রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

রাষ্ট্রপতির দিকে তাকিয়ে আছে জাতি



নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে যে সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে, তা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সার্চ কমিটির ব্যাপারে প্রায় সবাই আস্থা রাখলেও এ কমিটি ইতিমধ্যে কিছু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সার্চ কমিটি প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কাছে ৫টি করে নাম চেয়েছিল। প্রায় সব দলই নাম দিয়েছে। এবং নামগুলো পত্রপত্রিকায় ছাপাও হয়েছে। প্রশ্ন এখানেই। সবার আগ্রহ ছিল দুটি বড় দলের দিকে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কাদের নাম প্রস্তাব করে- এ ব্যাপারে আগ্রহ ছিল সারা দেশবাসীর। ইতিমধ্যে জাতি জেনে গেছে কারা কারা এ দুটি বড় দলের প্রস্তাবিত তালিকায় আছেন। সার্চ কমিটি নামগুলো আহ্বান করে কি এ সম্মানিত ব্যক্তিদের বিতর্কিত করল না? সারা দেশের মানুষ জেনেছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যাদের চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে বিলুপ্ত প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম, সাবেক সিনিয়র সচিব মঞ্জুর হোসেন, সাবেক আইজিপি নূর মোহম্মদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষক ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম। অন্যদিকে বিএনপির পাঠানো লিস্টে রয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সচিব আসাফউদ্দোলা, আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী। এর ফলে আগামীতে তারা বিব্রত হতে পারেন। তবে এটি সত্য, দুই বড় দলের পক্ষ থেকে যে নামগুলো এসেছে, তাদের কেউ কেউ বিতর্কিত। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সুবিধা নেয়া, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় প্রায় তিনশ’ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে দুদকে অভিযোগপত্র দায়ের এবং সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করা, অবাধ্যতা ইত্যাদি নানা অভিযোগ রয়েছে কারও কারও বিরুদ্ধে, যা অতীতে কোনো কোনো সংবাদপত্রে ছাপাও হয়েছে।

তুলনামূলক বিচারে বিএনপির দেয়া তালিকায় বিতর্কিত ব্যক্তি কম। তারপরও যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন, তার নাম সিইসি হিসেবে প্রস্তাবিত হয় কীভাবে? তিনি নিজেও বা সম্মতি দিলেন কীভাবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার- গভর্নরের মান-মর্যাদা অনেক উঁচুতে। প্রটোকল এবং ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে গভর্নরের অবস্থান ওপরে। তিনি কীভাবে সিইসি হন? শাহদীন মালিক আইন পেশায় জড়িত। কিংবা তাসনিম সিদ্দিকী? তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হতে পারেন বটে, কিন্তু নির্বাচন ব্যবস্থা, নির্বাচনী সংস্কৃতি সম্পর্কে তার ধারণা নেই। একই কথা প্রযোজ্য ড. শাহদীন মালিকের ক্ষেত্রে। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে ড. তোফায়েল আহমেদের মনোনয়নটি ভালো। তার গ্রহণযোগ্যতা আছে।

তারপরও কথা থেকে যায়। একজন ব্যক্তি এককভাবে কোনো ‘পরিবর্তন’ আনতে পারেন না। সার্চ কমিটি আরও একবার বিতর্কিত হয়েছে, যখন একজন ‘বিশিষ্ট’ ব্যক্তিকে তারা আমন্ত্রণ জানালেন, যিনি আবার মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) পদবির অধিকারী, তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েও পরে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে, এটা সার্চ কমিটি জানল না কেন? আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়ে তাকে কি প্রকারান্তরে অপমান করা হল না? সার্চ কমিটি কি তাকে অপমান করার অধিকার রাখে?

এখানে আরও প্রশ্ন আছে- কোন ‘ক্রাইটেরিয়াতে’ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের নাম নির্ধারণ করা হল? তাদের বাইরে কি আর কোনো বুদ্ধিজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা যেত না? আসলে নতুন নির্বাচন কমিশন একটি ‘রুটিন ম্যাটার’। এর জন্য এত ঢাকঢোল পিটিয়ে সার্চ কমিটি গঠন, এত ‘টকশো’র প্রয়োজন ছিল না। ২০টি নাম তারা ঠিক করেছে এবং ৮ তারিখের মধ্যে ১০টি নাম চূড়ান্ত করে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে একজন সিইসিসহ মোট ৫ জনকে নিয়োগ দেবেন। বলা হচ্ছে, সার্চ কমিটি নিজেরাও নাম দিতে পারে। সার্চ কমিটিতে সরকারি কর্মচারী ও সরকারি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা আছেন। এ ক্ষেত্রে এ কমিটির সিদ্ধান্তে সরকারের ‘ইচ্ছা-অনিচ্ছা’ প্রতিফলিত হবে না- এ গ্যারান্টি কে দেবে? যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে এখনও জড়িত, আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন, প্রোভিসি হয়েছেন, তিনি যখন একটি কমিটিতে থাকেন, তখন তা কী করে নিরপেক্ষ হয়? কিংবা যিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন করে (২০১৪) ইসিতে থাকাকালীন নিজে বিতর্কিত হয়েছিলেন, পরে অবসরকালীন ছুটি ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ ‘পেয়ে’ গেলেন, তিনি কতটা নিরপেক্ষ? হিসাব মহানিরীক্ষক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি সরকারি চাকুরে। তিনি কি পারবেন সরকারের ‘ইচ্ছা-অনিচ্ছা’ উপেক্ষা করতে? বাংলাদেশের বাস্তবতা বলে, এরা কেউই তা পারবেন না। ফলে আমার কাছে এ সার্চ কমিটির কোনো ‘মূল্য’ নেই। এত ঢাকঢোল পেটানোর প্রয়োজন ছিল না। প্রথম দফায় ১২ জন, দ্বিতীয় দফায় ৪ জন বুদ্ধিজীবী- এরা কি ‘বুদ্ধি’ দিয়ে এসেছেন, আমি জানি না। জানার আগ্রহও আমার নেই। তবে একটা ‘হিসাব’ আমি কষতে পারি। সাংবিধানিকভাবে সিইসি ও কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি এককভাবেও নিয়োগ দিতে পারতেন। তিনি তা করেননি। এখন সার্চ কমিটি যে নামগুলোই পাঠাক না কেন, অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জানেন সংবিধানের ৪৮(৩) নং অনুচ্ছেদে কী লেখা আছে। তিনি এর বাইরে যাবেন না। যেতে পারবেন না। অর্থাৎ তত্ত্বগতভাবে সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নামে প্রধানমন্ত্রীর অপছন্দের কোনো ব্যক্তি থাকলে ওই নাম ৫ জনের তালিকায় থাকবে না। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত নামের তালিকার পুরোটাই থাকবে, এমনটিও নয়। বিএনপির দেয়া তালিকা থেকে একজন কিংবা অন্য কোনো তালিকা থেকে অপর একজন মনোনীত হলে আমি অবাক হব না। তবে নিশ্চিত করেই বলতে পারি, আওয়ামী লীগের তালিকা থেকেই সিইসি হবেন। এর বাইরে থাকার সুযোগ নেই।

তবে এবার হয়তো সার্চ কমিটি দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়ে গেল। কিন্তু একটি আইন এবার হবে। সংসদে সেই আইনটি পাস করাতে হবে। সেই আইনটি যাতে ত্রুটিমুক্ত থাকে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এখন একটি কমিশন গঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। আমি দিব্যি দিয়ে বলতে পারি, যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন এবং দায়িত্ব নেবেন তাদেরও বিতর্কিত করা হবে। এ ‘বিতর্কের’ ভয়ে অনেক শুভবুদ্ধির মানুষ নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব নিতে অতীতে আগ্রহী হননি। সম্মানের ভয়ে কেউই আসতে চাননি। ফলে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে বটে, কিন্তু এ কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে, তা নিয়েও একটা শংকা রয়ে গেল।

একটি ‘গ্রহণযোগ্য ও সব দলের অংশগ্রহণে’ নির্বাচন প্রয়োজন। ৫ জানুয়ারি (২০১৪) একটি নির্বাচন হয়েছিল বটে। কিন্তু ওই নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। এরপর থেকে দাতাগোষ্ঠী বারবার বলে আসছে ‘সব দলের অংশগ্রহণে’ একটি নির্বাচনের কথা। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যও সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চান না’। জানি না, প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সভায় কথাটা এভাবেই বলেছিলেন কিনা। বাস্তবতা হচ্ছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটা ভালো ছিল না। এর জন্য যে বক্তব্যই দেয়া হোক না কেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এ দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা নিশ্চয়ই আগামী নির্বাচনটাও এমন দেখতে চাই না। একটি নির্বাচন হবে এবং তাতে সব দল অংশ নেবে, এটাই কাম্য। সেজন্যই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বটি অনেক বেশি। সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে অনেক স্বাধীনতা দিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে স্বাধীনতার ব্যবহার নিয়ে। রকিব কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করতে পারেনি। সুতরাং যারা আসবেন, তাদের নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে। এখন দেখার পালা কমিশনে কাদের নাম প্রস্তাব করা হয়।

সংলাপের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, বড় দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে। এটাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বড় সমস্যা। প্রতিটি ইস্যুতে মতপার্থক্য খুব বেশি। সার্চ কমিটি গঠনের প্রশ্নেও এই মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। তবুও আশা করব, সার্চ কমিটি যাদের নাম রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য প্রেরণ করবে, তাদের নিয়ে বিতর্ক হবে না। কিংবা রাজনৈতিকভাবে যারা পরিচিত, তাদের নাম তিনি প্রস্তাব করবেন না। সাবেক কোনো আমলাকে সিইসি পদে প্রস্তাব না করাই মঙ্গল। সেক্ষেত্রে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নাম প্রস্তাব করা যেতে পারে। কমিশনার হিসেবে শিক্ষাবিদরা, অথবা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও আসতে পারেন। সাবেক জেলা জজ কিংবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসাররাও যে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না, রকিব কমিশন এর বড় প্রমাণ। তাই সার্চ কমিটির দায়িত্ব অনেক বেশি। ১০ দিন সময়টা খুব বেশি নয়। ইতিমধ্যে তারা অনেক কাজ করে ফেলেছেন। বর্তমান সার্চ কমিটির যিনি প্রধান, তিনি ২০১২ সালেও সার্চ কমিটির প্রধান ছিলেন। তিনিই কাজী রকিবউদ্দীনকে সিইসি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু তার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। ওই অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান কমিশন নিশ্চয়ই কিছু শিখেছে। সাধারণ মানুষ চাচ্ছে না দ্বিতীয় আরেকটি রকিব কমিশন গঠিত হোক। সার্চ কমিটির কাছে প্রত্যাশা তাই অনেক বেশি।

আমরা চাই এ দেশে সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হোক। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠুক। এ আস্থার সম্পর্ক গড়ে না উঠলে বারবার সংকটের জন্ম হয়। সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে প্রধান বিরোধী দল। আর প্রধান বিরোধী দলের নানা সমালোচনায় মুখর থাকবে সরকারি দল। আমরা গণতন্ত্র চাই বটে। কিন্তু ভুলে যাই পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস আর আস্থা স্থাপনের নামই গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্র এখন বাংলাদেশে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সার্চ কমিটি নিয়ে যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল, তা যেন ভেস্তে না যায়। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনও যেন না পড়ে একটি প্রশ্নের মুখে।

ইতিমধ্যে দাতাগোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়েছে। দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা আগামী নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনের বিষয়টি একান্তভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশের সংবিধানে এ ব্যাপারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আছে। সুতরাং বাইরের কোনো ‘শক্তির’ এ ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ নেই। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আস্থার সম্পর্কে ঘাটতি থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি থাকেন এবং বিএনপি যদি তাদের প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে জটিলতা বাড়বে এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দাতাগোষ্ঠীর চাপ তখন আরও বাড়বে। রাষ্ট্রপতি দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ দেননি। এটা ভালো দিক। রাষ্ট্রপতিকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি থাকেন এবং বিএনপি যদি তার সম্পর্কে আপত্তি জানায়, দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। আমাদের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় তারা নাক গলাবেন- এটা আমরা চাই না। তাই সার্চ কমিটির মনোনয়ন তথা রাষ্ট্রপতির দিকে তাকিয়ে আছে সারা জাতি। আমি চাই এর মধ্য দিয়েই একটি আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠুক। বিএনপিকে নিয়ে যাক নির্বাচনী মাঠে।
Daily Jugantor
05.02.2017

0 comments:

Post a Comment