রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

এই ‘সংলাপ’ নিয়ে তা হলে কী হবে

দলটির নাম বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, সংক্ষেপে মুক্তিজোট। দলটি নিবন্ধিত। তাই নির্বাচন কমিশন তাদের সংলাপে ডেকেছিল গত ২৪ আগস্ট। আমি জানি না বাংলাদেশের কজন মানুষ মুক্তিজোট নামে একটি দলের নাম জানে। কজন সাংবাদিক, জন বিশ্লেষক এই দলটির নাম জানেন, আমি নিশ্চিত নই। আমি নিজে রাজনীতি নিয়ে কাজ করি। অনেক গ্রন্থ আমার রয়েছে, যা বাংলাদেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে লিখিত হয়েছে। আমি দলটির নাম প্রথমবারের মতো ইসির ওয়েবসাইটে দেখেছিলাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ করে কী লাভ? এটা কি লোক দেখানো হয়ে গেল না? ইসির নিবন্ধনে আছে ৪০টি দল। এদের সবার গণভিত্তি কী, বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়নে এদের ভূমিকা কীÑ এটা নিয়ে দীর্ঘ নিবন্ধ লেখা যায়। কিন্তু মুক্তিজোটর মতো দলের সঙ্গে সংলাপ করে কি সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে? ইসি হয়তো দেখাতে পারবে অনেকগুলো দলের সঙ্গে তারা সংলাপ করেছে, ওইসব দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে! কিন্তু মানুষ কি তা গ্রহণ করে নেবে? মুক্তিজোটের মতো আরও অনেক দল আছে, নিবন্ধিত, যার নেতা বর্তমান সরকারের আমলে মন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু জীবনে কোনো নির্বাচনে ৫০০ ভোটের ওপর পাননি। চাঁদার টাকায় যিনি চলতেন। নির্বাচন না করে জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়েই তিনি মন্ত্রী হয়েছিলেন। আজীবন যিনি আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতি করে সংবাদপত্রে স্থান পেয়েছেন, তিনি ১৪ দলের শরিক হিসেবে মন্ত্রী হয়েছিলেন। ওইসব ছোট দলের সুবিধা একটাইÑ জোটে থাকতে চায় নেতা এমপি হতে চান। ১৪ দল কেন বলি, ২০ দলের কথা চিন্তা করুন। বিএনপির স্থায়ী পরিষদের অনেক সদস্যই ২০ দলের সব নাম একসঙ্গে বলতে পারবেন না। তবে চমক দেখিয়েছে এরশাদের জাতীয় পার্টি। তিনি এখন ৫৮ দলের (২) নেতা। একদল, এক ব্যক্তিও আছেন তার সঙ্গে। তিনি আবার এটা নিয়ে গর্ব করেন। প্রায় প্রতিদিনই এখন তিনি সরকারবিরোধী কথাবার্তা বলছেন। তা আবার পত্রিকায় ছাপাও হচ্ছে। তিনি এসব কথা বলছেন যে সরকারের বিরুদ্ধে, সেই সরকারের একজন বেতনভুক্ত বিশেষ উপদেষ্টা তিনি! ভালো করতেন যদি তিনি সরকারের উপদেষ্টার পদ, স্টাফ, গাড়ি, বিশেষ প্রটোকল ছেড়ে দিতেন। দুর্ভাগ্য আমাদের, এসব কথা শুনতে হয়। সংবাদপত্রে তার সংবাদ পাঠ করতে হয়। গত ২৪ আগস্ট তিনি বললেন, তার দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না! কোথায় পেলেন তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার? কোনো দল তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলেনি। বলেছে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার।

সংবাদপত্রগুলো এখন সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির দ্বন্দ্ব নিয়ে নিত্যদিন নানা স্টোরি করছে, এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার বক্তব্যের জন্য আবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হলেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে সংলাপ, এর পর তিনি কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। এগুলো অনেকটা এ রকম : ১. ইসি সব দলকে ভোটে আনতে কোনো মধ্যস্থতা করবে না। এটা তাদের কাজ নয়; ২. কারো চাওয়া বা না চাওয়ার ওপর সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নির্ভর করে না; ৩. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না; ৪. সরকার যে নির্বাচন পদ্ধতি সেট করে দেয়, সেই নিয়মেই তিনি নির্বাচন করবেন; ৫. বর্তমানে শতকরা একশ ভাগ অনুকূল ও আস্থাশীল পরিবেশ রয়েছে এবং কেউ তার কাছে কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে যায়নি ইত্যাদি। সুধী সমাজ এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের প্রায় সবাই যখন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে তাদের মতামত দিয়েছিলেন, তখন একই সঙ্গে একটি বক্তব্য সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। বক্তব্যটি দিয়েছেন বাসসের প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, যিনি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সচিব। সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিকে তিনি এক ধরনের মতলব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সংবাদপত্রে তার বক্তব্যটি এভাবেই এসেছে। এই তথাকথিত মতলববাজের বক্তব্যকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? এ দেশের অনেক সিনিয়র নাগরিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, অনেক সিনিয়র সাংবাদিক, যাদের কেউ কেউ আবার সরকার সমর্থকও বটে, তারা স্পষ্ট সংলাপ ও সেনা মোতায়েনের পক্ষে কথা বলেছেন। আমি নিজে সংলাপে অংশ নিয়ে সেনা মোতায়েনের পক্ষে কথা বলেছি। সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের প্রায় সবাই সেনা মোতায়েনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। এরা সবাই কী তা হলে মতলববাজ বা কুমতলবে কাজ করছেন! গণমাধ্যম ব্যক্তিরা যখন এ ধরনের কথাবার্তা বলেন, তখন বিভ্রান্তি ছড়ায় বৈকি। আবার সিইসি যখন নানা প্রশ্ন তোলেন, তখনো বিভ্রান্তি বাড়ায়। সিইসি মধ্যস্থতা করবেন না, এটা ঠিক আছে। কিন্তু বড় দলগুলোকে যদি তিনি আস্থায় নিতে না পারেন, তা হলে এই সংলাপ কী অর্থহীন হয়ে যাবে না? সংলাপে ডেকে ফটোসেশন করে আর দুপুরে লাঞ্চ খাইয়ে কি অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে? কারো চাওয়া বা না চাওয়ার ওপর সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নির্ভর করে নাÑ এ ধরনের কথাবার্তা তো রাজনীতিবিদরা বলেন, সিইসি কেন বললেন? তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেনÑ এটা তাকে বুঝতে হবে। আমরা সবাই সংলাপে বলেছি সিইসিকে কম কথা বলার জন্য। যা বলার তা বলবেন ইসির সচিব। রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। নতুন নতুন ইস্যু তৈরি হচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় আরও ইস্যু তৈরি হবে। উত্তেজনা আরও বাড়বে। ইসি এমন কোনো কর্মকা- করবে না, যাতে করে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে এবং মূল ধারার বড় দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। আমরা সবাই চাই একটি ভালো নির্বাচন হোক। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। নির্বাচনে সিলমারা সংস্কৃতি, ভোটকেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি কিংবা বিরোধী দলের প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়াÑ এই যে প্রবণতা বিগত দশম সংসদ নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন কিংবা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা দেখেছি, এই প্রবণতা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায়। এ ক্ষেত্রে ইসির করণীয় আছে। ইসি এ ক্ষেত্রে বেশ কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। যেমনÑ ১. স্থানীয়ভাবে বিরোধী ব্যক্তিদের দিয়ে ইসি একটি পর্যবেক্ষক টিম গঠন করতে পারে। যাদের কাজ হবে নির্বাচন কেন্দ্রগুলো মনিটরিং করা এবং সরাসরি কেন্দ্রে রিপোর্ট করা, ২. মিডিয়ার মাধ্যমে যেখান থেকেই জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখলের খবর আসবে, সেখানে ওই কেন্দ্র নয়, বরং পুরো নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা, ৩. মনোনয়নপত্র একই সঙ্গে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে গ্রহণ করা। এতে করে প্রার্থীর পক্ষে একাধিক জায়গায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার খবর এলে ওই এলাকার নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করতে হবে, ৪. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্বাচনী কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে, ৫. সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনায় যদি প্রার্থীরা সমানসংখ্যক ভোট পান, তা হলে লটারির পরিবর্তে সেখানে পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং কোনো প্রার্থী যদি শতকরা ৫০ ভাগের নিচে ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা যাবে না। সেখানেও পুনরায় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশে এ ধরনের নিয়ম আছে, ৬. সংসদ সদস্যের যোগ্যতার প্রশ্নে ন্যূনতম যোগ্যতা যুগোপযোগী হওয়া উচিত। দেশে উচ্চশিক্ষার হার বেড়েছে। যারা দেশের জন্য আইন প্রণয়ন করবেন, তারা যদি শিক্ষিত না হন, তাহলে সঠিক ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করবেন কীভাবে? এতে করে সংসদ সদস্যরা বেশিমাত্রায় আমলানির্ভর হয়ে যাবেন। আমলারা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটাবেন, ৭. বর্তমান আইনে সুবিধাবাদী ও ধান্ধাবাজ ঊর্ধ্বতন আমলা, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা অবসরের তিন বছর পর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। এটা একটা দুর্বল আইন। এটা পরিবর্তন করে ন্যূনতম ৫ বছর করা প্রয়োজন। অর্থাৎ একজন আমলা ৫৯ বছর বয়সে অবসরে যাবেন এবং ৬৫ বছর বয়সে তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে শর্ত থাকবে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থাৎ ওই সংসদীয় এলাকায় দল তাকে মনোনয়ন দেবে। এটা না হলে দেখা যাবে সুযোগসন্ধানী আমলারা সচিবালয়ে থাকাকালীন মন্ত্রণালয়ের প্রভাব খাটিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন। এতে করে পরোক্ষভাবে তিনি সরকারকে ব্যবহার করছেন। পাঁচ বছরের একটি গ্যাপ থাকলে এই কাজটি করতে তিনি অপারগ হবেন। সংলাপে এসব প্রশ্নই উঠেছে।

আমরা চাই সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক। মুক্তিজোটের মতো দলের (?) সঙ্গে সংলাপ করে এটা নিশ্চিত করা যাবে না। আস্থা অর্জন করতে হবে বিএনপির মতো বড় দলের। এ জন্য সিইসিকে কৌশলী হতে হবে। বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা এড়াতে হবে। মিডিয়ার কাছে যত কম যাবেন, ততই সিইসির জন্য মঙ্গল। অভিযোগ উঠেছে, এই সংলাপ আইওয়াশ! এর পেছনে সত্যতা কতটুকু আছে, তা হয়তো আগামীতে জানা যাবে। কিন্তু এটি যাতে আইওয়াশে পরিণত না হয় তা প্রমাণ করার দায়িত্ব সিইসি তথা অন্য কমিশনারদের। তারা অভিজ্ঞ। তারা ভালো বোঝেন। শুধু কারো দিকে তাকিয়ে নয়, বরং সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তারা কাজ করে যাবেনÑ এ প্রত্যাশা আমাদের সবার। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়েছে, এই সংলাপ থেকে খুব বেশি কিছু পাওয়ার আছে বলে আমার মনে হয় না। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণটাই হলো আসল। এর জন্য সংলাপের প্রয়োজন নেই। সিইসি জানেন কীভাবে এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। তার আন্তরিকতাই হলো আসল।এখন সময় এসেছে নির্বাচন কমিশনকে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, তারা সত্যি সত্যিই স্বাধীন। বেশ কজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও একাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এটা বলার চেষ্টা করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকার অর্থেই তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে। না হলে যে বিতর্ক নিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন তার যাত্রা শুরু করেছিল, সেই বিতর্ক আরও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী গত ২৬ জুলাই ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। আমাদের সংবিধানের ১১৮(৪) ধারায়ও বলা আছে স্পষ্ট করে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে স্বাধীন এবং সংবিধানের ১২৬-এ বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে। এটাই হচ্ছে আসল কথা। নির্বাচনের তিন মাস আগে পুরো প্রশাসন চলে যায় নির্বাচন কমিশনের হাতে। অর্থাৎ ডিসি, এসপি, ওসিরা থাকেন নির্বাচন কমিশনের আওতায়। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তা কী বলে? জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা থাকেন জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায়। তাদের নিয়ন্ত্রণ করে মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন নয়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে আর জেলা প্রশাসকরা নিয়ন্ত্রিত হন মন্ত্রণালয় থেকে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই প্রতিফলিত হয়।
আমাদের সময় ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭


0 comments:

Post a Comment