রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

কত দূর যেতে পারবেন অং সান সু চি


কত দূর যেতে পারবেন অং সান সু চি? এ মুহূর্তে তিনি মিয়ানমারের অবিসংবাদিত নেত্রী। গণতন্ত্রের 'মানসকন্যা' হিসেবেও তাকে অভিহিত করা হয়। পশ্চিমা মিডিয়া জগতে তিনি অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব। খুব দ্রুতই জানা যাবে তিনি আদৌ প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন কিনা। অনেক বাধা আছে। সে বাধাগুলো তাড়াতাড়ি কেটে যাবে কিনা, এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কেউ। গেল ৯ নভেম্বর সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪৯১ আসনের পার্লামেন্টে (উভয় পক্ষ) পেয়েছিল ৩৯০ আসন। সেনাবাহিনী মনোনয়ন দিয়েছে ১৬৬ আসন। সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৬৬৪। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সংসদের উচ্চকক্ষ মনোনয়ন দেবে একজন, নিম্নকক্ষ দেবে একজন, আর সেনাবাহিনী দেবে একজন। ভোটাভুটিতে একজন বিজয়ী হবেন, বাকি দুজন নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। অর্থাৎ কোনো প্রার্থীই সেই অর্থে পরাজিত হবেন না। সু চি প্রার্থী হলেও, সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। উপরন্তু রয়েছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তার সন্তানদের বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ (ব্রিটিশ), আর একজন বিদেশিকে বিয়ে করা_ তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে প্রধান অন্তরায়। এ ক্ষেত্রে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হলেও, সেনাবাহিনীর সমর্থন প্রয়োজন। সেনাবাহিনী নভেম্বরের নির্বাচন মেনে নিয়েছে সত্য, কিন্তু সু চিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মানবে কিনা, এ প্রশ্ন রয়ে গেছে। শেষ অবধি আন্তর্জাতিক তথা আঞ্চলিক চাপের মুখে সেনাবাহিনী আরো নমনীয় হলেও, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সু চির সহাবস্থানটা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই মিয়ানমারের বিকাশমান গণতন্ত্র আর সু চির ভূমিকা নিয়ে একটা প্রশ্ন রয়েই গেল। দ্রুত এটা স্পষ্ট হবে মিয়ানমারে সুচির ভূমিকা কী হবে আগামীতে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চালু থাকলেও ১৯৬২ সালের পর থেকেই সেনাবাহিনী রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জেনারেল নে উইন পিএসপিপি সোশ্যালিস্ট পার্টি গঠন করেছিলেন। ঠিক একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় ১৯৮৮ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর। তখন গঠন করা হয়েছিল ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি। এরই ধারাবাহিকতায় পরে গঠন করা হয়েছিল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। জেনারেল থেইন সেইন ২০১০ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে এ দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এখনো তিনি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে সামরিক বাহিনী অত্যন্ত কৌশলে সু চিকে ক্ষমতার বাইরে রাখার ব্যাপারে সংবিধান প্রণয়ন করেছে। সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সাল থেকেই সামরিক জান্তা জাতীয় পর্যায়ে একটি জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন করে আসছিল এবং ২০১০ সালের আগেই একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী যিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হবেন, তিনি কোনো বিদেশিকে বিয়ে করতে পারবেন না। এক নাগাদে ২০ বছরের ওপরে বিদেশে থাকলে প্রার্থী হতে যোগ্য হবেন না এবং যিনি প্রার্থী হবেন তার বাবা ও মাকে মিয়ানমারের জন্মগ্রহণকারী নাগরিক হতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী সু চি সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন বটে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসেবে যোগ্য বিবেচিত হবেন না। অবশ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও কথা আছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয় না। সংসদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় বা দ্বিতীয় হন পরে তাদের (তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন) প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী রাজনীতিতে, বিশেষ করে সংসদীয় রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব বজায় রাখা হয়েছে, অনেকটা ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তো জমানার (১৯৬৬-১৯৯৮)। গোলকার মডেলের মতো। মিয়ানমারের পার্লামেন্ট দুই কক্ষবিশিষ্ট ঐড়ঁংব ড়ভ ৎবঢ়ৎবংবহঃধঃরাব (ঢ়ুরঃযঁ ঐষঁঃঃধ,ি নিম্নকক্ষ) ও ঐড়ঁংব ড়ভ ঘধঃরড়হধষরঃরবং (অসুড়ঃযধ ঐষঁঃঃধ,ি উচ্চকক্ষ)। নিম্নকক্ষের সদস্য সংখ্যা ৪৪০, যেখানে সেনা প্রতিনিধিত্ব রয়েছে ১১০ জন, যাদের নিয়োগ দেন সেনাপ্রধান। আর উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা ২২৪, যার মাঝে ৫৬ জন সেনাবাহিনীর। আগে বলা ভালো, অত্যন্ত ক্ষমতালিপ্সু জেনারেল থেইন সেইন ধীরে ধীরে ক্ষমতার শীর্ষে চলে এসেছেন। প্রথমে এসপিডিসির নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল থান সু। কিন্তু থান সুকে একসময় সরিয়ে দিয়ে থেইন সেইন চলে আসেন মূল ক্ষমতায়। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন থেইন সেইন। পরে ২০১১ সালের ৩০ মার্চ থেকে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন। ২০১২ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হন। তিনি আবারো প্রার্থী হবেন কিনা, তা-ও এ মুহূর্তে নিশ্চিত নয়। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়। সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। অং সান সু চির সঙ্গে তার যদি সহাবস্থান হয়, তাহলে আমি অবাক হব না। অং সান সু চি সংসদে তার কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী মনোনীত করতে পারেন। মোদ্দা কথা, সু চি নিজে অথবা যাকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন না কেন, সেনা সমর্থন না থাকলে তিনি বিজয়ী হতে পারবেন না। এ জন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে সেনা সমর্থন নিয়েই সু চি নির্বাচন করেছেন। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী সেখানে এখন রষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রপতিই এখানে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। অর্থাৎ মূল ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে। এখানে সু চি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন তাতে ক্ষমতার ভারসাম্যে আদৌ কোনো পরিবর্তন হবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী হতে হলেও তাকে সেনাবাহিনীর সমর্থনের প্রয়োজন হবে। নিদেনপক্ষে নিম্নকক্ষের ১১০ সদস্যবিশিষ্ট সেনা সদস্যের সমর্থন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেনাবাহিনী রাষ্ট্রযন্ত্রে সু চিকে কিভাবে আনবে, তা-ও স্পষ্ট নয়। ১৯৯০ সালের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। সু চি অনেক দিন ধরেই চাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটা সহাবস্থানে যেতে। যারা সু চির গত এক বছরের ভূমিকা ও বক্তব্য অনুধাবন করেছেন, তারা দেখবেন তিনি সেনাবাহিনীবিরোধী কোনো বক্তব্য দেননি। কিন্তু সেনা-আস্থা কতটুকু তিনি পেয়েছেন, তা নিশ্চিত নয়।
মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরাও একটি ফ্যাক্টর। সেনাবাহিনী এই উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে প্রচ- মুসলমানবিদ্বেষী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা মা বা কা (অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রটেকশন অব রেস অ্যান্ড রিলিজিয়ন) সংগঠনের ব্যানারে সংগঠিত হয়েছেন। তাদের সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য সু চি নির্বাচনে ১ হাজার ৭১১টি আসনের (সংসদের উভয় কক্ষ, ১৪টি রাজ্যের সংসদ ও বিভিন্ন অঞ্চল) একটিতেও কোনো মুসলমান প্রার্থী দেননি। সরকারি দল এসপিডিসিও কোনো মুসলমান প্রার্থী দেয়নি। এমনকি নির্বাচনের আগে সু চি রাখাইন স্টেট সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সমর্থনে তিনি সেখানে কোনো বক্তব্য দেননি। সিরিয়াস পাঠকরা লক্ষ্য করে থাকবেন ২০১২ সালের পর থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপকতা পেলে এবং শত শত রোহিঙ্গার নৌকাযোগে মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যাপারেও সু চির কোনো বক্তব্য নেই। মিয়ানমারের বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে না। মিয়ানমার সরকার মনে করে রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশের নাগরিক! অথচ ইতিহাস বলে শত বছর ধরেই রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছেন। উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা মিয়ানমারকে একটি বৌদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছেন। সু চি এ প্রক্রিয়ার পুরোপুরি বাইরে নন। তিনি জানেন ক্ষমতা পেতে হলে তার উগ্র বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই উগ্রপন্থীরা যখন মুসলমানদের হত্যা করছে, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের বাধ্য করছে বাংলাদেশে 'পুশ ইন' করতে তখন তিনি নিশ্চুপ। মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারেও তার কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তিনি যে স্ট্রাটেজি গ্রহণ করছেন, তা সুবিধাবাদিতায় ভরা। সর্বজনগ্রহণযোগ্য একজন নেত্রী তিনি_ এ কথাটা বলা যাবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচনের আগে একদিকে তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক ধরনের 'সহাবস্থানে' গেছেন, অন্যদিকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থেকে উগ্র বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অবস্থানকেই সমর্থন করেছেন। এতে তিনি 'বিজয়ী' হয়েছেন এটা সত্য। কিন্তু সর্বজনগ্রহণযোগ্য একটি সমাজব্যবস্থা সেখানে কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হবে, সে প্রশ্ন থাকলই। তিনি যদি কঠোর অবস্থানে যান এবং ক্ষমতা পরিচালনা করতে চান, তাহলে তা সামরিক অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর জেনারেলদের প্ররোচিত করতে পারে। তিনি রিয়েল পলিটিকসের পরিচয় দেবেন, এটাই সবাই প্রত্যাশা করে। এই মুহূর্তে যা প্রয়োজন তা হচ্ছে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করা, গণতন্ত্রকে সংহত করা ও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা। অনেকটা ইন্দোনেশিয়ায় সুহার্তো-পরবর্তী মডেল তিনি অনুসরণ করতে পারেন। সেখানে সেনাবাহিনী এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় 'কমিটেড'। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্টের পদটিকে একটি 'নিয়মতান্ত্রিক পদে' পরিণত করতে পারেন। সাংবিধানিকভাবে এটাও এখন সম্ভব নয়। সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হলে সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়েই তা করতে হবে। কিন্তু বিষয়টি অত সহজ নয়। সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই যে লিখিত সুবিধা ভোগ করে আসছে তা ছেড়ে দেবে, এটাও মনে হয় না।
মিয়ানমারে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় রাষ্ট্রই বিসিআইএম ও বিবিআইএমএস টেকজোটের সদস্য। বাংলাদেশের পূর্বমুখী পররাষ্ট্রনীতির জন্য এ দুটো জোটের গুরুত্ব অনেক বেশি। যদিও সেখানে দীর্ঘ সেনাশাসন থাকায়, দুই দেশের মাঝে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়নি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি করে আমদানি করে তার চেয়ে বেশি। ২০০৫-০৬ সালে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছিল ৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য (২০১২-১৩ সালে এর পরিমাণ ১৩ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন), আর আমদানি করেছিল ২৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য (২০১২-১৩ সালে এর পরিমাণ ৮৪ মিলিয়ন)। অথচ বিশাল এক সম্ভাবনার দেশ মিয়ানমার। বাংলাদেশের জ্বালানির অন্যতম উৎস হতে পারে মিয়ানমার। সুতরাং একটি গণতান্ত্রিক সরকার সম্ভাবনার অনেক দুয়ার খুলতে পারে।
এখন অনেক কিছুই নির্ভর করছে সু চির ওপর। 'রিয়েল পলিটিকস' নাকি সরাসরি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিবাদ_ কোনটা বেছে নেবেন সু চি? দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি অন্তরীণ ছিলেন। তিনি জানেন সেনাবাহিনী মিয়ানমারে কত শক্তিশালী। ক্ষমতা পেতে হলে সেনাবাহিনীকে আস্থায় নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তার সম্মুখে মিসরের দৃষ্টান্ত আছে। সাময়িকভাবে সেখানে ড. মুরসিকে ক্ষমতা দিয়েছিল সেনাবাহিনী। সুযোগ বুঝে তারা আবার সে ক্ষমতাও নিয়ে নিয়েছে। সুতরাং 'বিচক্ষণ' সু চি কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিবাদে গিয়ে তার তেমন কোনো লাভ হবে না। ক্ষমতা পেতে তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। স্বামীর মৃতদেহ দেখতেও তিনি পারেননি। দুই ছেলে ব্রিটেনে, তাদের সঙ্গেও তেমন একটা যোগাযোগ নেই। ফলে সুচির আগামী দিনগুলো সত্যিকার অর্থেই লক্ষ্য রাখার বিষয়। আপাতত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তার পরই আমরা বুঝতে পারব ইতিহাসে কিভাবে চিহ্নিত হবেন অং সান সু চি।
daily Jai Jai Din18.02,16

0 comments:

Post a Comment