রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

মোদির ঢাকা সফর ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফরের প্রাক্কালে তিস্তায় পানির সর্বনিম্ন প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। এটা কাকতালীয় কিনা জানি না। কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে ক'টি বিষয় অন্তরায় সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন অন্যতম। এক্ষেত্রে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটা আগ্রহ থাকলেও শুধু মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি। সেই মমতা ব্যানার্জিই এখন ঢাকাতে আসছেন। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তার ঢাকা আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। তিস্তায় পানিবণ্টনের ব্যাপারে বাংলাদেশের স্বার্থ অনেক বেশি। ৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে তিস্তার পানিপ্রবাহ ৫০০ কিউসিকের নিচে নেমে গেছে। সেচ প্রকল্পে পানি দেয়া দূরের কথা, শুধু নদী বাঁচানোর জন্যই দরকার ১ হাজার কিউসেক। ফলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা আজ মৃত্যুমুখে। নভেম্বর থেকেই তিস্তার পানিপ্রবাহ কমতে থাকে। বাংলাদেশের লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীতে ইতিহাসের সবচেয়ে কম পানিপ্রবাহ আসছে। ফেব্রুয়ারির (২০১৫) প্রথম চার দিনের হিসাবে দেখা গেছে, প্রথম দিন পাওয়া গেছে ৪২৬ কিউসেক, দ্বিতীয় দিন ৪৭৫ কিউসেক, তৃতীয় দিন ৪৪৫ কিউসেক, আর চতুর্থ দিন ৪১৬ কিউসেক পানি প্রবাহিত হয় (সকালের খবর, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। যৌথ নদী কমিশন সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণ শুরুর আগে ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে বাংলাদেশ অংশে তিস্তার পানিপ্রবাহ ভালো ছিল বলে তুলনার জন্য ওই সময়কালের হিসাবকে ঐতিহাসিক গড় প্রবাহ ধরা হয়। ওই ১২ বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনে পানিপ্রবাহ ছিল ৫ হাজার ৯৮৬ কিউসেক। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে আসে ৯৬৩ কিউসেকে। এ বছর নামল ৫০০ কিউসিকের নিচে। অথচ নদী রক্ষার জন্যই দরকার ১ হাজার কিউসেক পানি। আর বিদ্যমান সেচ প্রকল্পের জন্য আরও সাড়ে ৩ হাজার কিউসেক দরকার। এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি 'নোট ভারবাল' পাঠানো হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে ক'টি বিষয় অন্তরায় সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি অন্যতম। বিগত মনমোহন সিং সরকার এ সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে চেষ্টা করছেন সমস্যাগুলো সমাধানের। এরই মধ্যে সীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে ভারতীয় সংবিধানে সংশোধনী আনা হচ্ছে। হাসিনা-মোদি সাক্ষাৎকারে মোদি সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার প্রধানকে আশ্বস্ত করেছেন। গেল বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ হয়। ভারতে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণ করে এটা স্পষ্ট করেছেন, তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়াকে গুরুত্ব দেন। দক্ষিণ এশিয়া তার অগ্রাধিকার তালিকায় প্রথমে। এ কারণেই দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সরকারি সফরে তিনি ভুটান গিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি যান নেপালে। বাংলাদেশে তিনি আসেননি বটে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে তিনি বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব এবং সেইসঙ্গে দেশের অপর একটি বৃহত্তম দল বিএনপির মনোভাব তার জানা প্রয়োজন ছিল। সেটা তিনি জেনেছেন। যতদূর জানা যায়, মার্চ মাসের দিকে তিনি সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসতে পারেন। তখন দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এর আগে নভেম্বরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেও হাসিনা-মোদি বৈঠক হয়েছে। তবে সার্ক সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার সুযোগ কম। সৌজন্য সাক্ষাৎকারে সাধারণ কথাবার্তাই বেশি হয়। অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা হয়। এর কোনো ভিত্তি থাকে না। সার্ক চার্টারে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা উত্থাপনেরও কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং নিউইয়র্কে যে বৈঠকটি হয়েছে, সেখানে সিরিয়াস কোনো আলোচনা হয়নি। দুই নেতা পরস্পর পরস্পরকে চিনেছেন। জেনেছেন। একজন অন্যজনকে তার দেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিঃসন্দেহে সুযোগটি গ্রহণ করেছেন। সীমিত সুযোগে তিনি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে ভোলেননি। এক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় কোনো আলোচনার সুযোগ ছিল না। ভারত বড় দেশ। বড় অর্থনীতি। আমাদের উন্নয়নে ভারতের ভূমিকাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ভারত সমমর্যাদার দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে দেখছে না। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতকে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশা পূরণে ভারত এগিয়ে আসেনি। বরং ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের ভূমিকায় একটি বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব আমরা লক্ষ্য করেছি। মোদি নির্বাচনের আগে বারবার বলে আসছিলেন, ভারতে বাংলাদেশীরা অবৈধভাবে বসবাস করেন। পশ্চিম বাংলাকে তিনি টার্গেট করেছেন। ক্ষমতাসীন হয়েই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় আলাদা একটি সেল খুলেছেন, যাদের কাজ হবে তথাকথিত 'বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী'দের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও মনিটর করা। কিছুদিন আগে বিজেপির সভাপতি ও মোদির দক্ষিণ হস্ত বলে পরিচিত অমিত শাহ কলকাতায় বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসী পাঁচ গুণ বেড়েছে। সারদা কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর নাম এসেছিল। বলা হয়েছিল, জামায়াতের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় অর্থায়ন করেছে সারদা। ভারতের সিবিআই বিষয়টি তদন্ত করছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে তাদের অজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। বিষয়টি যেহেতু স্পর্শকাতর, সেহেতু সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখনও বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যাপারে তিনি একটি বড় উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতাদের তিনি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ভারতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি বাংলাদেশের বিষয়টি নিজেই দেখভাল করতেন- এরকম একটি কথা আমরা বরাবরই শুনতে পেয়েছি। একজন বাঙালি হয়ে বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর ব্যাপারে তিনি পূর্ণ অবগত ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার ভূমিকা সীমিত থাকায় তিনি সমাধানের কোনো পথ বের করতে পারেননি। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সমস্যাগুলোর জট খোলেনি। আসলে ভারতের আমলাতন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। এ আমলারা নীতিনির্ধারণে প্রভাব খাটায়। এ আমলাতন্ত্রের কারণেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ধীরে ধীরে তিক্ততায় পরিণত হয়েছিল। তাই ব্যক্তিগতভাবে প্রণব বাবুর বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর ব্যাপারে 'সিমপ্যাথি' থাকলেও তা সমাধানে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি ড. মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১১ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। প্রণব বাবুর মতো তিনিও আমাদের আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছিলেন যে, সমস্যার সমাধান হবে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি দিলি্ল ফিরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে হত্যা হয়েছিল। তার ঢাকা সফরের সময়ই আমরা শুনেছিলাম, মমতা ব্যানার্জির কারণে কোনো তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। কিন্তু এক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জিকে রাজি করানোর দায়িত্বটা কেন্দ্রীয় সরকারের, বাংলাদেশ সরকারের এখানে কোনো ভূমিকা নেই। তিস্তার পানিবণ্টনের চুক্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ১৯৭২ সাল থেকেই তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা চলে আসছে। দুইবার ১৯৯৮ ও ২০০৭ সালে একটি চুক্তির কাছাকাছি আমরা চলে গিয়েছিলাম। দুই দেশের মাঝে সমানভাবে পানিবণ্টন করে কিছু পানি নদীতে রেখে দেয়ার একটি সিদ্ধান্তে দুই দেশ এক পর্যায়ে রাজিও হয়েছিল। তারপরও চুক্তি হয়নি। এখন মূল সমস্যা পশ্চিমবঙ্গের আপত্তি। এতে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্যা। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। কিন্তু ভারত আমাদের সেই অধিকার নিশ্চিত করছে না। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়েও ভারত আমাদের বারবার মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং একাধিকবার বলেছিলেন, ভারত এমন কিছু করবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। কিন্তু বাস্তবতা কী বলে? নয়াদিলি্লতে এরই মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সেখানে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার। প্রায় ৯ হাজার কোটি রুপিও ব্যয় করা হয়ে গেছে। বাঁধটি যদি নির্মিত হয়, তাতে বাংলাদেশের কী ক্ষতি হবে, তা একাধিক সেমিনারে আলোচিত হয়েছে। এখানে আমাদের ব্যর্থতা আমরা শক্ত অবস্থানে যেতে পারছি না। জেসিসির যৌথ ইশতেহারে এ সংক্রান্ত কোনো কথা বলা হয়নি। গঙ্গা চুক্তি আমরা করেছিলাম ১৯৯৬ সালে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে। এর আগেই পদ্মায় পানি নেই। চুক্তি অনুযায়ী আমরা পানি পাচ্ছি না। ২০২৭ সালে লোকসংখ্যা বাড়বে তিন গুণ। যে বিপুল পানির চাহিদা থাকবে, তার কী হবে? চুক্তি অনুযায়ী পর্যালোচনার সুযোগ আছে। কিন্তু সেই সুযোগটি আমরা নিচ্ছি কই? অতীতে কখনও আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি। সীমান্ত হত্যা আজও বন্ধ না হওয়ায় ভারতের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা ভারতের অনুকূলে। শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর হয়নি। ভারত থেকে কিছু বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে এটা সত্য। অথচ ভারত যদি আন্তরিক হয়, তাহলে আমাদের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। মহাজোট ও বর্তমান সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যদি আমরা পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখব ভারতের পাল্লাটা ভারি, আমাদের প্রাপ্তি কম। আমরা ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছি (ট্রান্সশিপমেন্ট অথবা করিডোর), কিন্তু ট্রানজিট 'ফি' এখনও নির্ধারিত হয়নি। বলা হচ্ছে, ট্রানজিটের বিষয়টি বহুপাক্ষিকতার আলোকে দেখা হবে। কিন্তু দেখা গেল, ভারত একপক্ষীয়ভাবে তা ব্যবহার করছে, ভুটান বা নেপাল এখনও ট্রানজিট পায়নি। ভারতের এ দুটো দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার কথা। কিন্তু এইর মধ্যে এ সুবিধা এই দুটো দেশকে নিশ্চিত করা হয়েছে- এ তথ্য আমাদের জানা নেই। আগামীতে ভারতের 'সাত বোন' রাজ্যগুলোও আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করবে- এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতাও স্বাক্ষরিত হয়েছে। অথচ আমাদের যে নূ্যনতম প্রাপ্তি, সে ব্যাপারে এতটুকু ভারতীয় উদ্যোগও আমরা লক্ষ্য করিনি। আজ তাই নরেন্দ্র মোদি যখন ভারতের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন, আমরা চাইব তার প্রতি সম্মান দেখিয়েই ভারত সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেবে। কেননা নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ বড় দরকার। ভারতের একগুঁয়েমির কারণে যদি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে, তাহলে তা থেকে সুবিধা নেবে জঙ্গিরা, বিশেষ করে আল কায়দা। জাওয়াহিরি তার একটি ভিডিও বার্তায় দক্ষিণ এশিয়া ও মিয়ানমারে আল কায়দার শাখা খোলার কথা ঘোষণা করেছেন। এটা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য চিন্তার অন্যতম কারণ। উভয় দেশেই জঙ্গিরা আছে। এখন দুই দেশ জঙ্গি দমনে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। মোদির জন্য বাংলাদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করাটা জরুরি। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করে এ আস্থাটা নিঃসন্দেহে অর্জিত হতে পারে। আমরা চাই, ভারত বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর ব্যাপারে উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসুক। 'বড় ভাই'সুলভ আচরণ বন্ধ করুক। অতীতে কংগ্রেস সরকার সমস্যাগুলো জিইয়ে রেখে বাংলাদেশ থেকে ফায়দা উঠিয়েছে মাত্র। এতে করে একটি শক্তিশালী ভারতবিরোধী মনোভাব বাংলাদেশে জন্ম হয়েছে। মোদি সরকার সীমান্ত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আস্থা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। মমতা আসছেন। আমাদের প্রত্যাশা, বাকি সমস্যাগুলোর ব্যাপারেও ভারত উদ্যোগ নেবে। Daily ALOKITO BANGLADESH 15.02.15

0 comments:

Post a Comment