রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

একটি ভালো নির্বাচনের প্রত্যাশায়

দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ডাক দিয়েছিল ১৮ দলীয় জোট। পরে এ কর্মসূচি আরও ২৩ ঘণ্টা বাড়ানো হয়। এখানেই শেষ নয়। ধারণা করছি, আগামী সপ্তাহে আমরা আবারও হরতাল আর অবরোধের মুখোমুখি হব। একদিকে নির্বাচনী প্রচারণা, অন্যদিকে এর বিরোধিতা- সব মিলিয়ে যে প্রশ্নটি বারবার উঠছে তা হচ্ছে, নির্বাচন আদৌ ওই তারিখে অনুষ্ঠিত হবে কি-না কিংবা আমরা একটা ভালো নির্বাচন পাব কি-না? একটি আশার কথা শুনিয়েছেন সিইসি গত মঙ্গলবার। তিনি জানিয়েছেন, চলমান সংকট নিয়ে দুই দলের সমঝোতা হলে পুনঃতফসিল ঘোষণার সুযোগ রয়েছে। এ বক্তব্যটি ভালো। যদিও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সিইসিকে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করতে হয়েছে। তবুও অনেকেই বিশ্বাস করেন, নির্বাচনে যারা ‘স্টেকহোল্ডার’, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তারিখ নির্ধারণ করা উচিত ছিল। স্বয়ং জাতীয় পার্টি প্রধান এইচএম এরশাদও তার অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, তাদের উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। এটা তাদের করা উচিত হয়নি। এ অবস্থায় নির্বাচন করা কঠিন। তিনি আরও বলেছেন, ‘ঘোষিত তফসিল বাস্তবায়ন করা কঠিন। এক সপ্তাহ সময় খুব কম। অন্তত দু’সপ্তাহ সময় দিতে হবে। তফসিলে কিছুটা পরিবর্তন আনুন। এ দু’দল ছাড়া আরও দল আছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আরও বাড়াতে হবে। অন্যথায় এই নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’
এইচএম এরশাদের এ বক্তব্যকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার’ নামে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন করাও ঠিক নয়। সিইসি সাবেক আমলা। দেশের চলমান রাজনীতির গভীরতা, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে তার ধারণা কম। সারা জীবন ‘সরকারি আদেশ’ নিবিষ্ট চিত্তে পালন করে একজন ‘সরকারি চাকুরে’ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন হয়তো। কিন্তু নির্বাচন কমিশন একটি ভিন্ন জায়গা। এটা সাংবিধানিক পদের অধিকারী একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে সংবিধান অনুসরণ করা যেমন জরুরি, তেমন জরুরি নির্বাচনে ‘স্টেকহোল্ডার’দের মনমানসিকতাকে বিবেচনায় নেয়া। সিইসি নিজের আয়নায় ২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বরের তৎকালীন সিইসি এমএ আজিজের মুখচ্ছবি দেখতে পান কি-না জানি না, তবে তিনি একটি ‘ভালো নির্বাচন’ চান, এটা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু এই ‘ভালো নির্বাচন’ কীভাবে সম্ভব?
বুধবারের সংবাদপত্রে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খবর আছে। এক. অবরোধের প্রথম দিনে বিজিবি সদস্যসহ নিহত হয়েছেন ৭ জন। প্রতিটি সংবাদপত্রে বেশকিছু ছবি আছে সহিংসতার। ময়মনসিংহের গৌরিপুরে অবরোধ চলাকালীন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ছবিও আছে। দুই. একদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে আলোচনার অগ্রগতি জানতে চেয়ে যখন চিঠি দিয়েছেন (?), ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার। নিঃসন্দেহে এটা একটা ‘পজিটিভ দিক’। তবে এই আহ্বান যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। তিন. নাগরিক সমাজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাষ্ট্রপতি। তারা রাষ্ট্রপতিকে ‘আনুষ্ঠানিক’ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এরা সুশীল। এই সুশীলদের নিয়ে সমাজে নানা প্রশ্ন আছে। যাদের সঙ্গে জনমানুষের কোনো সম্পর্ক নেই, একটি দিনের জন্যও যারা গ্রামে সাধারণ মানুষের কাছে যান না, তাদের খোঁজখবর নেন না, ‘সংকটকালীন’ সময়ে তারা হঠাৎ করেই হাজির হন। দেশ যখন প্রত্যাশা করছে সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে একটা সমঝোতার, তখন সুশীলরা আবারও তৎপর হয়েছেন! অতীতে তাদের কারও কারও তৎপরতা, ফন্দি-ফিকির, আমাদের নানা ‘জটিলতায়’ আবদ্ধ করেছিল।
সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ‘অনানুষ্ঠানিক’ কোনো ভূমিকা নেই। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা আছে, ‘৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।’ তাই এখানে ‘অনানুষ্ঠানিকতা’র কোনো সুযোগ নেই। এখানে পক্ষ দুটি। সরকার ও বিরোধী দল। সমঝোতা তাদের মাঝেই হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র চাই। আমাদের দেশে বিকাশমান যে গণতন্ত্র, তার সঙ্গে ভারত, রাশিয়া কিংবা মালয়েশিয়ার বহুদলীয় কোয়ালিশননির্ভর গণতন্ত্রের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশে স্বমহিমায় যে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে, সেখানে ব্যক্তির কর্তৃত্বই প্রধান। সিঙ্গাপুরের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গেও এখানে রয়েছে পার্থক্য। প্রধান বিরোধী দলকে আস্থায় না নেয়া, রাজনীতিতে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়া, সুশাসনের অভাব বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। মূলধারার রাজনৈতিক শক্তিকে আস্থায় না নিলে কোনো প্রক্রিয়াই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচন স্থায়িত্ব পায়নি। একটি নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করা যেত, যদি আমরা আস্থার সম্পর্কটা বাড়াতে পারতাম। আমাদের ব্যর্থতা আমরা সেটা পারিনি। এর জন্য কে দায়ী, সেটা না খুঁজে বরং আগামী প্রজন্মের জন একটি ‘স্থায়ী নির্বাচন’ ব্যবস্থা কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। এটা নিয়েও সংলাপ হতে পারে। এটাও জরুরি। সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের নিয়ে কিংবা একটি গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করে কিংবা নির্বাচনের সময় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা যায় কি-না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকার একটি কমিশনও গঠন করতে পারে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে একটি নিশ্চয়তা দিয়েছিল। এখন তা ইতিহাস। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে রেখে যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা, তা গ্রহণযাগ্যতা পায়নি। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থেই নতুন একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার। নির্বাচন কমিশন তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারেনি। সিইসি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হলেও কমিশনের সদস্যরা সরকার কর্তৃক মনোনীত। তারা তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারেননি। আমাদের নির্বাচন কমিশনাররা যেভাবে মিডিয়ায় ‘কভার’ পাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকেন, পৃথিবীর কোথাও এমনটি দেখা যায় না। এই প্রবণতা শুরু হয়েছিল বিগত নির্বাচন কমিশনারের সময় থেকেই। এ প্রবণতা এখনও বহাল। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে ‘শক্তিশালী’ করার যে কথা বলা হয়, তা মূলত ‘কথার কথা’। বর্তমান কাঠামোয় নির্বাচন কমিশন সরকারের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে না।
আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই। যদি সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হয়, তাহলে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে তার সম্মান হারাবে। বাংলাদেশ একটি ‘সফট পাওয়ার’। আমাদের অনেক কিছু দেয়ার আছে বিশ্বকে। বিশ্বের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অবস্থান এক নম্বরে। আমাদের সেনারা সারা বিশ্বে যেখানে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত সেখানে আমাদের দেশে অশান্তি বিরাজ করবে, এটা কাম্য নয়। অবরোধ-হরতালে সহিংসতা বাড়ে। অনেক সন্তান হয়েছেন পিতৃহীন। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। কে তাদের দেখবে। সুতরাং স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি। বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিতে আমরা দ্বিতীয়। আমরা তৈরি পোশাকে একটি দক্ষ কর্মী বাহিনী তৈরি করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা পাই না বটে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বাজার আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। এর বড় অংশই হচ্ছে তৈরি পোশাক। শতকরা ১৫ ভাগ হারে শুল্ক পরিশোধ করে আমরা আমাদের তৈরি পোশাকের বাজার ধরে রেখেছি। আমাদের ওষুধ ৬২টি দেশে রফতানি হয়। ভারতের মতো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ শিল্পের একটা বিশাল বাজার গড়ে তুলেছে। আমাদেরও একটা সম্ভাবনা আছে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ শিল্পের বাজার গড়ে তোলার। এসব সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে যদি আমরা নির্বাচন নিয়ে একটা সমঝোতায় উপনীত হতে না পারি। সারা বিশ্ব যেখানে অর্থনৈতিক মন্দায় আক্রান্ত, প্রবৃদ্ধি যেখানে এক থেকে দুইয়ের কোঠায় নেমে এসেছে, সেখানে আমাদের প্রবৃদ্ধি এখনও ছয়ের ওপরে। কিন্তু সহিংসতা, অবরোধ-হরতাল, সরকারের কঠোর মনোভাব আমাদের সব অর্জনকে একটি ঝুঁকির মাঝে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছে। মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ নিয়ে শুনানি হয়েছে। সেখানে যেসব কথা বলা হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য কোনো আশার কথা বলে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টেও শুনানি হয়েছে বাংলাদেশের ওপরে। তাদের অভিমতও ‘পজিটিভ’ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো প্রভাবশালী সংবাদপত্রে অভিমত দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে অচিরেই এদেশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারে! আমরা এটা কেউই চাই না। বিদেশীরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় বারবার নাক গলাচ্ছেন। একটা দেশের সুস্থ রাজনীতি চর্চার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এটা কোনো ভালো লক্ষণ নয়।
বুধবার এই নিবন্ধটি যখন লিখছি, তখন ১৮ দলের ডাকা অবরোধ দ্বিতীয় দিন পার করছে। অনলাইন মিডিয়া আমাদের জানাচ্ছে অবরোধের দ্বিতীয় দিনের সহিংসতার খবর। সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জয়পুরহাটসহ সারা দেশে রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে। সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে মারা গেছে এক জামায়াত কর্মী। মৃত্যু হয়েছে ককটেলে আহত সাধারণ একজন ব্যাংক কর্মচারী আনোয়ারার। একজন আনোয়ারার ছবি সংবাদপত্রে ছাপেনি। কোনো ভিআইপি তাকে দেখতে যাননি। সাধারণ চতুর্থ শ্রেণীর একজন কর্মচারী ছিলেন আনোয়ারা, যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ‘নষ্ট রাজনীতি’ তাকে যে ‘পৃথিবীতে’ নিয়ে গেল, সেখান থেকে তিনি আর কোনোদিন ‘কর্তব্যের’ ডাকে সাড়া দেবেন না!
কম্পিউটারের স্ক্রিনে দ্বিতীয় দিনের অবরোধের যেমন খবরাখবর দেখছি, তাতে করে বারবার একটা প্রশ্নই উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে- কোন পথে এখন বাংলাদেশ? জনগণের মঙ্গলের জন্যই যদি রাজনীতি হয়ে থাকে, তাহলে এ কেমন রাজনীতি? যে রাজনীতি সহিংসতার জন্ম দেয়, সেই রাজনীতি তো কাম্য হতে পারে না। সংকটে যে দূরদর্শিতার প্রয়োজন, আমাদের রাজনীতিকরা সেই দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারছেন না। ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের কাছে মুখ্য। মানুষের মঙ্গল তাদের কাছে প্রধান নয়। অবশ্যই একটা সমঝোতায় যেতে হবে। রুহুল কবীর রিজভীর একটি বক্তব্য আমাকে আশাবাদী করেছে। তিনি বলেছেন, সমঝোতা এখনও সম্ভব। এটাকে ‘পজিটিভলি’ নিতে হবে। সংলাপকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংলাপের ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাঝে কোনো রাখঢাক রাখা চলবে না। বুঝতে হবে আমরা এক কঠিন সময় পার করছি। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের অস্তিত্ব আজ শত প্রশ্নের মুখে। আমরা যদি কোনো সমাধানে পৌঁছতে না পারি, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। নিত্যদিনের এই সহিংসতা কোনো রাজনৈতিক সমাধানের পথ হতে পারে না- এটা যেমনি সত্য, তেমনি এটাও সত্য, প্রধান বিরোধী দলকে বাইরে রেখে যে নির্বাচন, সেই নির্বাচনে ‘বিজয়ী’ হলেও এর মাঝে কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং ওই নির্বাচন একটি বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিতে পারে। এখনও সময় আছে একটা সমাধানের পথ খুঁজে বের করার। সেই সমাধানটা যে কী, তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব আমাদের রাজনীতিকদের। নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বটি আজ অনেক বেশি। একটি ভালো নির্বাচন আমরা চাই। কিন্তু তা হতে হবে সবার অংশগ্রহণে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।
দৈনিক যুগান্তর, ২৯ নভেম্বর ২০১৩।

0 comments:

Post a Comment