক্রেন কিংবা থাইল্যান্ডের মানুষের জন্যও তা কোনো সুফল ডেকে আনেনি। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অতিসম্প্রতি এক ধরনের ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট’ আমরা লক্ষ্য করেছি, কিন্তু তাতে সরকারের পতন হয়নি। এমনি এক প্রেক্ষাপট আমরা প্রত্যক্ষ করেছি হংকংয়ে ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল।’ তবে ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’-এর সঙ্গে অন্যান্য ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের’ কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেননা ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ হংকংয়ে সরকার পরিবর্তনের কোনো আন্দোলন নয়; বরং বলা যেতে পারে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কার। আরো বেশি গণতন্ত্র। ২০১৭ সালে হংকংয়ে প্রধান প্রশাসনিক পদের জন্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯৭ সালে হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হলেও হংকং তার অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য এখনো বজায় রেখেছে। অর্থাৎ এখানে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। তবে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এখনো চীনের হাতে। অর্থাৎ চীন এখানে একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এই প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ চীনের প্রতি দায়বদ্ধ। সমস্যাটা তৈরি হয়েছে এখানেই। হংকংয়ের গণতন্ত্রকামীরা চাচ্ছে এখানে পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন হোক। অর্থাৎ ‘এক মাথা এক ভোট’ ভিত্তিতে দলগতভাবে এখানে নির্বাচন হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হংকংয়ের প্রশাসন পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে চীন যে সংস্কারের কথা বলেছে (প্রধান প্রশাসনিক ব্যক্তির নির্বাচন) সেখানে দলগতভাবে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। চীনা কর্তৃপক্ষ একটি তালিকা তৈরি করে দেবে এবং জনগণ ওই তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেবে। চীনা কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাব গণতন্ত্রকামীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা মধ্য হংকংয়ের মংকক এলাকা দখল করে নিয়ে অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের জন্ম দিয়েছিল।
হংকংয়ের অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের ইতিহাস খুঁজে দেখা গেছে এই আন্দোলন তরুণদের দ্বারা পরিচালিত হলেও এর তাত্ত্বিক হচ্ছেন অধ্যাপক বেনই তাই নামে এক ব্যক্তি। তিনি হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর কম্পারেটিভ অ্যান্ড পাবলিক ল-এর তিনি অধ্যাপক। তিনি দু’বছর আগে তত্ত্বগতভাবে এ ধরনের একটি আন্দোলনের কথা বলেন। অহিংস পদ্ধতিতে, অনেকটা গান্ধীবাদী নীতির আলোকে তিনি হংকংয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। তার এই গান্ধীবাদী নীতি অনুসরণ করে তরুণরা, যাদের অধিকাংশই ছাত্র এই ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট’-এর জন্ম দিয়েছে। হংকংয়ের ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস এই আন্দোলনে নিজেদের জড়িত করেছে। আর মজার ব্যাপার এর নেতৃত্বে রয়েছে ১৭ বছরের এক যুবক, যার নাম জসুয়া ওং। জসুয়া ওং নিজে এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। তবে এই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্ট্র্যাটেজি, তারই অংশ হিসেবে জন্ম হয়েছে হংকং ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ আন্দোলনের। চীনকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হংকংয়ের তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন এই পরিকল্পনার একটি অংশমাত্র। যুক্তরাষ্ট্র এনডিআই বা ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি’ নামক সংস্থার মাধ্যমে হংকংয়ের গণতন্ত্রকামীদের প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করেছে। অধ্যাপক বেনই তাইকে তারাই তৈরি করেছে এবং অধ্যাপক তাইকে সামনে রেখেই গঠন করা হয়েছে ‘সেন্টার ফর কম্পারেটিভ অ্যান্ড পাবলিক ল’ নামের একটি থিংক ট্যাঙ্ক, একটি গবেষণা সংস্থা। এনডিআইয়ের অর্থায়নে হংকংয়ে মার্টিন লি’র নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। মার্টিন লি নিজে ২০১৪ সালে ও অধ্যাপক তাই ওয়াশিংটন সফর করেছেন একাধিকবার। শুধু তা-ই নয়, হংকংয়ে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চালু ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে যে রেফারেন্ডাম বা গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল তারও অর্থায়ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। হংকংয়ের ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ (পাঁচ ভাগের এক ভাগ) ওই গণভোটে অংশ নিয়েছিল। মিসরেও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের গণভোটের আয়োজন করেছিল। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইউএসএইডয়ের হংকংয়ে সাহায্যের পরিমাণও বেড়েছিল। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে হংকংয়ে একটি তথাকথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে। উদ্দেশ্য, মূল চীনে এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে দেয়া ও চীনের চূড়ান্ত বিচারে চীনা সরকারের পতন ঘটানো। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যুক্তরাষ্ট্র হংকংয়ে গণতন্ত্র চায় বটে (?), কিন্তু সেখানকার জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। হংকংয়ে ঘণ্টাপ্রতি যে বেতন দেয়া হয় (৩ দশমিক ৬০ ডলার), তা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের গড় বেতনের অর্ধেক। শুধু তা-ই নয়, হংকংয়ে এ জীবনযাত্রার খরচ এত বেশি যে, অনেককে খরচ মেটানোর জন্য দুটি চাকরি পর্যন্ত
করতে হয়। গণতন্ত্র সেখানে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে পারবে না। গণতন্ত্র বোধকরি হংকংয়ের সমস্যার কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারবে না। সুতরাং হংকংয়ের এই আন্দোলন কি আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে চীনের ওপর?
গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে আমরা যা বুঝি, সেই সংস্কৃতি হংকংয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। চীনা নেতৃত্ব এটা মানবে না। কেননা এতে চীনের অন্যান্য অঞ্চলে এই আন্দোলনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে ২০১৭ সালে হংকংয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা নির্বাচনের ব্যাপারে আরো কিছুটা ছাড় দিতে পারে চীন। প্রার্থীদের যে তালিকা চীন অনুমোদন করবে, সেখানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। হংকংয়ের বিকল্প হিসেবে সাংহাই, শেন ঝেন কিংবা গুয়াং ঝো এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। হংকংয়ের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এখন আর সাধারণ চীনাদের আকৃষ্ট করে না; বরং শেন ঝেন কিংবা গুয়াং ঝোর মতো এলাকায় ‘নতুন অর্থনৈতিক জোন’ গঠিত হয়েছে, যেখানে জীবনযাত্রায় একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। মানুষের আয় বেড়েছে। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। শুধু তা-ই নয়, চীনা নেতৃত্ব চীনের অর্থনীতিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে চীনের অর্থনীতিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। ২০৫০ সালের মধ্যেই চীন হবে বিশ্বের একমাত্র বড় অর্থনীতি। ফলে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে চীনা নেতৃত্ব সজাগ রয়েছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং অত্যন্ত প্রাগমেটিক। তিনি চীনা অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করে দেবেন। জাতীয় স্বার্থকে তিনি গুরুত্ব দেবেন। একটি ‘মার্কিনি ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে তিনি ও তার পলিটব্যুরোর সদস্যরা সচেতন। চীনা অর্থনৈতিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে টিপিপি (ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) চুক্তি করতে চাচ্ছে, তাতে চীনকে রাখা হয়নি। এটা চীনবিরোধি একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। চীনা নেতৃত্ব এটা বোঝেন, তাই চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে জন্ম হতে যাচ্ছে একটি ‘নয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’, যা পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আঘাত করবে। জন্ম দেবে বিকল্প একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার। এ লক্ষ্যেই ২০১৬ সালে ব্রিকস ব্যাংক আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তাই হংকংয়ের তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন যে পরোক্ষভাবে চীনা নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল, এটা চীনা নেতারা উপলব্ধি করেছেন। চীনে পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র বিনির্মাণ সম্ভব নয়। চীন গণতন্ত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। চীনে তথাকথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চীনা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সেখানেই লুকায়িত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এখন চাচ্ছে চীনও একাধিক চীনা রাষ্ট্রে বিভক্ত হোক। তবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা সেনাবাহিনী এখনো পরস্পর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। চীনা সেনাবাহিনী এখনো পার্টির নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। ফলে চীনে হংকংয়ের মতো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে অদূর ভবিষ্যতে চীনে একটি ‘সিঙ্গাপুর মডেল’-এর জন্ম হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। চীন এখন আর ধ্রুপদী মার্কসবাদ দ্বারা পরিচালিত হয় না। তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত খাতের বিকাশ ঘটিয়ে ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি’ নামে নতুন এক অর্থনীতি চালু করেছে। এর ফলও তারা পেয়েছে। চীন এখন বিশ্বের বড় অর্থনীতি। সুতরাং হংকংয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন হংকয়ের ব্যাপারে চীনা নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় হংকংয়ের প্রশাসনিক কাউন্সিলের যিনি প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, সেই মিসেস ক্যারী লাম একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন আলোচনার পর। তিনি বলেছেন, হংকংয়ের এই আন্দোলনের পেছনে ‘বৈদেশিক শক্তি’র সম্পর্কিততা রয়েছে। যদিও তিনি বলেননি এই ‘বৈদেশিক শক্তি’ কারা। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূমিকার ব্যাপারে চীনা সরকারি ভাষ্যে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও সেই সঙ্গে পশ্চিমা শক্তি যদি হংকংকে আরো অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অবনতি ঘটতে বাধ্য। নিশ্চয়ই মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা এটি উপলব্ধি করবেন। কেননা পরিবর্তিত বিশ্বরাজনীতির বিকাশে চীনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ভূমিকাকে অবজ্ঞা করতে পারে না। তখন হংকংয়ের ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, যে ‘আবেদন’ নিয়ে এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল, সেই ‘আবেদন’ এখন আর নেই। গত পাঁচ মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা এসে গেছে। তারা চান না এ ধরনের অরাজকতা দীর্ঘদিন বজায় থাকুক এবং তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। হংকংয়ের ‘বেসিক ল’তে ধীরে ধীরে সব পর্যায়ের নির্বাচন জনগণের ভোটে অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যদি এদিকে লক্ষ্য রাখেন, তাহলে ভালো করবেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, নিউইয়র্কের ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনের মতো ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ আন্দোলনও ব্যর্থ হলো। Daily Manob Kontho 11.11.14
অনেকেই জানেন ১৯৯৭ সালে হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ‘এক দেশ দুই অর্থনীতি’ তত্ত্বের আলোকে হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। প্রয়াত চীনা নেতা দেং জিয়াও পিং ছিলেন এই তত্ত্বের প্রবক্তা। অর্থাৎ হংকং তার পুঁজিবাদী অর্থনীতি নিয়েই চীনের সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির সঙ্গে একত্রিত হয়েছিল। হংকংয়ে সমাজতান্ত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাও প্রবর্তিত হয়নি। হংকংয়ে একটি পার্লামেন্ট আছে। এর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৭০ জন (অন্তর্ভুক্তির পরে ১৯৯৮ সালে ছিল ৬০ জন)। এরা তিনভাবে নির্বাচিত হন। ‘বেসিক ল’ (যা অনেকটা সংবিধানের আলোকে) মতে ভৌগোলিক অঞ্চল অর্থাৎ জেলা থেকে সরাসরি নির্বাচিত হন ৩৫ জন। তথাকথিত পেশাভিত্তিক প্রতিনিধির রয়েছেন ৩৫ জন (বিভিন্ন পেশা)। প্রথম দিকে নির্বাচন কমিটির একটা প্রতিনিধিত্ব ছিল এখন তা আর নেই। অন্যদিকে প্রধান নির্বাহী একটি প্রাথমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে তার ক্ষমতা পরিচালনা করেন। এই প্রশাসনিক কাউন্সিলে রয়েছেন ২৯ জন সদস্য। ১৫ জন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা আর ১৪ জন সাধারণ প্রতিনিধি। চীনের পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটি সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে। প্রধান নির্বাহী তার কাছে দায়বদ্ধ। গণতন্ত্রকামীরা এর পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু তা হয়নি।
এখন প্রশ্ন একটাই-হংকংয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন কি কোনো মেসেজ দিয়ে গেল? কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াতে এই আন্দোলন নিয়ে মাতামাতি কম দেখছি না। শত শত চ্যানেলের ভিড়ে কোথাও না কোথাও হংকংয়ের এই আন্দোলন ও চীনের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। অনেকেই হংকংয়ের এই আন্দোলন, যা কিনা পরিচিতি পেয়েছে ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ হিসেবে, তার সঙ্গে আরব বসন্ত সময়কালীন কায়রোতে যে আন্দোলন হয়েছিল তার একটা মিল খোঁজার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট’ হয়েছে, তার সঙ্গে হংকং অক্যুপাই আন্দোলনের যেমনি মিল আছে, তেমনি আছে অমিলও। খোদ নিউইয়র্ক শহরে ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ বড় ধরনের আবেদন সৃষ্টি করতে পারলেও তাতে পরিবর্তন এসেছে অতি সামান্যই। মানুষ এখন আর ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’-এর কথা মনে করে না। তবে মিসরের রাজধানী কায়রোতে যে অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট হয়েছিল তাতে পরিবর্তন এসেছিল। হোসনি মোবারকের পতন, মুরসির উত্থান ও পতন এবং সর্বশেষ সিসির ক্ষমতা করায়ত্ত করার মধ্য দিয়ে ‘আরব বসন্ত’-এর নতুন ইতিহাস এখন রচিত হয়েছে। থাইল্যান্ডের অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের খবরও আমরা জানি। প্রতিবাদের এটা একটা ধরন। এই প্রতিবাদ কোথাও কোথাও সরকারের পতন ঘটিয়েছে এটা সত্য। তবে সাধারণ মানুষ এ ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছে খুব কম ক্ষেত্রেই। অনেক ক্ষেত্রেই একটি বিশেষ শ্রেণী এই আন্দোলন থেকে ফায়দা উঠিয়েছে। মিসরে সাধারণ মানুষ এই অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট থেকে যেমনি উপকৃত হয়নি, ঠিক তেমনি ইউক্রেন কিংবা থাইল্যান্ডের মানুষের জন্যও তা কোনো সুফল ডেকে আনেনি। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অতিসম্প্রতি এক ধরনের ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট’ আমরা লক্ষ্য করেছি, কিন্তু তাতে সরকারের পতন হয়নি। এমনি এক প্রেক্ষাপট আমরা প্রত্যক্ষ করেছি হংকংয়ে ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল।’ তবে ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’-এর সঙ্গে অন্যান্য ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের’ কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেননা ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ হংকংয়ে সরকার পরিবর্তনের কোনো আন্দোলন নয়; বরং বলা যেতে পারে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কার। আরো বেশি গণতন্ত্র। ২০১৭ সালে হংকংয়ে প্রধান প্রশাসনিক পদের জন্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯৭ সালে হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হলেও হংকং তার অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্য এখনো বজায় রেখেছে। অর্থাৎ এখানে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। তবে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এখনো চীনের হাতে। অর্থাৎ চীন এখানে একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এই প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ চীনের প্রতি দায়বদ্ধ। সমস্যাটা তৈরি হয়েছে এখানেই। হংকংয়ের গণতন্ত্রকামীরা চাচ্ছে এখানে পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন হোক। অর্থাৎ ‘এক মাথা এক ভোট’ ভিত্তিতে দলগতভাবে এখানে নির্বাচন হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হংকংয়ের প্রশাসন পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে চীন যে সংস্কারের কথা বলেছে (প্রধান প্রশাসনিক ব্যক্তির নির্বাচন) সেখানে দলগতভাবে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। চীনা কর্তৃপক্ষ একটি তালিকা তৈরি করে দেবে এবং জনগণ ওই তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেবে। চীনা কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাব গণতন্ত্রকামীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা মধ্য হংকংয়ের মংকক এলাকা দখল করে নিয়ে অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের জন্ম দিয়েছিল।
হংকংয়ের অক্যুপাই ম্যুভমেন্টের ইতিহাস খুঁজে দেখা গেছে এই আন্দোলন তরুণদের দ্বারা পরিচালিত হলেও এর তাত্ত্বিক হচ্ছেন অধ্যাপক বেনই তাই নামে এক ব্যক্তি। তিনি হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর কম্পারেটিভ অ্যান্ড পাবলিক ল-এর তিনি অধ্যাপক। তিনি দু’বছর আগে তত্ত্বগতভাবে এ ধরনের একটি আন্দোলনের কথা বলেন। অহিংস পদ্ধতিতে, অনেকটা গান্ধীবাদী নীতির আলোকে তিনি হংকংয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। তার এই গান্ধীবাদী নীতি অনুসরণ করে তরুণরা, যাদের অধিকাংশই ছাত্র এই ‘অক্যুপাই ম্যুভমেন্ট’-এর জন্ম দিয়েছে। হংকংয়ের ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস এই আন্দোলনে নিজেদের জড়িত করেছে। আর মজার ব্যাপার এর নেতৃত্বে রয়েছে ১৭ বছরের এক যুবক, যার নাম জসুয়া ওং। জসুয়া ওং নিজে এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। তবে এই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্ট্র্যাটেজি, তারই অংশ হিসেবে জন্ম হয়েছে হংকং ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ আন্দোলনের। চীনকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হংকংয়ের তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন এই পরিকল্পনার একটি অংশমাত্র। যুক্তরাষ্ট্র এনডিআই বা ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি’ নামক সংস্থার মাধ্যমে হংকংয়ের গণতন্ত্রকামীদের প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করেছে। অধ্যাপক বেনই তাইকে তারাই তৈরি করেছে এবং অধ্যাপক তাইকে সামনে রেখেই গঠন করা হয়েছে ‘সেন্টার ফর কম্পারেটিভ অ্যান্ড পাবলিক ল’ নামের একটি থিংক ট্যাঙ্ক, একটি গবেষণা সংস্থা। এনডিআইয়ের অর্থায়নে হংকংয়ে মার্টিন লি’র নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। মার্টিন লি নিজে ২০১৪ সালে ও অধ্যাপক তাই ওয়াশিংটন সফর করেছেন একাধিকবার। শুধু তা-ই নয়, হংকংয়ে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চালু ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে যে রেফারেন্ডাম বা গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল তারও অর্থায়ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। হংকংয়ের ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ (পাঁচ ভাগের এক ভাগ) ওই গণভোটে অংশ নিয়েছিল। মিসরেও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের গণভোটের আয়োজন করেছিল। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইউএসএইডয়ের হংকংয়ে সাহায্যের পরিমাণও বেড়েছিল। ২০১২ সালে এর পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে হংকংয়ে একটি তথাকথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে। উদ্দেশ্য, মূল চীনে এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে দেয়া ও চীনের চূড়ান্ত বিচারে চীনা সরকারের পতন ঘটানো। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যুক্তরাষ্ট্র হংকংয়ে গণতন্ত্র চায় বটে (?), কিন্তু সেখানকার জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। হংকংয়ে ঘণ্টাপ্রতি যে বেতন দেয়া হয় (৩ দশমিক ৬০ ডলার), তা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের গড় বেতনের অর্ধেক। শুধু তা-ই নয়, হংকংয়ে এ জীবনযাত্রার খরচ এত বেশি যে, অনেককে খরচ মেটানোর জন্য দুটি চাকরি পর্যন্ত
করতে হয়। গণতন্ত্র সেখানে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে পারবে না। গণতন্ত্র বোধকরি হংকংয়ের সমস্যার কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারবে না। সুতরাং হংকংয়ের এই আন্দোলন কি আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে চীনের ওপর?
গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে আমরা যা বুঝি, সেই সংস্কৃতি হংকংয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। চীনা নেতৃত্ব এটা মানবে না। কেননা এতে চীনের অন্যান্য অঞ্চলে এই আন্দোলনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে ২০১৭ সালে হংকংয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা নির্বাচনের ব্যাপারে আরো কিছুটা ছাড় দিতে পারে চীন। প্রার্থীদের যে তালিকা চীন অনুমোদন করবে, সেখানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। হংকংয়ের বিকল্প হিসেবে সাংহাই, শেন ঝেন কিংবা গুয়াং ঝো এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। হংকংয়ের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এখন আর সাধারণ চীনাদের আকৃষ্ট করে না; বরং শেন ঝেন কিংবা গুয়াং ঝোর মতো এলাকায় ‘নতুন অর্থনৈতিক জোন’ গঠিত হয়েছে, যেখানে জীবনযাত্রায় একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। মানুষের আয় বেড়েছে। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। শুধু তা-ই নয়, চীনা নেতৃত্ব চীনের অর্থনীতিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে চীনের অর্থনীতিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। ২০৫০ সালের মধ্যেই চীন হবে বিশ্বের একমাত্র বড় অর্থনীতি। ফলে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে চীনা নেতৃত্ব সজাগ রয়েছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং অত্যন্ত প্রাগমেটিক। তিনি চীনা অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করে দেবেন। জাতীয় স্বার্থকে তিনি গুরুত্ব দেবেন। একটি ‘মার্কিনি ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে তিনি ও তার পলিটব্যুরোর সদস্যরা সচেতন। চীনা অর্থনৈতিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে টিপিপি (ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) চুক্তি করতে চাচ্ছে, তাতে চীনকে রাখা হয়নি। এটা চীনবিরোধি একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। চীনা নেতৃত্ব এটা বোঝেন, তাই চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে জন্ম হতে যাচ্ছে একটি ‘নয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’, যা পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আঘাত করবে। জন্ম দেবে বিকল্প একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার। এ লক্ষ্যেই ২০১৬ সালে ব্রিকস ব্যাংক আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তাই হংকংয়ের তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন যে পরোক্ষভাবে চীনা নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল, এটা চীনা নেতারা উপলব্ধি করেছেন। চীনে পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র বিনির্মাণ সম্ভব নয়। চীন গণতন্ত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। চীনে তথাকথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চীনা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সেখানেই লুকায়িত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এখন চাচ্ছে চীনও একাধিক চীনা রাষ্ট্রে বিভক্ত হোক। তবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা সেনাবাহিনী এখনো পরস্পর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। চীনা সেনাবাহিনী এখনো পার্টির নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। ফলে চীনে হংকংয়ের মতো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে অদূর ভবিষ্যতে চীনে একটি ‘সিঙ্গাপুর মডেল’-এর জন্ম হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। চীন এখন আর ধ্রুপদী মার্কসবাদ দ্বারা পরিচালিত হয় না। তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত খাতের বিকাশ ঘটিয়ে ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি’ নামে নতুন এক অর্থনীতি চালু করেছে। এর ফলও তারা পেয়েছে। চীন এখন বিশ্বের বড় অর্থনীতি। সুতরাং হংকংয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন হংকয়ের ব্যাপারে চীনা নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় হংকংয়ের প্রশাসনিক কাউন্সিলের যিনি প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, সেই মিসেস ক্যারী লাম একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন আলোচনার পর। তিনি বলেছেন, হংকংয়ের এই আন্দোলনের পেছনে ‘বৈদেশিক শক্তি’র সম্পর্কিততা রয়েছে। যদিও তিনি বলেননি এই ‘বৈদেশিক শক্তি’ কারা। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূমিকার ব্যাপারে চীনা সরকারি ভাষ্যে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র ও সেই সঙ্গে পশ্চিমা শক্তি যদি হংকংকে আরো অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অবনতি ঘটতে বাধ্য। নিশ্চয়ই মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা এটি উপলব্ধি করবেন। কেননা পরিবর্তিত বিশ্বরাজনীতির বিকাশে চীনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ভূমিকাকে অবজ্ঞা করতে পারে না। তখন হংকংয়ের ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, যে ‘আবেদন’ নিয়ে এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল, সেই ‘আবেদন’ এখন আর নেই। গত পাঁচ মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা এসে গেছে। তারা চান না এ ধরনের অরাজকতা দীর্ঘদিন বজায় থাকুক এবং তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। হংকংয়ের ‘বেসিক ল’তে ধীরে ধীরে সব পর্যায়ের নির্বাচন জনগণের ভোটে অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যদি এদিকে লক্ষ্য রাখেন, তাহলে ভালো করবেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, নিউইয়র্কের ‘অক্যুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনের মতো ‘অক্যুপাই সেন্ট্রাল’ আন্দোলনও ব্যর্থ হলো। Daily Manob Kontho 11.11.14
যে যুদ্ধের শেষ নেই
07:32
No comments
একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন জেনারেল যখন এ ধরনের কথা বলেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যে যে ‘নয়াযুদ্ধের’ সূচনা হয়েছে, তা বড় ধরনের একটি প্রশ্নের মুখে সবাইকে ফেলে দেয় বৈকি। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ যাবৎ কোবানি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় ইসলামি জঙ্গিদের হাতে কোবানির পতন ঘটতে পারে। কুর্দিরা এখানে বসবাস করে। তারাই যুদ্ধ করছে আইএসের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র তথা ২০ মিত্র রাষ্ট্র এখন এই যুদ্ধে শরিক হয়েছে। অব্যাহত মার্কিনি যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণের কারণে আইএসের অগ্রযাত্রা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বটে, কিন্তু কোম্পানির ঘটনাবলি এখন সারা বিশ্বের আলোচনার অন্যতম একটি বিষয়। যুদ্ধরত কুর্দিদের সাহায্যের জন্য মার্কিন বিমান থেকে কুর্দিদের কাছে অস্ত্র ফেলা হলেও মার্কিন ইলেকট্রনিক মিডিয়া আমাদের জানাচ্ছে, পাঠানো অস্ত্রশস্ত্রের একটা বড় অংশ চলে গেছে ইসলামিক জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে মার্কিন ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে বাগদাদের ৯ মাইলের মধ্যে ঢুকে গেছে আইএসের জঙ্গিরা। ইরাকের বেশ কয়েকটি শহরের পতন ঘটেছে এদের হাতে। ইরাকের বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণভার এখন আইএসের জঙ্গিদের হাতে।
কোবানি রক্ষা নিয়েও একটা বড় ‘রাজনীতি’ হচ্ছে এবং এই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আঞ্চলিক রাজনীতি, বিশেষ করে পুরো অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব ও প্রতিপত্তির ব্যাপারে অনেকেই আতঙ্কিত।
ইতোমধ্যে কোবানি শহর রক্ষার জন্য গঠিত হয়েছে কুর্দিস্তান ডিফেন্স ফোর্স। এর মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে সিরিয়ার কুর্দিস্তানের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি। অনেকেই ধারণা করে থাকেন ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টির সঙ্গে তুরস্কের কুর্দি ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের সম্পর্ক রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা অনেকে বলার চেষ্টা করেন, পিকেকের একটি সম্প্রসারিত অংশই হচ্ছে সিরিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি। এদের সঙ্গে আবার ইরাকি কুর্দিদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কুর্দিরা মূলত এ অঞ্চলের চারটি দেশেই বসবাস করে। তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান। প্রতিটি দেশেই কুর্দিদের নিজস্ব সংগঠন রয়েছে। ইরাকে কুর্দিরা আবার বিশেষ সুবিধা ভোগ করে। কোবানির ঘটনাবলি কুর্দি রাজনীতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। সিরিয়ায় কুর্দিরা যখন কোবানি শহরে অবরুদ্ধ হয়ে রইল, তখন তুরস্কের একটা ভূমিকা বড় হয়ে দেখা দিল। দীর্ঘদিন তুরস্ক এই সংকটে নিজেকে জড়িত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। এখানে একটা জটিল ‘রাজনীতি’ কাজ করছে। ইরাকি কুর্দিদের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ভালো। ইরাকি কুর্দিরা চায় না সিরিয়ার কুর্দিরা স্বায়ত্তশাসন ভোগ করুক। উত্তর ইরাকের কুর্দি ‘পেশমারগা’ (প্যারামিলিটারি ফোর্স) বাহিনী কোবানির যুদ্ধে সিরীয় কুর্দিদের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেও সিরিয়ার কুর্দি নেতারা তাতে আপত্তি জানিয়েছেন। তাত্ত্বিকভাবে পেশমারগা কুর্দিস্তান ডিফেন্স ফোর্সের বিরোধী। ফলে এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কোবানি যুদ্ধে তুরস্কের সমর্থন, তার সীমান্ত ইরাকি কুর্দিদের ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়টি পিকেকে দেখছে ভিন্ন দৃষ্টিতে। তারা মনে করে, এতে করে সিরিয়ার কুর্দিরা আরও শক্তিশালী হবে এবং পিকেকের ভূমিকা হ্রাস পাবে। এই জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে কোবানিতে মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে এর পরিণতি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা কেউই স্পষ্ট করে বলতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে জেনারেল অস্টিন যে মন্তব্য করেছেন, তা হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
গেল বছর (২০১৩) আইএসের নাম প্রথম শোনা যায়। তখন এর নাম ছিল ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট (আইএসআইএল)। ইতিহাসে সিরিয়া, জর্ডান, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক, সাইপ্রাস ও দক্ষিণ তুরস্ক নিয়ে যে বিশাল এলাকা তা লেভান্ট নামে পরিচিত। জঙ্গিরা এই নামটি তখন ধারণ করে। তবে ১৯৯৯ সালে এটি ‘জামাত আল তাওহিদ ওয়াল জিহাদ’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে মূলত সংগঠিত হয়েছিল। পরে ‘আল কায়েদা ইন ইরাক’ নাম ধারণ করে। এই সংগঠনটি মূলত সুন্নিনির্ভর ও ইরাকের সুন্নিপ্রধান এলাকায় এদের প্রভাব বেশি। ২০০৬ সালে ইরাকে সুন্নি প্রভাবাধীন মুজাহিদিন শূরা কাউন্সিলে সংগঠনটি যোগ দেয়। ২০১৩ সালে সারা বিশ্ব প্রথমবারের মতো আবু বকর বুগদাদির নাম জানতে পারে। তবে ২৯ জুন (২০১৪) বুগদাদি একটি খেলাফতের ডাক দিলে সংগঠনটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। তখন সংগঠনটি নতুন নাম ধারণ করে আইএস বা ইসলামিক স্টেট। আল কায়েদার সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক কী, এটা নিয়েও প্রশ্ন আছে। বলা হচ্ছে ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে আল কায়েদা আইএসের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। কোন সম্পর্ক ছিন্ন করেছেÑ এটা নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। কেউ বলার চেষ্টা করছেন, আইএসের নৃশংসতা এর বড় কারণ। কেউ বলছেন, জিহাদি নেতৃত্ব কার হাতে থাকবেÑ এ জন্যই বিরোধের জন্ম হয়েছে। এদের রাজনীতি মূলত জিহাদি, সালাফি ও ওয়াহাবি মতবাদ দ্বারা পরিচালিত হয়। আল কায়েদা জিহাদি ও ওয়াহাবি মতবাদ অনুসরণ করলেও খেলাফতের কথা বলেনি কখনো। আইএস খেলাফতের কথা বলেছে। আর বুগদাদি নিজেকে খলিফা বা আমিরুল মুমেনিন ধ্বংসের ঘোষণা করেছেন, যা আল কায়েদার নেতা লাদেন বা জাওয়াহিরি নিজেকে ঘোষণা করেননি। তবে এটা বলতেই হবে, আইএসের নৃশংসতা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। একাধিক মার্কিন সংবাদকর্মীর গলা কেটে হত্যা করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে একটি ভয়ের আবহ তৈরি করেছে আইএস। অতি সম্প্রতি কোবানিতে যুদ্ধরত এক কুর্দি তরুণী যোদ্ধার গলা কেটে জনৈক আইএস যোদ্ধার উল্লসিত ছবিও ইন্টারনেটে প্রকাশ পেয়েছে। আল কায়েদা তার শত্রুদের হত্যা করত বটে। কিন্তু এভাবে গলা কেটে হত্যা করত না। তবে আইএসের উত্থান অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এক. কোন শক্তি আইএসকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে? যতদূর জানা যায়, আইএসের যোদ্ধারা প্রতি মাসে বেতন পান। অর্থের পরিমাণটা নেহাত কম নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই অর্থ কোত্থেকে এসেছে? শুধু দখলকৃত অঞ্চলের (তিকরিত, মসুল) তেল বিক্রি করে এই অর্থ জোগান দেওয়া কি সম্ভব? অস্ত্রই বা আসছে কোত্থেকে? কারা অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে? দুই. আইএসের যোদ্ধারা ইতোমধ্যে দক্ষ একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছে। এদের কারা প্রশিক্ষণ দিল? তিন. কে এই আবু বকর বুগদাদি? কারা তাকে সামনে নিয়ে এল? বিশ্বব্যাপী আল কায়েদা ধিকৃত। তখন বিকল্প আকেরটি ফোর্স তৈরি করে কোনো শক্তি কী চাচ্ছে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে? যদি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বজায় থাকে, তাহলে তা তো মার্কিন অর্থনীতির চাঙ্গাভাব বজায় রাখতে সাহায্য করবে। কারণ মার্কিন অর্থনীতি তো ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। অস্ত্র বিক্রি বাড়ে। ব্যবসা বৃদ্ধি পায় যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলে। ইরাক এর বড় প্রমাণ। এ ধরনের হাজারটা প্রশ্ন এখন উঠেছে। রাজনৈতিক প-িতরা এখন প্রশ্নের সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবেন।
তবে নিঃসন্দেহে কোবানির যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে। এক. কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসন তথা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রশ্নটি এখন সামনে এল। চারটি দেশেই কুর্দিদের বসবাস। কুর্দিদের এলাকায় রয়েছে জ্বালানিসম্পদ তেল। ইরান কুর্দিদের তেল পরিশোধন করে, অন্যদিকে ইরান থেকে গ্যাস কেনে কুর্দিরা। ইরাকি কুর্দিরা এক ধরনের স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। তাদের নিজস্ব পতাকা, পার্লামেন্ট ও সেনাবাহিনী আছে। ১৯২৩ সাল থেকেই কুর্দিরা তাদের স্বাধীনতার জন্য ‘যুদ্ধ’ করে আসছে। ইরাকি কুর্দিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো। ইসরায়েলের সঙ্গেও কুর্দি নেতাদের সম্পর্ক ভালো। বর্তমান সংকট এ অঞ্চলে একটি কুর্দিরাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিল। এই রাষ্ট্রটি অনেকটা তাইওয়ান মডেলে গড়ে উঠতে পারে। দুই. কোবানির যুদ্ধ ও আইএসের উত্থান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্ত করল। এক সময় মনে হয়েছিল আসাদের দিন শেষ। এখন দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা, যাদের মাঝে আরব রাষ্ট্রগুলোও আছে, তারা চাচ্ছে আসাদ থাকুক। মার্কিনি ছত্রচ্ছায়ায় আসাদবিরোধী যে ফ্রন্টের জন্ম হয়েছিল এবং যারা আসাদকে উৎখাতের জন্য রীতিমতো ‘যুদ্ধ’ শুরু করে দিয়েছেন, এখন তারা আর আসাদবিরোধী যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন না। তাদের টার্গেট এখন ইসলামিক স্টেট। ফলে সুবিধা পাচ্ছেন আসাদ। তিন. ইসরায়েলও এখন পরোক্ষভাবে সমর্থন করছে আসাদকে। এক সময় গোলান মালভূমি নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সিরিয়ার যুদ্ধ পর্যন্ত হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিকালি এর গুরুত্ব অনেক। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন ইসরায়েলের মনোভাব নমনীয়। চার. ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছিল, আইএসের উত্থানে ইরানকে নিয়ে এখন আর তেমন উদ্বেগ নেই মার্কিন প্রশাসনের। এক সময় ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে, এমন অভিযোগ ছিল, মার্কিন তথা ইসরায়েলি বিমান হামলার একটা আশক্সক্ষা তৈরি হয়েছিল। এখন সেই প্রশ্ন ‘অতীত’। যুক্তরাষ্ট্রের এখন প্রয়োজন ইরানকে। আইএসের উত্থান এ অঞ্চলে ইরানের ভূমিকা ও অবস্থানকে শক্তিশালী করল। পাঁচ. ইরাক এখন ভেঙে যাওয়ার মুখে। কুর্দিরা স্বাধীন হয়ে গেলে আর সুন্নি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি ‘জিহাদি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠিত হলে, শিয়ারা একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে ইরাকের অস্তিত্ব বহন করবে। ছয়. ইরাক ভেঙে গেলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ‘পরাজয়’।
কোবানি নিয়ে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে গেলে এখনো সেখানে মার্কিন স্থলবাহিনী বা মেরিন সেনা পাঠানো হয়নি। এই যুদ্ধে শুধু মার্কিন বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। আর তাতে ব্যয় হচ্ছে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু আইএসের অগ্রযাত্রা বা তাদের ধ্বংস করা যাচ্ছে না। এই ‘যুদ্ধ’ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য।
অস্টিন, যুক্তরাষ্ট্র
Daily Amader Somoy
11.11.14
মার্কিন রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার ছায়া
04:37
No comments
গত ৪ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে আগামী দিনে মার্কিন রাজনীতি
নিয়ে একটি অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সিনেট নিয়ন্ত্রণ করত
ডেমোক্র্যাটরা। আর রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রতিনিধি পরিষদ। ফলে অনেক
নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্ট ওবামা সিনেটের সমর্থন পেয়েছেন। প্রতি দুই বছর
পর পর প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই নির্বাচন হয়। আর ১০০ সদস্যের সিনেট আসনের
এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও প্রতিনিধি
পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ওবামা দ্বিতীয়বারের
মতো বিজয়ী হলেও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণভার চলে গিয়েছিল রিপাবলিকান পার্টির
হাতে। ২০১২ সালের পর ২০১৪ সালে আবার নির্বাচন হলো। এই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি
আরো ১৩টি প্রতিনিধি পরিষদের আসন বেশি পেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে,
প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির আসন এখন ২৪৩, আর ডেমোক্রেটিক পার্টির ১৭৯।
অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত সাতটি আসনে বিজয়ী হওয়ায় রিপাবলিকান পার্টির
আসন গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫২, আর ডেমোক্রেটিক পার্টির আসন কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৫টিতে।
দুটি আসনে রয়েছেন নিরপেক্ষরা। আর একটি আসনে 'রানঅফ' হওয়ায় ডিসেম্বরে অথবা
জানুয়ারিতে সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কংগ্রেসের নির্বাচনের পাশাপাশি
বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেখা যায় ৩১টি রাজ্যে
গভর্নর পদে বিজয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক
পার্টির গভর্নর পদে বিজয়ী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৭। ফলে এক কথায় যা বলা যায় তা
হচ্ছে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়ই সর্বত্র। এই নির্বাচনে অনেক বিষয় এবার লক্ষণীয়।
এক. শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭৫ শতাংশ ভোট দিয়েছে। তাদের মধ্যে রিপাবলিকানদের
পক্ষে ভোট দিয়েছে ৬০ শতাংশ, আর ডেমোক্র্যাটদের ৩৮ শতাংশ। কৃষ্ণাঙ্গদের মাঝে ৮৯
শতাংশ ভোট দিয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ৭০ শতাংশ ভোট দিয়েছে ডেমোক্র্যাটদের, মাত্র
১০ শতাংশ ভোট দিয়েছে রিপাবলিকানদের। ল্যাটিনো ভোটারদের মাত্র (৮ শতাংশ) ৬২ শতাংশ
ভোট পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা, আর ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকানরা।
দুই. মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী
নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। এই কালো টাকাকে তারা বলছে
'ডার্ক মানি'। ৪ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই কালো টাকা ব্যয় করা হয়েছে
প্রধানত রিপাবলিকান প্রার্থীরা কিভাবে বিজয়ী হবেন সে জন্য। নির্বাচনী প্রচারণায়,
বিশেষ করে দলীয়ভাবে অপর পক্ষকে (এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের) হেয় প্রতিপন্ন করার
জন্যই এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর
রেসপনসিভ পলিটিকস তাদের গবেষণায় এই কালো টাকার একটি হিসাব দিয়েছে। তারা জানিয়েছে,
মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। শুধু নেতিবাচক
প্রচারণার কাজে বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি
টাকায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। চিন্তা করা যায়! তা-ও আবার পুরো নির্বাচনের জন্য
নয়। মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ সিনেট আসন ও সমগ্র প্রতিনিধি পরিষদের আসনের জন্য। ২০০৮
সালে কালো টাকা খরচের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন, আর ২০১০ সালে ছিল ৩ দশমিক ৮৫
বিলিয়ন। ২০১২ সালেও প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। কিভাবে খরচ হয় এ টাকা? মূলত
টিভি বিজ্ঞাপন বাবদ, বিলবোর্ড নির্মাণ বাবদ অর্থাৎ প্রচারণার কাজেই এ টাকা ব্যবহৃত
হয়। এ ক্ষেত্রে এক দল অন্য দলের বিভিন্ন সমালোচনা করে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়। এটা
বৈধ। প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র কিংবা কর্মকাণ্ড স্থান পায় কম। সেন্টার ফর
রেসপনসিভ পলিটিকস তাদের গবেষণায় দেখিয়েছে কিভাবে নেতিবাচক প্রচারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০১০ সালের সিনেট নির্বাচনে ইতিবাচক প্রচারণা ছিল ৪৩.১ শতাংশ, আর নেতিবাচক
প্রচারণা ছিল ৪৩.৭ শতাংশ। ২০১৪ সালে নেতিবাচক প্রচার বেড়েছে, যথাক্রমে ২৭.৫ শতাংশ
ও ৫৫ শতাংশ। তেমনি প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ২৭.৬ শতাংশ (২০১০) থেকে বেড়েছে
৪১.৪ শতাংশ (২০১৪)। ইতিবাচক প্রচারণা ছিল ৫২ (২০১০) ও ৪৭.৬ শতাংশ (২০১৪)। গভর্নর
পদে নির্বাচনে এই নেতিবাচক প্রচারণা বেড়েছে ৩৩ শতাংশ (২০১০) থেকে ৪৭.৮ শতাংশ
(২০১৪)। সুতরাং বোঝাই যায় এই নেতিবাচক প্রচারণা এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী
নির্বাচনে কিভাবে প্রভাব ফেলেছে। এখানে বলা ভালো, বিভিন্ন বেসরকারি
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এই নেতিবাচক প্রচারণায় টাকা দিয়ে থাকে।
যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার্স অব
কমার্স ৩১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার, ক্রসরোড জিপিএস ২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন, লিগ অব
কনজারভেটিভ ভোটারস ৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন, ন্যাশনাল রাইফেলস অ্যাসোসিয়েশন ৬ দশমিক ৭
মিলিয়ন ডলার ইত্যাদি। দেখা গেছে, এসব সংগঠনের মূল টার্গেট হচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা এবং
তাদের প্রচারণার অর্থ হচ্ছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিজয়ী
করানো। ফলে দেখা গেছে, এই কালো টাকার প্রভাবে রিপাবলিকান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
৪ নভেম্বরের (২০১৪) যুক্তরাষ্ট্রের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন আরেক গুরুত্ব বহন করে।
এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর মার্কিন রাজনীতির অনেক কিছু নির্ভর করছে। বিশেষ করে
২০১৬ সালে এখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায়
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের (২০১২) দুই বছর পর কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নির্বাচন অনুষ্ঠিত
হলো। ফলে সিনেটের তিন ভাগের এক ভাগ আসনের আর হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের পুরো আসনে
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সিনেট সদস্যরা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে বেশ
কয়েকটি রাজ্যের গভর্নর, কিছু রাজ্যের কংগ্রেসের, কোনো কোনো শহরের মেয়রের নির্বাচনও
একই সময় অনুষ্ঠিত হলো। ৪ নভেম্বর মোট ৪৭১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর মধ্যে
ছিল হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৬টি আসন। একই সঙ্গে ৪৮টি
গভর্নর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেমোক্রেটিক
পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল সিনেট। ১০০ সিনেট আসনের ৫৩টি ছিল ডেমোক্র্যাটদের। এখন তা
কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৫-এ। রিপাবলিকানদের হাতে এখন ৫২টি আসন। দুজন রয়েছেন নিরপেক্ষ।
অন্যদিকে ৪৩৫ আসনের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ২৩৩টি আসন
(এখন ২৪৩) আর ডেমোক্র্যাটদের ছিল ১৯৯ আসন (এখন ১৭৯)। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই
আসনবিন্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অতীতে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে নানা জটিলতায়
জড়িয়ে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। গেল বছর 'শাট ডাউন'-এর মতো ঘটনাও ঘটেছিল।
বর্তমানে দুটি ইস্যুতে (এবোলা ও আইএসের উত্থান) ওবামা বিপদে আছেন। এখন কংগ্রেসে
তাঁর সমর্থন না থাকলে ভবিষ্যতে তাঁর সরকার পরিচালনায় সমস্যা হবে। বুশের সময় সিনেট
ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টির দখলে। বুশ নিজে ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির সদস্য এবং মজার
ব্যাপার হলো, ওই সময় অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদও ছিল
ডেমোক্র্যাটদের দখলে। পরিস্থিতি বদলে গেল প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সময়। ক্লিনটনের
সময়, ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে
রিপাবলিকানরা। অথচ প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ছিলেন ডেমোক্র্যাট। আবার প্রেসিডেন্ট বুশের
(জুনিয়র) সময়সীমায়ও প্রথম দিকে, ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিনিধি
পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট ওবামার দুই টার্মে (২০০৮
সালে তিনি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন) দুই রকম দৃশ্য দেখা যায়। ২০১২ সাল
পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর প্রথম
থেকে (২০০৮ থেকে) এখন পর্যন্ত সিনেট ডেমোক্র্যাটদের দখলে। কিন্তু ২০১২ সালের
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ চলে যায় রিপাবলিকানদের দখলে। ফলে চলতি ২০১৪
সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিনটনের সময়কার পরিস্থিতির মতো (যখন
কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করেছে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টি) একটি পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকছে প্রেসিডেন্সি। কিন্তু
কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টি। ফলে আগামী দুই বছর ওবামাকে নানা
ঝামেলা পোহাতে হবে।
আমাদের দেশের মতো নির্বাচনে ওবামার দল
এখন হেরে গেল বটে। কিন্তু তাতে প্রেসিডেন্ট ওবামার পদত্যাগের কোনো সুযোগ নেই। অথবা
তাঁকে পদত্যাগ করানোও যাবে না। তবে প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সমস্যায় পড়বেন এবং
তাঁকে রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়েই প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। রিপাবলিকানরা তাদের
পছন্দমতো বিল কংগ্রেসে পাস করতে পারবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট তাতে 'ভেটো' দিতে
পারবেন। অন্যদিকে ওবামার অনেক ইচ্ছার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে না। কেননা তাতে রিপাবলিকানদের
সমর্থন থাকবে না। ফলে সৃষ্টি হবে নানা জটিলতার।
নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে
ওবামা আশা প্রকাশ করেছেন যে তিনি প্রশাসন পরিচালনায় কংগ্রেসের সমর্থন পাবেন। তিনি
জঙ্গি তথা আইএসের উত্থান ঠেকাতে, এবোলা বিস্তার রোধে এবং অবৈধ অভিবাসীদের একটি
আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে কংগ্রেসের সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁর স্বাস্থ্যসেবাও
(ওবামা কেয়ার) এখন ঝুঁকির মুখে থাকল। মানুষ হতাশাগ্রস্ত ছিল। ভোটেই তার প্রতিফলন
ঘটল। কিন্তু কংগ্রেস আর প্রেসিডেন্ট যদি একসঙ্গে কাজ করতে না পারে, তাহলে এক জটিল
পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। কংগ্রেস এখন প্রেসিডেন্টকে কতটুকু ছাড় দেয়
কিংবা প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কথা কতটুকু শুনবে- সেটিই এখন দেখার বিষয়। মধ্যবর্তী
নির্বাচনের ফলাফল একটা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করল মাত্র।
ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র
পাল্টে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র!
19:24
No comments
মার্কিন নির্বাচনেও কালো টাকা
20:53
No comments
>মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই
জয়লাভ করেছে। প্রতিনিধি পরিষদে তারা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। আর
সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ ৬ আসনেও জয়ী হয়েছে তারা। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের উভয়
কক্ষই এখন বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে চলে গেল। ফলে আইন
প্রণয়নে তাদের সামনে আর কোনো বাধা থাকল না। বোঝাই যাচ্ছে, সামনে
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।কংগ্রেসের
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘কালো টাকা’ এবার একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। ৪
নভেম্বর সেখানে ৩৩ সিনেট আসনে ও ৪৩৫ প্রতিনিধি পরিষদের আসনে নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হল। এবার নির্বাচনজুড়ে একটা বড় আলোচনার বিষয় ছিল কালো টাকা, যাকে
এখানে বলা হচ্ছে ‘ডার্ক মানি’র ব্যবহার। নির্বাচনের আগে ‘সেন্টার ফর
রেসপনসিভ পলিটিকস’ নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণায় দেখিয়েছিল,
প্রায় ৪০ লাখ ডলার কালো টাকা এ নির্বাচনে ব্যয় হবে। এ টাকা প্রার্থী নিজে
ব্যবহার করেন না। এর একটা বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে ওবামাবিরোধী রিপাবলিকান
পার্টির প্রার্থীদের বিজয়ী করতে।সর্বশেষ নির্বাচনের দিন যে জনমত জরিপ
প্রকাশিত হয়েছে তাতে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, সিনেট চলে যাচ্ছে রিপাবলিকানদের
হাতে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। তাদের দখলে ছিল
২৩৩ আসন। আর ডেমোক্রেটদের ১৯৯ আসন। রিপাবলিকানরা তাদের এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
বজায় রাখতে পেরেছে। তবে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না।
ডেমোক্রেটদের সিনেটে ছিল ৫৩টি আসন, আর রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৪৫টি আসন।
দুটি আসনে ছিল নিরপেক্ষরা। এখন সিনেটেও রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা
প্রতিষ্ঠা পেল। তারা ইতিপূর্বে ডেমোক্রেটদের দখলে থাকা আরকানসাস, সাউথ
ডাকোটা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, কলোরাডো, নর্থ ক্যারোলিনা ও মন্টানা অঙ্গরাজ্যে
জয়ী হওয়ায় এটা সম্ভব হল।ধারণা করা যায়, রিপাবলিকানদের এই বিপুল পেছনের
পেছনে ‘কালো টাকা’ একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। অবশ্য উভয় দলের পক্ষেই এ
‘কালো টাকা’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নিঃসন্দেহে রিপাবলিকানদের পক্ষে
পাল্লাটা ভারি ছিল। বিভিন্ন সংস্থা রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয়ী করাতে এ
টাকা ব্যয় করেছে। রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে আর ডেমোক্রেটদের বিরুদ্ধে
নেতিবাচক প্রচারণা চালাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। নেতিবাচক এসব প্রচারণায়
ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রার্থীকে আক্রমণ করা হয় না। আক্রমণ করা হয় দলকে।
এক্ষেত্রে আক্রমণের টার্গেট হয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। কোথাও কোথাও স্থানীয়
ইস্যুও প্রাধান্য পেয়েছে। সাধারণত বিলবোর্ড স্থাপন, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে
বিজ্ঞাপন প্রচার কাজে এ অর্থ ব্যয় করা হয়। যারা এ কালো টাকা নির্বাচনে
ব্যয় করেছে, একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কয়েকটি সংস্থার নাম
দিয়েছে। যারা অর্থ ব্যয় করছে তাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার্স
অব কমার্স, ক্রসরোড জিপিএস, লীগ অব কনজারভেটিভ ভোটার্স, ন্যাশনাল রাইফেলস
অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি। চেম্বার্স অব কমার্স ব্যয় করেছে ৩১ দশমিক ৮ মিলিয়ন
ডলার, ক্রসরোড ২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, কনজারভেটিভ ভোটার্স ৯ দশমিক ৪
মিলিয়ন, ন্যাশনাল রাইফেলস ৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। এসব সংস্থার কর মওকুফ করে
দেয়া হয়েছে। ফলে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়বদ্ধ নয় কোথায় এবং
কীভাবে তারা টাকা খরচ করছে তা জানানোরও দরকার হবে না। ফলে যে টাকা তারা খরচ
করেছে, এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে না। এখানে বলা ভালো, বিভিন্ন
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের স্বার্থে এসব সংস্থায় চাঁদা দিয়ে থাকে।এবারের
মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে মহিলাদের নির্বাচনে
অংশগ্রহণ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে মহিলা সদস্য ছিলেন ৭৯
জন। আর সিনেটে ২০ জন। মোট আসনের শতকরা ১৮ দশমিক ৯ ভাগ মহিলাদের দখলে। এবার
১৫ জন মহিলা সিনেট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যে ২০ জন মহিলা সিনেটে ছিলেন,
তাদের মধ্যে ১৬ জন এ নির্বাচনে অংশ নেননি। অন্যদিকে ১৬১ জন মহিলা প্রতিনিধি
পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শুধু কেন্দ্রীয়ভাবেই নয়, বরং রাজ্যগুলোতেও
মহিলা আইন প্রণয়নকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৯ সালে
যেখানে রাজ্যগুলোর আইন সংস্থায় মহিলা প্রতিনিধিত্বের হার ছিল মাত্র ১০
ভাগ, সেখানে ২০১৩ সালে এ হার বেড়ে হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ ভাগ। অন্যদিকে
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে (অর্থাৎ কেন্দ্রে) ১৯৭৯ সালে যেখানে মহিলা
প্রতিনিধিত্ব ছিল প্রায় ৩ ভাগ, তা ২০১৩ সালে বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫ ভাগে। এতে
বোঝা যায়, আইন প্রণয়নে রাজ্য তথা কেন্দ্রে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে।আগে
থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ওবামার জন্য এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনটা ভালো হবে
না। ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি পোলের সর্বশেষ জরিপে (২৩-২৬ অক্টোবর) দেখা যায়,
সরকার পরিচালনায় ওবামার ওপর আস্থা রেখেছেন ৪৪ ভাগ, আর আস্থা রাখতে পারেননি
৫০ ভাগ মানুষ। ৪৬ জন বলেছেন, তিনি শক্ত নেতা; আর ৫২ ভাগ বলেছেন, তিনি শক্ত
নেতা নন।
এখানে বলা ভালো, সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের (সিনিয়র) সময় সিনেট ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টির দখলে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদও ছিল ডেমোক্রেটদের দখলে। পরিস্থিতি বদলে যায় বিল ক্লিনটনের সময়। ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট ছিল রিপাবলিকানদের দখলে। আবার প্রেসিডেন্ট বুশের (জুনিয়র) সময়েও প্রথমদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। ২০১২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ওবামার প্রথম টার্মে প্রতিনিধি পরিষদ ছিল ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ২০১২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রিপাবলিকানদের দখলে।এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে অভিবাসন নীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা ডেমোক্রেটদের এই ভরাডুবিতে তাই অখুশি। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। চীনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা যায়।
ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র থেকে Daily JUGANTOR 06.11.14
এখানে বলা ভালো, সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের (সিনিয়র) সময় সিনেট ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টির দখলে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদও ছিল ডেমোক্রেটদের দখলে। পরিস্থিতি বদলে যায় বিল ক্লিনটনের সময়। ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট ছিল রিপাবলিকানদের দখলে। আবার প্রেসিডেন্ট বুশের (জুনিয়র) সময়েও প্রথমদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। ২০১২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ওবামার প্রথম টার্মে প্রতিনিধি পরিষদ ছিল ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ২০১২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রিপাবলিকানদের দখলে।এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে অভিবাসন নীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা ডেমোক্রেটদের এই ভরাডুবিতে তাই অখুশি। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। চীনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা যায়।
ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র থেকে Daily JUGANTOR 06.11.14
মার্কিন নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি
12:22
No comments
মার্কিন
কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি এখন অন্যতম একটি আলোচিত
বিষয়। এই কালো টাকাকে এরা বলছে ‘ডাক মানি’। প্রার্থীরা কীভাবে বিজয়ী হবেন,
সেজন্য। নির্বাচনী প্রচারণায়, বিশেষ করে দলীয়ভাবে অপর পক্ষকে (এক্ষেত্রে
ডেমোক্র্যাটদের) হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠা সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিক্স তাদের
গবেষণায় এই কালো টাকার একটি হিসাব দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মধ্যবর্তী এই
নির্বাচনে মোট ব্যয় হবে ৪ মিলিয়ন ডলার। শুধু নেতিবাচক প্রচারণার কাজে বেশি
অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩২ হাজার
কোটি টাকা। চিন্তা করা যায়! তাও আবার পুরো নির্বাচনের জন্য নয়। মাত্র তিন
শতাংশের এক শতাংশ সিনেট আসন ও পুরো প্রতিনিধি পরিষদের আসনের জন্য। তবে ২০০৮
সালে কালো টাকা খরচের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন আর ২০১০ সালে ছিল ৩
দশমিক ৮৫ মিলিয়ন। ২০১২ সালেও ৪ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। কীভাবে খরচ হয় এ
টাকা? মূলত টিভি বিজ্ঞাপন বাবদ, বিলবোর্ড নির্মাণ বাবদ অর্থাৎ প্রচারণার
কাজেই এ টাকা ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে দল অপর দলের বিভিন্ন সমালোচনা করে টিভিতে
বিজ্ঞাপন দেয়। এটা বৈধ। প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র, কিংবা কর্মকা- স্থান
পায় কম। সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিক্স তাদের গবেষণায় দেখিয়েছে কীভাবে
নেতিবাচক প্রচারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০ সালের সিনেট নির্বাচনে ইতিবাচক
প্রচারণা ছিল ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ, আর নেতিবাচক প্রচারণা ছিল ৪৩ দশমিক ৭
শতাংশ। ২০১৪ সালে তা বেড়েছে যথাক্রমে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ
নেতিবাচক প্রচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। তেমনি প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ২৭.৬
শতাংশ (২০১০) থেকে বেড়েছে ৪১.৪ শতাংশ (২০১৪)। ইতিবাচক প্রচারণা ছিল ৫২
(২০১০) ও ৪৭.৬ শতাংশ (২০১৪)। গভর্নর পদে নির্বাচনে এই নেতিবাচক প্রচারণা
বেড়েছে ৩৩ শতাংশ (২০১০) থেকে ৪৭.৮ শতাংশ (২০১৪)। সুতরাং বোঝাই যায় এ
নেতিবাচক প্রচারণা এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কীভাবে প্রভাব
ফেলেছে। এখানে বলা ভালো বিভিন্ন বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এ নেতিবাচক
প্রচারণায় টাকা দিয়ে থাকে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের চোবার্স অব কমার্স ৩১ দশমিক
৮ মিলিয়ন ডলার, ক্রসরোড সিপিএস ২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন, লিগ অব কনজারভেটিভ
ভোটারস ৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন, ন্যাশনাল রাইফেলস অ্যাসোসিয়েশন ৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন
ডলার ইত্যাদি। দেখা গেছে, এসব সংগঠনের মূল টার্গেট হচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা এবং
তাদের প্রচারণার অর্থ হচ্ছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের কংগ্রেসের উভয় কক্ষে
বিজয়ী করানো।আজ যুক্তরাষ্ট্রে এ মধ্যমর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ
নির্বাচনের ফলাফলের ওপর মার্কিন রাজনীতির অনেক কিছু নির্ভর করছে। বিশেষ করে
২০১৬ সালে এখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের ফলের
ওপর মার্কিন রাজনীতির অনেক কিছু নির্ভর করছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালে এখানে
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনের (২০১২) দুই বছর পর কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে সিনেটের তিন শতাংশের এক শতাংশ আসন এবং হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের পুরো
আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিনেট সদস্যরা ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। একই
সঙ্গে বেশ কয়েকটি রাজ্যের গভর্নর, কিছু রাজ্যের কংগ্রেসের, কোনো কোনো
শহরের মেয়রের নির্বাচনও আজ একই সময় অনুষ্ঠিত হবে। ৪ নভেম্বর ৪৭১টি আসনে
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাঝে রয়েছে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের ৪৩৫টি আসন ও
সিনেটের ৩৬টি আসন। একই সঙ্গে প্রায় ৩৪টি গভর্নর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত
হবে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেমোক্র্যাটিক দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে
সিনেট। ১০০ সিটের ৩৫টি আসন রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে
৪৫টি আসন। দুজন রয়েছে নিরপেক্ষ। অন্যদিকে ৪৩৫ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে
রিপালিকানদের দখলে রয়েছে ২৩৩টি আসন। আর ডেমোক্র্যাটদের রয়েছে ১৯৯ আসন। এখন
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ আসন বিন্যাসে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তাই দেখার
বিষয়। অতীতে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে নানা জটিলতায় জড়িয়ে গিয়েছিলেন
প্রেসিডেন্ট ওবামা। গত বছর ‘শাট ডাউন’-এর মতো ঘটনাও ঘটেছিল। বর্তমানে দুটি
ইস্যুতে (ইবোলা ও আইএসের উত্থান) ওবামা বিপদে আছেন। এখন কংগ্রেসে তার
সমর্থন না থাকলে আগামীতে সরকার পরিচালনায় সমস্যা হবে। বুশের সময় সিনেট ছিল
ডেমোক্র্যাট পার্টির দখলে। বুশ নিজে ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির সদস্য। মজার
ব্যাপার ওই সময় অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদও ছিল
ডেমোক্র্যাটদের দখলে। পরিস্থিতি বদলে গেল প্রেসিডেন্ট কিনটনের সময়। কিনটনের
সময় ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে
রিপাবলিকানরা। অথচ প্রেসিডেন্ট কিনটন ছিলেন ডেমোক্র্যাট। আবার প্রেসিডেন্ট
বুশের (জুনিয়র) সময়সীমায়ও প্রথমদিকে ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট
ওবামার দুই টার্মে (২০০৮ সালে তিনি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন) দুরকম
দৃশ্য দেখা যায়। ২০১২ সালে পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে তার দল ডেমোক্র্যাটদের
নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর প্রথম থেকে (২০০৮) এখন পর্যন্ত সিনেট ডেমোক্র্যাটদের
দখলে। কিন্তু ২০১২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ চলে গেছে
রিপাবলিকানদের দখলে। ফলে চলতি ২০১৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন বেশ
গুরুত্বপূর্ণ। কিনটনের সময়কার পরিস্থিতির মতোÑ যখন কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করেছে
বিরোর্ধী রিপাবলিকান পার্টি, একটি পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক
পর্যবেক্ষকরা। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকছে প্রেসিডেনসি। কিন্তু
কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টি।আমাদের দেশের মতো
নির্বাচনে ওবামার দল যদি হেরেও যায়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ওবামার পদত্যাগের
কোনো সুযোগ নেই। অথবা তাকে পদত্যাগ করানো যাবে না। তবে প্রশাসন পরিচালনায়
তিনি সমস্যায় পড়বেন এবং তাকে রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়েই প্রশাসন পরিচালনা
করতে হবে। রিপাবলিকানরা তাদের পছন্দমতো বিল কংগ্রেসে পাস করতে পারবেন বটে
কিন্তু প্রেসিডেন্ট তাতে ‘ভেটো’ দিতে পারবেন। অন্যদিকে ওবামার অনেক ইচ্ছার
বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে বা। কেননা এতে রিপাবলিকানদের সমর্থন নাও থাকতে পারে।
তবে এখানে আমাদের দেশের সঙ্গে একটি পার্থক্য উল্লেখ করা যায়। দলীয়ভাবে
সংসদে আমাদের দেশে ভোট হয়। অর্থাৎ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সংসদ সদস্যরা
ভোটাভুটিতে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যেতে পারেন না। কিন্তু
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সবসময় দলীয়ভাবে ভোট হয়, এটা বলা যাবে না। কোনো
কোনো ক্ষেত্রে কোনো সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সরকারকে অথবা বিরোধী দলকে
সমর্থন করতে পারেন। এতে তার সদস্যপদ চলে যায় না আমাদের দেশের মতো। আরও
একটা কথা বলিÑ কোনো একটা দলের কোনো রাজ্য শাখা (যেমন টেক্সাস রিপাবলিকান
শাখা) দলের মূল শাখার কোনো সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আলাদাভাবেও সিদ্ধান্ত
নিতে পারে।এখন সংবাদপত্রের ভাষ্য যদি সত্যি হয়, তাহলে রিপাবলিকানরা
সিনেটে আরও ৬টি আসন নিশ্চিত করে সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখবে।
ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একের পর এক সমস্যা তৈরি
করবে ওবামার জন্য। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র তথা অভ্যন্তরীণ নীতিতেও
পরিবর্তন আসবে এবং ২০১৬ সালে যদি আমরা একজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে
হোয়াইট হাউসে দেখি, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সংবাদপত্রে বলা হচ্ছে
রিপাবলিকানরা খুব সহজেই মনটানা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও ডাকোটা রাজ্যের সিনেট
আসনে বিজয়ী হবেন। একই সঙ্গে আলাস্কা, আরকানসাস, কলোরাডো, আইওয়া, লুসিয়ানা,
নর্থ ক্যারোলিনা সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও রিপাবলিকানরা এখানে
বিজয়ী হতে পারেন। কানসাসে একজন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তির বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা
বেশি। তবে লুসিয়ানা ও জর্জিয়ায় প্রার্থীরা একটি ‘রানঅফ’-এর সম্মুখীন হতে
পারেন। সেক্ষেত্রে প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হবে আগামী ডিসেম্বর অথবা
জানুয়ারিতে আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে।এখন সত্যি সত্যিই যদি রিপাবলিকানরা বিজয়ী হন, তাহলে অনেক সমস্যায় পড়তে পারে আমেরিকাবাসী।এক.
আন্তর্জাতিক আসরে কঠোর অবস্থানে যাবেন রিপাবলিকানরা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের
পরিধি বাড়বে। ওবামা ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে শুধু বিমান হামলার নির্দেশ
দিয়েছেন। স্থলবাহিনী তিনি সেখানে পাঠাননি। রিপাবলিকানরা এখন সেখানে সরাসরি
সৈন্য পাঠাবেন। কেননা তাদের মূল টার্গেট হবে আইএসের উৎখাত। বলা হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের ৫টি রাষ্ট্র (ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও লিবিয়া) ১৫টি
রাষ্ট্রে পরিণত করতে ওয়াশিংটন উদ্যোগ নেবে। কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যের
নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। রিপাবলিকানরা এ জন্য কাজ করবেন। যুদ্ধ শুরু হলে
অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। সামাজিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুই. স্বাস্থ্য খাত
ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রবীণরা স্বাস্থ্য খাতে যে সুযোগ-সুবিধা পান, তা বন্ধ
হয়ে যাবে। তিন. করপোরেট হাউসগুলোর সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাদের
ট্যাক্স আরও কমানো হবে। ধনীরা আরও ধনী হবে। গরিবরা আরও গরিব হবে। চার. নতুন
চাকরির বাজার সৃষ্টি হবে না। যে ৮০ লাখ বেকার হয়েছিল অতীতে, এ সংখ্যা আরও
বাড়বে। নয়া গ্র্যাজুয়েটরা চাকরি পাবেন না। পাঁচ. ছাত্ররা সরকারের কাছ থেকে
যে আর্থিক সহযোগিতা পায় (গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার জন্য এবং যা পরে তাদের
চাকরি পেয়ে পরিশোধ করতে হয়) তাতে স্থবিরতা আসবে। নতুন করে কোনো ঋণ দেওয়া
হবে না। এ ঋণের পরিমাণ এখন ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ছয়. একটি রিপাবলিকান
নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ‘অফশোর ড্রিলিং’-এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তেল ও গ্যাস
অনুসন্ধানের জন্য এ অফশোর ড্রিলিং পরিবেশবাদীদের হতাশ করবে। বিশ্বব্যাপী
কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাসের যে দাবি (যুক্তরাষ্ট্র বড় কার্বন
নিঃসরণকারী দেশ) তা থেকে পিছিয়ে আসবে যুক্তরাষ্ট্র। সাত. বৈদেশিক সাহায্য ও
সুযোগ-সুবিধা হ্রাস পাবে। আট. ইমিগ্র্যান্টদের জন্যও কোনো ভালো খবর থাকবে
না আগামী দিনগুলোয়।সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে
অনেক শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন
আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়। দেখার পালা সত্যি সত্যিই সংবাদপত্রে যা
বলা হয়েছে, তা সত্য হয় কি না।
Daily Amader Somoy
04.11.14
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবার কেন গুরুত্বপূর্ণ
12:15
No comments
৪
নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কটি আসনে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এই নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। টিভি চ্যানেলগুলোতে
আলোচনা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে নানা অংক কষা শুরু হয়েছে। এই
নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিরই অংশ। বেশকিছু কারণে এই
নির্বাচনটি এবার গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এ নির্বাচনের ফলাফল ২০১৬ সালে
অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ ডেমোক্রেটরা
হোয়াইট হাউস হারাবেন কি-না, তা বোঝা যাবে। প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০০৮ সালে
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে হোয়াইট হাউসে আসেন। তিনি ২০১২ সালের
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিজয়ী হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, এই নির্বাচনে রিপাবলিকান
প্রার্থীরা যদি কংগ্রেসের উভয় হাউসে (সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ)
তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে আগামী দুবছরের জন্য তা
প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য খুব ভালো খবর হবে না। তাকে বারবার রিপাবলিকানদের
চাপের মুখে থাকতে হবে। তৃতীয়ত, ডেমোক্রেটদের পরাজয়ে মার্কিন নীতিতে বেশকিছু
পরিবর্তন আসতে পারে।নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুবছর পরপর হাউস অব
রিপ্রেজেনটেটিভ অথবা প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অর্থে
২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনও
অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এখন দুই বছর পর ২০১৪ সালে আবারও প্রতিনিধি পরিষদের
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে ছয় বছর থাকে একজন সিনেটরের মেয়াদ। তবে
সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি পরিষদের আসন
সংখ্যা ৪৩৫, আর সিনেটের আসন সংখ্যা ১০০। এই হিসেবে ৪৩৫টি প্রতিনিধি পরিষদের
আসনে এখন নির্বাচন হবে। অন্যদিকে সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৩টি আসন,
সেই সঙ্গে আরও ৩টি বিশেষ আসনে (মোট ৩৬টি) নির্বাচন হবে। এই বিশেষ আসন
হাওয়াই, ওকলাহোমা ও সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের। নানা কারণে এই আসন তিনটি
ফাঁকা রয়েছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, সিনেট নির্বাচন এবার ডেমোক্রেটদের জন্য
যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কেননাপ্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সিনেটে
সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ডেমোক্রেটদের। বর্তমানে সিনেটে ডেমোক্রেটদের রয়েছে
৫৩টি আসন। দুজন নিরপেক্ষ সিনেটেরও রয়েছেন সিনেটে। তারা ভোটাভুটিতে
প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সমর্থন করেন। অর্থাৎ সিনেটে ডেমোক্রেটদের সমর্থনে
রয়েছে ৫৫টি আসন। এখানে রিপাবলিকানরা যদি তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে
না পারেন, তাহলে ওবামাকে তারা চাপের মুখে রাখতে পারবেন না।আগেই উল্লেখ
করেছি, বর্তমানে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটদের প্রতিনিধি পরিষদে কোনো
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এখানে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ২৩৩টি আসন। আর
ডেমোক্রেটদের রয়েছে ১৯৯টি। ফলে ওবামা সবকিছু কংগ্রেসে পাস করাতে পারেন না।
এই মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, যদি রিপাবলিকানরা সিনেটে আরও ৬টি আসনে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ফলে আইন প্রণয়নে তাদের কোনো বাধা আর থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেটদের হলেও তারা প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করতে পারেন তাদের প্রণীত আইনে স্বাক্ষর করতে। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ওই আইনে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। ভেটো দিতে পারেন। কিন্তু তিনি কবার ভেটো দেবেন? প্রেসিডেন্ট যদি কংগ্রেসের সঙ্গে একটি জটিলতায় জড়িয়ে যান, তাহলে দেশে বড় ধরনের সংকটের জন্ম হবে। গেল বছরের অভিজ্ঞতা অনেকেই স্মরণ করতে পারেন। ২০১৩ সালেও আমি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। তখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের দ্বন্দ্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব হয়নি। অনেককে অনির্দিষ্টকালীন ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। অনেক সেবামূলক কর্মকাণ্ড কর্মচারীদের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পার্ক জাদুঘর, দর্শনীয় স্থান, যা ফেডারেল সরকারের আওতায় পরিচালিত হতো, তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেকে সেই চাকরি আর ফিরে পাননি। এখন পরিস্থিতি সেদিকে যাবে কি-না, সেটাই ভাবনার বিষয়।
মার্কিন নির্বাচনের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে তেমন কোনো প্রচারণা দেখা যায় না। আমি টেক্সাস রাজ্যের ডালাসের একটি উপশহর হাইল্যান্ড ভিলেজে থাকছি। এটা মূলত কনজারভেটিভদের এলাকা। টেক্সাস নিয়ন্ত্রণ করে রিপাবলিকানরা। গভর্নর রিক পেরি ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর ডেভিড ডিউহাস্ট উভয়ই রিপাবলিকান। প্রতি রাজ্যের মতো টেক্সাস থেকেও দুজন সিনেটর নির্বাচিত। এই দুজন সিনেটর জন করবিন ও টেড ক্রুজ উভয়েই রিপাবলিকান পার্টির সদস্য। প্রতিনিধি পরিষদে ২৪ জন রিপাবলিকান সদস্য আর ১২ জন ডেমোক্রেট সদস্য। এই ৩৬টি আসনেই নির্বাচন হবে। কিন্তু আমি নির্বাচনের কোনো প্রচারণা দেখিনি। ভোটের জন্য কেউ আসেনি। রাজধানী অস্টিনে গিয়েছিলাম গেল সপ্তাহে। কোনো পোস্টার, ফেস্টুন, প্রচারণা চোখে পড়েনি। ৪ তারিখ কোনো ছুটিও থাকবে না। মানুষের কাজের ফাঁকে একসময় গিয়ে ভোট দিয়ে আসবে। বাংলাদেশী আমেরিকানরা মূলত ডেমোক্রেট পার্টির সমর্থক। জিজ্ঞেস করে দেখেছি, তারা ডেমোক্রেট পার্টির প্রার্থীদেরই ভোট দেবেন। তবে প্রচারণা চলে টেলিভিশনে। ওখানে দলকে, প্রার্থীকে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। আর ওই বিজ্ঞাপনটাই হচ্ছে তাদের প্রচারণা। তবে প্রতিটি বাড়িতে তারা চিঠি পাঠান। টেক্সাসে রিপাবলিকানরাই বিজয়ী হবে। এটাই সবার ধারণা।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত আশির দশকে রিগ্যানের সময় প্রতিনিধি পরিষদ পুরোটা সময়ই ছিল ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণে। রিগ্যানের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টি ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সিনেটে তাদের প্রাধান্য বজায় রেখেছিল। প্রেসিডেন্ট বুশের সময়ে সিনেট ছিল ডেমোক্রেটদের দখলে। বুশ নিজে ছিলেন রিপাবলিকান। এবং মজার ব্যাপার হল, ওই সময় অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদও ছিল ডেমোক্রেটদের দখলে। পরিস্থিতি বদলে গেল প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সময়ে। ক্লিনটনের সময়, ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। অথচ প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ছিলেন ডেমোক্রেট। আবার প্রেসিডেন্ট বুশের (জুনিয়র) সময়সীমায়ও প্রথমদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট ওবামার দুই টার্মে (২০০৮ সালে তিনি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন) দুরকম দৃশ্য দেখা যায়। ২০১২ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর প্রথম থেকে (২০০৮ থেকে) এখন পর্যন্ত সিনেট ডেমোক্রেটদের দখলে। কিন্তু ২০১২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ চলে গেছে রিপাবলিকানদের দখলে। এ কারণেই চলতি ২০১৪-এর মধ্যবর্তী নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিনটনের সময়কার পরিস্থিতির মতো, যখন কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করেছে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি। একই পরিস্থিতির আশংকা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অর্থাৎ ডেমোক্রেটদের দখলে থাকছে প্রেসিডেন্সি। কিন্তু কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি।
আমাদের দেশের মতো নির্বাচনে ওবামার দল যদি হেরেও যায়, তাহলেও প্রেসিডেন্ট ওবামার পদত্যাগের কোনো সুযোগ নেই। অথবা তাকে পদত্যাগ করানো যাবে না। তবে প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সমস্যায় পড়বেন। এবং তাকে রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়েই প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। রিপাবলিকানরা তাদের পছন্দমতো বিল কংগ্রেসে পাস করতে পারবেন বটে; কিন্তু প্রেসিডেন্ট তাতে ভেটো দিতে পারবেন। অন্যদিকে ওবামার অনেক ইচ্ছার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে না, কারণ তাতে রিপাবলিকানদের সমর্থন নাও থাকতে পারে। তবে এখানে আমাদের দেশের সঙ্গে একটি পার্থক্য উল্লেখ করা যায়। দলীয়ভাবে সংসদে আমাদের দেশে ভোট হয়। অর্থাৎ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সংসদ সদস্যরা ভোটাভুটিতে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যেতে পারেন না। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসে সবসময় দলীয়ভাবে ভোট হয়, এটা বলা যাবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো একজন সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সরকারকে অথবা বিরোধী দলকে সমর্থন করতে পারেন। তাতে তার সদস্যপদ চলে যায় না আমাদের দেশের মতো। আরও একটা কথা বলি- কোনো একটা দলের কোনো রাজ্য শাখা (যেমন টেক্সাস রিপাবলিকান শাখা) দলের মূল শাখার কোনো সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আলাদাভাবেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বেশ কবছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে আমরা বাংলাদেশের কজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যের সাংবিধানিক কর্মপদ্ধতি দেখেছিলাম। তখন সুযোগ হয়েছিল স্থানীয় সিনেটর থেকে শুরু করে সব দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলার। তারা তখন আমাকে অকপটে বলেছিলেন সে কথা। অর্থাৎ তারা স্বাধীন। যে কোনো সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারেন। গত দুবছরের কংগ্রেসের কার্যপদ্ধতি যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখা যাবে কোনো কোনো রিপাবলিকান সিনেটর বা কংগ্রেস সদস্য প্রেসিডেন্ট ওবামার কোনো কোনো নীতি সমর্থন করেছেন। এটাই মার্কিন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি একটি বড় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। দেখা গেছে ওই রাজ্যের বাইরে থেকে বিভিন্ন সূত্র হতে অর্থ আসছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে অর্থ ব্যয় করছে। ফলে একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, এই অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত এবং যারা অর্থ ব্যয় করলেন, তারা কোন স্বার্থে ওই অর্থ ব্যয় করলেন। টাইম সাময়িকী তাদের ৩ নভেম্বরের সংখ্যায় এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনা ও কেন্টাকি রাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ১০০ মিলিয়ন ডলারের উপরে খরচ হয়েছে। অর্থাৎ একটি স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশী টাকায় খরচ হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা! মজার কথা, এই অর্থ কিন্তু প্রার্থী বহন করে না। বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থা এ অর্থ ব্যয় করে। টাইমের দেয়া তথ্যমতে, আলাস্কা ও আইওয়া রাজ্যে মাথাপিছু (ভোটার) ব্যয় হয়েছে (নির্বাচনী প্রচারণায়) ১১ ডলার। টিভিতে বিজ্ঞাপন বাবদ এ অর্থ ব্যয় হয়েছে। আরও কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছে সাময়িকীটি। ১৯৮৪ সালে যেখানে নির্বাচনী প্রচারণায় খরচ হয়েছিল ৪০০ মিলিয়ন, সেখানে ২০১২ সালে খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে মাথাপিছু স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে ১৭০০ ডলার, ২০১২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৯০০ ডলার। জিডিপির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার (১৯৮৪) থেকে ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে (২০১২)। এই অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি ২০১০ সালে সুপ্রিমকোর্টের একটি রায়ে অনুমোদিত হয়েছে। এজন্যই বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ধনীদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে। সিনেটর আর কংগ্রেস সদস্যরা এক একজন বিলিওনিয়ার। এবং ব্যবসায়ীরা এদের পেছনে অর্থ ব্যয় করে। পরে সুবিধা আদায় করে নেয় ৪ নভেম্বরের পর মার্কিন রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আসবে, এ মুহূর্তে বলা কঠিন। তবে অনেকেই মনে করছেন, ডেমোক্রেট আর রিপাবলিকানদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাদের স্বার্থেই তারা তা করবেন। ট্যাক্স রিফর্ম হবে, তাতে উভয় দলের সম্মতি থাকবে। গ্যাস রফতানিতেও উভয়ের সম্মতি থাকবে। তবে রিপাবলিকানদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই বলেন, যদি কংগ্রেস সত্যি সত্যিই রিপাবলিকানদের হাতে চলে যায়, তাহলে তারা ওবামার প্রতিটি সিদ্ধান্তে ভেটো দেবেন। তারা গেলবারের মতো (ফিসক্যাল ক্লিফ) সরকারের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেবেন। ইমিগ্রেশন রিফর্ম প্রক্রিয়া আটকে দেবেন রিপাবলিকানরা। ওবামার স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনাও আটকে যেতে পারে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওবামা চাপের মুখে থাকবেন, যদি কংগ্রেস তার হাতছাড়া হয়ে যায়। একটি উপসাগরীয় অঞ্চলে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার বিস্তৃতি রোধে ওবামার সিদ্ধান্ত। ওবামা আইএসের ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে শুধু বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থলবাহিনী অথবা মেরিন সেনা সেখানে এখনও পাঠাননি। অর্থাৎ বলা যেতে পারে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এখনও শুরু হয়নি। কিন্তু রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ শুরু করার অধিকার দেয়া হয়েছে কংগ্রেসকে।ইবোলা রোগের বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা এখন কমে আসছে। ওবামা লাইবেরিয়াতে মার্কিন সৈন্য পাঠানোর কথা বলেছেন। সেখানে ইবোলার বিস্তার যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে সেনারা কাজ করবে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা নাগরিকদের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করলে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ব্যাপারটি কিছুদিনের জন্য স্থগিত বা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়া এটি করেছে। তবে বলাই যায়, ওবামার পররাষ্ট্রনীতিতে কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার পালা এই পরিবর্তনটি কেমন হয়।হাইল্যান্ড ভিলেজ, ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র Daily Jugantor 03.11.14
এই মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, যদি রিপাবলিকানরা সিনেটে আরও ৬টি আসনে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ফলে আইন প্রণয়নে তাদের কোনো বাধা আর থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেটদের হলেও তারা প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করতে পারেন তাদের প্রণীত আইনে স্বাক্ষর করতে। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ওই আইনে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। ভেটো দিতে পারেন। কিন্তু তিনি কবার ভেটো দেবেন? প্রেসিডেন্ট যদি কংগ্রেসের সঙ্গে একটি জটিলতায় জড়িয়ে যান, তাহলে দেশে বড় ধরনের সংকটের জন্ম হবে। গেল বছরের অভিজ্ঞতা অনেকেই স্মরণ করতে পারেন। ২০১৩ সালেও আমি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম। তখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের দ্বন্দ্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব হয়নি। অনেককে অনির্দিষ্টকালীন ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। অনেক সেবামূলক কর্মকাণ্ড কর্মচারীদের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পার্ক জাদুঘর, দর্শনীয় স্থান, যা ফেডারেল সরকারের আওতায় পরিচালিত হতো, তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেকে সেই চাকরি আর ফিরে পাননি। এখন পরিস্থিতি সেদিকে যাবে কি-না, সেটাই ভাবনার বিষয়।
মার্কিন নির্বাচনের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে তেমন কোনো প্রচারণা দেখা যায় না। আমি টেক্সাস রাজ্যের ডালাসের একটি উপশহর হাইল্যান্ড ভিলেজে থাকছি। এটা মূলত কনজারভেটিভদের এলাকা। টেক্সাস নিয়ন্ত্রণ করে রিপাবলিকানরা। গভর্নর রিক পেরি ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর ডেভিড ডিউহাস্ট উভয়ই রিপাবলিকান। প্রতি রাজ্যের মতো টেক্সাস থেকেও দুজন সিনেটর নির্বাচিত। এই দুজন সিনেটর জন করবিন ও টেড ক্রুজ উভয়েই রিপাবলিকান পার্টির সদস্য। প্রতিনিধি পরিষদে ২৪ জন রিপাবলিকান সদস্য আর ১২ জন ডেমোক্রেট সদস্য। এই ৩৬টি আসনেই নির্বাচন হবে। কিন্তু আমি নির্বাচনের কোনো প্রচারণা দেখিনি। ভোটের জন্য কেউ আসেনি। রাজধানী অস্টিনে গিয়েছিলাম গেল সপ্তাহে। কোনো পোস্টার, ফেস্টুন, প্রচারণা চোখে পড়েনি। ৪ তারিখ কোনো ছুটিও থাকবে না। মানুষের কাজের ফাঁকে একসময় গিয়ে ভোট দিয়ে আসবে। বাংলাদেশী আমেরিকানরা মূলত ডেমোক্রেট পার্টির সমর্থক। জিজ্ঞেস করে দেখেছি, তারা ডেমোক্রেট পার্টির প্রার্থীদেরই ভোট দেবেন। তবে প্রচারণা চলে টেলিভিশনে। ওখানে দলকে, প্রার্থীকে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। আর ওই বিজ্ঞাপনটাই হচ্ছে তাদের প্রচারণা। তবে প্রতিটি বাড়িতে তারা চিঠি পাঠান। টেক্সাসে রিপাবলিকানরাই বিজয়ী হবে। এটাই সবার ধারণা।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত আশির দশকে রিগ্যানের সময় প্রতিনিধি পরিষদ পুরোটা সময়ই ছিল ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণে। রিগ্যানের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টি ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সিনেটে তাদের প্রাধান্য বজায় রেখেছিল। প্রেসিডেন্ট বুশের সময়ে সিনেট ছিল ডেমোক্রেটদের দখলে। বুশ নিজে ছিলেন রিপাবলিকান। এবং মজার ব্যাপার হল, ওই সময় অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদও ছিল ডেমোক্রেটদের দখলে। পরিস্থিতি বদলে গেল প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সময়ে। ক্লিনটনের সময়, ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। অথচ প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ছিলেন ডেমোক্রেট। আবার প্রেসিডেন্ট বুশের (জুনিয়র) সময়সীমায়ও প্রথমদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ন্ত্রণ করেছে রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট ওবামার দুই টার্মে (২০০৮ সালে তিনি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন) দুরকম দৃশ্য দেখা যায়। ২০১২ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর প্রথম থেকে (২০০৮ থেকে) এখন পর্যন্ত সিনেট ডেমোক্রেটদের দখলে। কিন্তু ২০১২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ চলে গেছে রিপাবলিকানদের দখলে। এ কারণেই চলতি ২০১৪-এর মধ্যবর্তী নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ক্লিনটনের সময়কার পরিস্থিতির মতো, যখন কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করেছে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি। একই পরিস্থিতির আশংকা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অর্থাৎ ডেমোক্রেটদের দখলে থাকছে প্রেসিডেন্সি। কিন্তু কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি।
আমাদের দেশের মতো নির্বাচনে ওবামার দল যদি হেরেও যায়, তাহলেও প্রেসিডেন্ট ওবামার পদত্যাগের কোনো সুযোগ নেই। অথবা তাকে পদত্যাগ করানো যাবে না। তবে প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সমস্যায় পড়বেন। এবং তাকে রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়েই প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। রিপাবলিকানরা তাদের পছন্দমতো বিল কংগ্রেসে পাস করতে পারবেন বটে; কিন্তু প্রেসিডেন্ট তাতে ভেটো দিতে পারবেন। অন্যদিকে ওবামার অনেক ইচ্ছার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে না, কারণ তাতে রিপাবলিকানদের সমর্থন নাও থাকতে পারে। তবে এখানে আমাদের দেশের সঙ্গে একটি পার্থক্য উল্লেখ করা যায়। দলীয়ভাবে সংসদে আমাদের দেশে ভোট হয়। অর্থাৎ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সংসদ সদস্যরা ভোটাভুটিতে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যেতে পারেন না। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসে সবসময় দলীয়ভাবে ভোট হয়, এটা বলা যাবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো একজন সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সরকারকে অথবা বিরোধী দলকে সমর্থন করতে পারেন। তাতে তার সদস্যপদ চলে যায় না আমাদের দেশের মতো। আরও একটা কথা বলি- কোনো একটা দলের কোনো রাজ্য শাখা (যেমন টেক্সাস রিপাবলিকান শাখা) দলের মূল শাখার কোনো সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আলাদাভাবেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বেশ কবছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে আমরা বাংলাদেশের কজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যের সাংবিধানিক কর্মপদ্ধতি দেখেছিলাম। তখন সুযোগ হয়েছিল স্থানীয় সিনেটর থেকে শুরু করে সব দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলার। তারা তখন আমাকে অকপটে বলেছিলেন সে কথা। অর্থাৎ তারা স্বাধীন। যে কোনো সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারেন। গত দুবছরের কংগ্রেসের কার্যপদ্ধতি যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখা যাবে কোনো কোনো রিপাবলিকান সিনেটর বা কংগ্রেস সদস্য প্রেসিডেন্ট ওবামার কোনো কোনো নীতি সমর্থন করেছেন। এটাই মার্কিন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি একটি বড় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। দেখা গেছে ওই রাজ্যের বাইরে থেকে বিভিন্ন সূত্র হতে অর্থ আসছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে অর্থ ব্যয় করছে। ফলে একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, এই অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত এবং যারা অর্থ ব্যয় করলেন, তারা কোন স্বার্থে ওই অর্থ ব্যয় করলেন। টাইম সাময়িকী তাদের ৩ নভেম্বরের সংখ্যায় এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনা ও কেন্টাকি রাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ১০০ মিলিয়ন ডলারের উপরে খরচ হয়েছে। অর্থাৎ একটি স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশী টাকায় খরচ হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা! মজার কথা, এই অর্থ কিন্তু প্রার্থী বহন করে না। বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংস্থা এ অর্থ ব্যয় করে। টাইমের দেয়া তথ্যমতে, আলাস্কা ও আইওয়া রাজ্যে মাথাপিছু (ভোটার) ব্যয় হয়েছে (নির্বাচনী প্রচারণায়) ১১ ডলার। টিভিতে বিজ্ঞাপন বাবদ এ অর্থ ব্যয় হয়েছে। আরও কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছে সাময়িকীটি। ১৯৮৪ সালে যেখানে নির্বাচনী প্রচারণায় খরচ হয়েছিল ৪০০ মিলিয়ন, সেখানে ২০১২ সালে খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে মাথাপিছু স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে ১৭০০ ডলার, ২০১২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৯০০ ডলার। জিডিপির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার (১৯৮৪) থেকে ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে (২০১২)। এই অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি ২০১০ সালে সুপ্রিমকোর্টের একটি রায়ে অনুমোদিত হয়েছে। এজন্যই বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ধনীদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে। সিনেটর আর কংগ্রেস সদস্যরা এক একজন বিলিওনিয়ার। এবং ব্যবসায়ীরা এদের পেছনে অর্থ ব্যয় করে। পরে সুবিধা আদায় করে নেয় ৪ নভেম্বরের পর মার্কিন রাজনীতিতে কী পরিবর্তন আসবে, এ মুহূর্তে বলা কঠিন। তবে অনেকেই মনে করছেন, ডেমোক্রেট আর রিপাবলিকানদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাদের স্বার্থেই তারা তা করবেন। ট্যাক্স রিফর্ম হবে, তাতে উভয় দলের সম্মতি থাকবে। গ্যাস রফতানিতেও উভয়ের সম্মতি থাকবে। তবে রিপাবলিকানদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই বলেন, যদি কংগ্রেস সত্যি সত্যিই রিপাবলিকানদের হাতে চলে যায়, তাহলে তারা ওবামার প্রতিটি সিদ্ধান্তে ভেটো দেবেন। তারা গেলবারের মতো (ফিসক্যাল ক্লিফ) সরকারের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেবেন। ইমিগ্রেশন রিফর্ম প্রক্রিয়া আটকে দেবেন রিপাবলিকানরা। ওবামার স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনাও আটকে যেতে পারে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওবামা চাপের মুখে থাকবেন, যদি কংগ্রেস তার হাতছাড়া হয়ে যায়। একটি উপসাগরীয় অঞ্চলে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার বিস্তৃতি রোধে ওবামার সিদ্ধান্ত। ওবামা আইএসের ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে শুধু বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থলবাহিনী অথবা মেরিন সেনা সেখানে এখনও পাঠাননি। অর্থাৎ বলা যেতে পারে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এখনও শুরু হয়নি। কিন্তু রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ শুরু করার অধিকার দেয়া হয়েছে কংগ্রেসকে।ইবোলা রোগের বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা এখন কমে আসছে। ওবামা লাইবেরিয়াতে মার্কিন সৈন্য পাঠানোর কথা বলেছেন। সেখানে ইবোলার বিস্তার যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে সেনারা কাজ করবে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা নাগরিকদের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করলে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ব্যাপারটি কিছুদিনের জন্য স্থগিত বা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়া এটি করেছে। তবে বলাই যায়, ওবামার পররাষ্ট্রনীতিতে কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার পালা এই পরিবর্তনটি কেমন হয়।হাইল্যান্ড ভিলেজ, ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র Daily Jugantor 03.11.14
Subscribe to:
Posts (Atom)










