রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

উচ্চশিক্ষায় ভর্তি সংকট নিরসনে একটি প্রস্তাব

দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তার আগেই উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। অতীতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে যত না প্রশ্ন উঠেছিল, এবার উঠেছে তার চেয়ে বেশি। কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল, তা পুরোপুরিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ও ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এবার পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই গেছে, যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ত, এত বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে যে, তাদের অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না। তৃতীয়ত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও কোনো অদৃশ্য কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট-বাণিজ্য বন্ধ করা যাচ্ছে না। মন্ত্রী মহোদয় বারবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য রেটিংয়ের কথা বললেও তা হয়নি। ফলে বিভ্রান্তিতে থাকছেন অভিভাবকরা। চতুর্থত, অপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা। কোন কোন সেক্টরে আমাদের কত গ্রাজুয়েট দরকার, এর কোনো পরিসংখ্যান নেই। ফলে লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিবিএর মতো বিষয়ে সার্টিফিকেট নিচ্ছে এবং তারা এখন বেসরকারি খাতে ভদ্র কেরানিতে পরিণত হচ্ছে। পঞ্চমত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে আমরা দেশে একটি সার্টিফিকেট কারখানা তৈরি করেছি। এখান থেকে শুধু সার্টিফিকেটই দেয়া হয়। কলেজগুলোর শিক্ষার মান বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ কেউ কখনও নেয় না। ষষ্ঠত, মানসম্মত শিক্ষা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি।এবার এইচএসসি পাস করেছে ৮ লাখ ৮৫ হাজার শিক্ষার্থী। প্রতি আসনে এবার লড়বে ১০০ শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ৭০ হাজার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় কলেজগুলোতে অনার্সে আসন সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ৮০ হাজার। ৩৮টি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে আসন রয়েছে ৪ হাজার। বুয়েটের আসন ১ হাজার। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। এখন অংকটা করে দেখা যেতে পারে কতজন শিক্ষার্থী এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে। দেশে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৩৭টি। আর ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবে ৩৫টিতে। চট্টগ্রাম মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এখনও চালু হয়নি, অথচ এর চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর সমুদ্র বিদ্যায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এটি চালু করতে হবে।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারেই ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বেশি। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও ভালো শিক্ষকমণ্ডলী রয়েছেন। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল এক তারুণ্য শক্তি। তারা আমাদের সম্পদ। এই সম্পদকে আমরা যদি ব্যবহার করতে পারি, তাহলে দেশের চেহারা বদলে যাবে। এজন্য চাই সঠিক নীতি। সঠিক দিকদর্শন। আমাদের নীতিনির্ধারকরা ব্যাপারটি কতটুকু উপলব্ধি করেন, আমি নিশ্চিত নই। দেশে ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা ভালো দিক। কিন্তু সরকারের এ উদ্যোগকে নস্যাৎ করেছেন কিছু ভিসি, যারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের যোগ্যতা ও শিক্ষাদানের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও কোথাও এমনসব বিভাগ খোলা হয়েছে, যেখানে পড়ানোর মতো যোগ্য শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বিভাগ খোলা হবে, এর কোনো মানে নেই। আর সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বা চিকিৎসাশাস্ত্র চালু হবে না, এটাও কোনো যুক্তি হতে পারে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কিছুদিন আগে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ চালু হয়েছে। নিঃসন্দেহে এজন্য কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ পেতে পারে। জাবিসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নার্সিং এবং প্রকৌশল বিদ্যা-সংক্রান্ত বেশকটি বিভাগ চালু করা সম্ভব। জাবির অবকাঠামোগত সুবিধা আছে। এ সুবিধাটুকু কাজে লাগানো যায়। নীতিনির্ধারকরা নিুোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে পারেন।১. নতুন আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নেই। তবে প্রস্তাবিত রাঙ্গামাটি বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু করতে হবে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় চিকিৎসা বিদ্যা, নার্সিং এবং প্রকৌশল বিদ্যা চালু করতে হবে। এখানে কোনো কোটা থাকবে না। কোটা পদ্ধতি বৈষম্য সৃষ্টি করে; ২. বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা (খেলোয়াড়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, উপজাতি ইত্যাদি) রয়েছে। কোটার কারণে উচ্চশিক্ষার মান পড়ে যাচ্ছে। সরকার কোটার পরিবর্তে বিভিন্ন কোটার জন্য চাকরি নির্ধারণ করে দিতে পারে; ৩. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় শিফট চালু করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে যারা অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি হতে পারেনি, তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্বিতীয় শিফটে ভর্তি হতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকরা কিছু সম্মানীর বিনিময়ে দ্বিতীয় শিফটে ক্লাস নিতে রাজি থাকবেন। এ ক্ষেত্রে বিকালে শূন্য ক্যাম্পাস কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রয়োজনে দ্বিতীয় শিফটের জন্য অতিরিক্ত ভর্তি ও মাসিক ফি চালু করা যেতে পারে; ৪. দ্বিতীয় শিফটের জন্য যে বিষয়গুলোর চাহিদা রয়েছে, সেসব বিষয় চালু করতে হবে। যেমন আইটি, অর্থনীতি, বিবিএ, ভাষা বিজ্ঞান (বিভিন্ন ভাষা), আর্কিটেকচার ইত্যাদি। দ্বিতীয় শিফটের জন্য অনার্স কোর্স চালু করার প্রয়োজন নেই। দুবছর মেয়াদি গ্রাজুয়েশন কোর্স, মাস্টার্স কোর্স, সার্টিফিকেট কোর্স, শর্ট কোর্স ইত্যাদি চালু করা যেতে পারে; ৫. বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় (ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, শাহজালাল) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু করা যেতে পারে। একজন শিক্ষক তার নিজ ক্যাম্পাসে ক্লাস নেয়ার পর প্রচুর সময় পান। এ সময়টুকু তিনি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ক্লাস নিয়ে কাটাতে পারেন। সরকার বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেয়ার জন্য তাদের সহযোগিতা নিয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু করতে পারে; ৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কাঠামো ভেঙে দিয়ে ৭টি বিভাগীয় শহরে ৭ জন বীর শহীদের নামে ৭টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সুবিধা হল, ৭টি বিভাগীয় শহরেই ৭টি পুরনো ও ঐতিহ্যমণ্ডিত কলেজ আছে এবং ওই সব কলেজে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকও রয়েছেন। যেমন- সিলেটের এমসি কলেজ, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ, বরিশালের বিএম কলেজ, খুলনার আজম খান কমার্স কলেজ ইত্যাদি। এসব কলেজে একাধিক বিষয়ে বর্তমানে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে এবং ল্যাব সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। বর্তমান কাঠামোয় কলেজগুলোতে নিয়মিত কোনো ক্লাস হয় না। কলেজ পর্যায়েই শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট কোচিংয়ে। ফলে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বাকুশা মার্কেটের নোটনির্ভর। আমি পরীক্ষা নিতে গিয়ে দেখেছি ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস না করেও পরীক্ষা দিচ্ছে এবং পাস করে সার্টিফিকেট পাচ্ছে। সারা বছর ঘর-সংসার আর শাশুড়ির খেদমত করে একজন গৃহিণী যখন অনার্স ও মাস্টার্স সার্টিফিকেট নিয়ে নিচ্ছে, তখন এ শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে আমার কষ্ট হয়। জেলা পর্যায়ে একটি বড় কলেজে গিয়ে দেখেছি শিক্ষকরা কলেজে ক্লাস নেন না, বাসায় প্রাইভেট পড়ান। অনার্স পর্যায়ে একজন ছাত্র প্রাইভেট পড়ে, এটা আমি ভাবতেও পারি না। গত ২৫ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল একটি তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটি হচ্ছে, দুই পরীক্ষকের পরিবর্তে এক পরীক্ষক পদ্ধতি প্রবর্তন। তাহলে কি ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিণত করতে যাচ্ছেন? দুই পরীক্ষকের বিধান দীর্ঘদিনের। এটা করা হয় এজন্য যে, মূল্যায়নটি যেন সঠিক হয়। এমনিতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। ভিসির এটা না জানার কথা নয়। এখন অনার্স পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থী যা লিখল, তার সঠিক মূল্যায়ন কী হবে? গৎবাঁধা একটা নম্বর দেবেন পরীক্ষক, আর সেটাই চূড়ান্ত হবে। ভিসি যুক্তি দেখিয়েছেন, পরীক্ষকের সময়ক্ষেপণের। এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি কীভাবে শিক্ষার মান বাড়াবেন, শিক্ষকরা যাতে নিয়মিত ক্লাস নেন সে পন্থা উদ্ভাবন করবেন, তা না করে এক পরীক্ষককে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা করলেন। এতে করে তথাকথিত সার্টিফিকেটধারীর সংখ্যা আরও বাড়বে।শিক্ষামন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি এ দেশে মানসম্মত শিক্ষা চান, নাকি সার্টিফিকেটধারী শিক্ষার্থী চান। উচ্চশিক্ষা নিয়ে তাকে ভাবতে হবে। প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে আমরা শিক্ষার মান বাড়াতে পারব না। আমরা ইতিমধ্যে অনেক ক্ষতি করে ফেলেছি। শত শত অযোগ্য ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির চাকরির সংস্থান হয়েছে বটে, কিন্তু আমরা কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করতে পারিনি। শিক্ষামন্ত্রী প্রায়ই এই কোয়ালিটি এডুকেশন নিয়ে কথা বলেন। শুনতে ভালোই শোনায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তুতারা মন্ত্রীকে কী বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দিয়েছেন? মাননীয় মন্ত্রী নিশ্চয়ই উপলব্ধি করবেন, সুবিধাবাদী বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তিনি সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও বিশেষজ্ঞরা তাকে কোনো জ্ঞান দিতে পারবেন না। সরষের মধ্যে ভূত থাকলে ওই ভূত তাড়ানো যায় না।৭০ হাজার ৬০২ জন জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী গর্ব করতেই পারেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, তাদের অনেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারবে না। কেন? এ প্রশ্নের জবাব নিশ্চয়ই জানা আছে মাননীয় মন্ত্রীর। উচ্চ মাধ্যমিকের উত্তরপত্র খুব সাধারণভাবে মূল্যায়ন করা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়িয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগা যায়, কিন্তু এতে ছেলেমেয়েদের আমরা কী ক্ষতি করলাম, এ দিকটা আমরা কেউই ভেবে দেখিনি। ওরা যখন ভালো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবে না, যখন মেডিকেল বা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পাবে না, তখন ওদের মানসিক অবস্থা কী হবে, তা কি আমরা ভেবে দেখেছি? সবাই ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারবে না। ওখানে পড়ার খরচ অনেক। উপরন্তু কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গিবাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নীতিনির্ধারকরা নিশ্চয়ই বিষয়টি জানেন। সুতরাং জিপিএ-৫-এর সংখ্যা যেহেতু বেড়েছে, সেহেতু ওদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেয়ার দায়িত্বও অনেকটা সরকারের। তাই নিদেনপক্ষে ৪টি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শিফট চালু করা হোক। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় নিতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নে একটি জাতীয় সংলাপ আহ্বান করতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদদের নিয়েও (দলবাজ নয়) একটা সংলাপ করতে পারেন। শিক্ষামন্ত্রী আমলানির্ভর মতামত থেকে বের হয়ে আসবেন, এ প্রত্যাশাই করি। Daily Jugantor 01.09.14

0 comments:

Post a Comment