রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

ভারত মহাসাগরে চিন ও ভারত দ্বন্দ্ব বাড়ছে


ভারত মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এ সংক্রান্ত দুটি সংবাদ সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদে বলা হয়েছে, ভারত তার নৌবাহিনীর বড় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ বিক্রমাদিত্যকে মালদ্বীপে পাঠিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ বিক্রমাদিত্যের সঙ্গে আছে ডেস্ট্রয়ার মাইশোর। চিনকে ‘চাপে’ রাখতেই ভারত যুদ্ধজাহাজ মালদ্বীপে পাঠিয়েছে বলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ইকোনমিক টাইমস আমাদের খবর দিয়েছে। এই সংবাদটি বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায়ও ছাপা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২১-২২ জানুয়ারি বিক্রমাদিত্যকে শ্রীলংকার কলম্বোতে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক জলসীমায় মোতায়েন করা হয়। দ্বিতীয় অপর একটি সংবাদেও এই চিন-ভারত দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও জিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ পেতে যাচ্ছে ভারত। জিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনাদিয়ায় যে গভীর সমুদ্রবন্দরটি নির্মাণের কথা ছিল এবং যা চিনের সাহায্যে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল, তা এখন পরিত্যক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন পায়রা বন্দরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করতে যাচ্ছে, যেখানে চিনসহ আরও ১০টি কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছিল। পাঠকরা নিশ্চয়ই স্মরণ করতে পারেন, কলম্বোতে চিনা ডুবজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শ্রীলংকায় সরকার পর্যন্ত পরিবর্তন হয়েছিল। এই ডুবজাহাজের উপস্থিতিকে ভারত দেখেছিল তার নিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ হিসেবে। সাবেক শ্রীলংকান রাষ্ট্রপতি রাজাপাকসে ছিলেন অতিমাত্রায় চিনানির্ভর। চিন শ্রীলংকার হামবানতোতা ও কলম্বোতে দুটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি খুব সহজভাবে দেখেনি ভারত। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেখানে এক ধরনের ‘হস্তক্ষেপ’ করে এবং সিরিসেনাকে রাজাপাকসের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে দাঁড় করায়। অবশ্য নির্বাচনে সিরিসেনা বিজয়ী হয়েছিলেন এটা সত্য। ভারতে মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় মহাসাগর তথা মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলকে ঘিরে নয়া ভারতীয় স্ট্র্যাটেজি রচিত হয়েছে। গেল বছর (মার্চ) ভারতের উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে ভারতীয় মহাসাগরভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘ইন্ডিয়ান ওসেন রিস’-এর একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশও তাতে অংশ নিয়েছিল। ওই সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সুস্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ভারত মহাসাগরে চিনের প্রবেশ ভারতের কাছে কাক্সিক্ষত নয়। ভুবনেশ্বর শীর্ষ সম্মেলনের আগে মোদি সরকার মরিশাসে ভারতীয় ঘাঁটি স্থাপনের ব্যাপারে একটি চুক্তি করেছে। মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার সঙ্গে একটি মৈত্রী জোট গড়ারও উদ্যোগ নিয়েছিল ভারত। এই জোটে মরিশাস ও সিসিলিকে পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় আরও একটি সংবাদে এই ভারত-চিন দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই খবরটিও দিয়েছে ভারতের বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার। ওই খবরে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, চিন এখন আর শুধু অরুনাচল ও লাদাখেই তার দাবি অব্যাহত রাখছে না বরং এই প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরে ভারত নিয়ন্ত্রিত দ্বীপ আন্দামান ও নিকোবারও তাদের বলে দাবি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে ভারত চুক্তি করে বিতর্কিত দক্ষিণ চিন সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরই চিন আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জে তাদের অধিকার দাবি করল।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তথা ভারত মহাসাগর আগামী দিনে প্রত্যক্ষ করবে এক ধরনের প্রভাব বিস্তার করার প্রতিযোগিতা। এই দুটি অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ‘সামরিক তৎপরতা’ লক্ষণীয়। দক্ষিণ চিন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে একটি সামরিক ঐক্য জোট গঠিত হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে চিনের ওপর ‘চাপ’ প্রয়োগ করা। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিন তার নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে। দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মাল্লাক্কা প্রণালি হয়ে ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে এরাবিয়ান গালফ পর্যন্ত যে সমুদ্রপথ, তার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় চিন। কারণ ওই পথ তার জ্বালানি সরবরাহের পথ। চিনের জ্বালানি চাহিদা প্রচুর। এদিকে ভারতও ভারত মহাসাগরে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ভারতের নৌবাহিনীর ‘নিউ ইস্টান ফিট’-এ যুক্ত হয়েছে বিমানবাহী জাহাজ। রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। আন্দামান ও নিকোবারে রয়েছে তাদের ঘাঁটি। ফলে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে চিন ও ভারতের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়ার কর্তৃত্ব নিয়ে চিন ও ভারতের অবস্থান এখন অনেকটা পরস্পরবিরোধী। যেখানে চিনা নেতৃত্ব একটি নয়া ‘মেরিটাইম সিল্ক রুট’-এর কথা বলছে, সেখানে মোদি সরকার বলছে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক করিডোরের কথা, স্বার্থ মূলত এক ও অভিন্নÑ এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই এশিয়ার এই দুটি বড় দেশের মাঝে দ্বন্দ্ব অনিবার্য। আর এটাকেই কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এক সময় মার্কিনি গবেষকরা একটি সম্ভাব্য চিন-ভারত অ্যালায়েন্সের কথা বলেছিলেন। জনাথন হোলসলাগ ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে লিখিত একটি প্রকল্পে ঈযরহফরধ (অর্থাৎ চিন ভারত)-এর ধারণা দিয়েছিলেন। চিনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের (২০১৪) পর ধারণা করা হয়েছিল যে, দেশ দুটি আগে কাছাকাছি আসবে। কিন্তু শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা, চিন-ভারত সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং চিনা প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে এই সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। নতুন আঙ্গিকে ‘ইন্ডিয়া ডকট্রিনের’ ধারণা আবার ফিরে এসেছে। এই ‘ইন্ডিয়া ডকট্রিন’ মনরো ডকট্রিনের দক্ষিণ এশীয় সংস্করণ। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ায় অন্য কারও কর্তৃত্ব ভারত স্বীকার করে নেবে না। এক সময় এই এলাকা, অর্থাৎ ভারত মহাসাগরীয় এলাকা ঘিরে ‘প্রিমাকভ ডকট্রিন’ (২০০৭ সালে রচিত। শ্রীলংকা, চিন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐক্য)-এর যে ধারণা ছিল, শ্রীলংকায় সিরিসেনার বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণা এখন আর কাজ করবে না। ফলে বাংলাদেশ তার পূর্বমুখী ধারণাকে আরও শক্তিশালী করতে বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চিনের ইউনান রাজ্য, ভারতের সাতবোন, মিয়ানমার) যে আগ্রহ দেখিয়েছিল, তাতে এখন শ্লথগতি আসতে পারে। সামরিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত এখন আর বিসিআইএম ধারণাকে ‘প্রমোট’ করবে না। আর বাংলাদেশের একার পক্ষে চিন ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে ‘বিসিএম’ ধারণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব হবে না। ভারত এখন উপ-আঞ্চলিক জোট বিবিআইএন জোটের কথা বলছে। ভারতের কর্তৃত্ব করার প্রবণতা এ অঞ্চলের দৃশ্যপটকে আগামী দিনে বদলে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও লক্ষণীয়। ভারত বড় অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। এখানে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ছে। ফলে এখানে মার্কিনি স্বার্থ থাকবেই। এ অঞ্চলে মার্কিনি স্বার্থের অপর একটি কারণ হচ্ছে চিন। চিনকে ‘ঘিরে ফেলা’র একটি অপকৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘কৌশলগত সম্পর্কে’ নিজেদের জড়িত করেছে। এই দুই দেশের স্বার্থ এক ও অভিন্ন। তবে ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’দেশের মাঝে অবিশ্বাসের জন্ম হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্ররা লক্ষ করেছেন যে, একুশ শতকে ভারত মহাসাগর প্রত্যক্ষ করবে ত্রিদেশীয় একটি প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্র তার এশীয়-প্যাসিফিক ফিট থেকে ৬টি জাহাজ ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করবে। এটি সম্পন্ন হবে ২০১৯ সালের মধ্যে। ভারত তার প্রাচীন ‘কটন রুট’কে আবার নতুন করে সাজাচ্ছে। এই ‘কটন রুট’ ধরে ভারতীয় পণ্য, বিশেষ করে তার সুতি কাপড় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেত। এমনকি এই ‘কটন রুট’ ধরে ভারতীয় ব্রাহ্মণরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া (বালি) ও কম্বোডিয়ায় হিন্দুধর্মের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছিলেন। এ অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের বিকাশও ঘটেছিল এই ‘কটন রুট’ ধরে। এর আগে চিনা নেতা শিজেন পিং একটি ‘মেরিটাইম সিল্করুট’-এর কথা বলেছিলেন। এই ‘মেরিটাইম সিল্ক রুট’কে সামনে রেখে চিন বেশ কিছুদিন আগে তার বিখ্যাত ‘মুক্তার মালা’ নীতি গ্রহণ করেছিল। চিন যে ‘ঝঃৎরহম ড়ভ ঢ়বধৎষং’ বা ‘মুক্তার মালা’ নীতি গ্রহণ করেছে, তার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সামুদ্রিক বন্দরগুলোকে একত্রিত করতে চায়। এতে করে আরব সাগর থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর কর্তৃত্ব বেড়েছে। চিনের এই মুক্তার মালা নীতির কারণে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মাল্লাকা প্রণালি, ইন্দোনেশিয়ার বালি হয়ে ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে এরাবিয়ান গালফ পর্যন্ত যে সমুদ্রপথ, এই সমুদ্রপথ থাকছে চিনের নিয়ন্ত্রণে। কেননা এ পথ তার জ্বালানি সরবরাহের পথ। সাওদার (বেলুচিস্তান, পাকিস্তান) ও চিনা নৌবাহিনীর একটি ছোট্ট ইউনিটও রয়েছে, যেখান থেকে চিন ভারত মহাসাগরের সব ধরনের নৌ-মুভমেন্ট লক্ষ করবে।
সাওদারের ঠিক উল্টো দিকে ভারত মহাসাগরেরর এক পাশে রয়েছে শ্রীলংকার হামবানতোতা গভীর সামুদ্রিক বন্দর। এই সামুদ্রিক বন্দরটি চিন নির্মাণ করে দিয়েছে। এখানে চিনা নৌবাহিনীর সাবমেরিনের উপস্থিতি ভারতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দাদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। ভারতের স্ট্র্যাটেজিস্টরা এ ধরনের কর্মকা- তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করেছিল। এ জন্য রাজাপাকসেকে ক্ষমতা পর্যন্ত হারাতে হয়েছিল। রাজাপাকসে অতি মাত্রায় চিনানির্ভর ছিলেন। এই চিনানির্ভরতা ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা খুব সহজভাবে নিতে পারেননি। সেখানে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। নয়া প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা দায়িত্ব নিয়েছেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি শ্রীলংকাও ঘুরে এসেছেন অতি সম্প্রতি। স্পষ্টতই মোদি সরকার ভারত মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলগুলো নিয়ে যে নীতি প্রণয়ন করেছেন, তাতে করে এটা স্পষ্ট, এই নীতি এই অঞ্চলে চিনা স্বার্থকে আঘাত করবে। ফলে এ অঞ্চল, অর্থাৎ ভারত মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলে আগামী দিনগুলোতে যে এক ধরনের প্রভাব বলয় বিস্তার করার প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতোমধ্যে মিয়ানমারে একটি নয়া সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। অং সান সুচি ভবিষ্যতে মিয়ানমারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছেন। মিয়ানমারকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে। মিয়ানমারের জ্বালানিসম্পদ, বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে গ্যাস ও তেল প্রাপ্তি মিয়ানমারকে আগামী সময়ে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে এক ধরনের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করতে পারে। এই জ্বালানিসম্পদের ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে ভারতেরও, যেখানে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ছে। স্পষ্টতই ভারত মহাসাগরকে ঘিরে একদিকে ভারত, অন্যদিকে চিন এবং মাঝখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজ নিজ স্ট্র্যাটেজি ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই স্ট্র্যাটেজি এই দেশগুলোর স্বার্থে কতটুকু আঘাত করে কিংবা এই স্ট্র্যাটেজি আদৌ কোনো ‘সংঘর্ষের’ পর্যায়ে রূপ নেয় কিনা, তা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। 
Daily Amader Somoy
22.02.16

0 comments:

Post a Comment