রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

রাজনীতি কি সত্যিই কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বেশকিছু প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। শত মানুষের আর্তনাদ সত্ত্বেও সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে না। পেট্রলবোমায় নিহত ও আহতদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পুলিশের আইজি, র‌্যাবের মহাপরিচালক নিজ নিজ পদে যোগ্য ব্যক্তি, সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের হুশিয়ারি সত্ত্বেও সব চোরাগোপ্তা হামলাকারীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, এমনটি বলা বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ে এখনও অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। পুত্রশোক এখনও তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয়েছে মোট ছয়টি। একটি মামলা হয়েছে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে বাসে আগুন লাগিয়ে ৩১ যাত্রীকে দগ্ধ করার ঘটনায়। দ্বিতীয়টি কুমিল্লায়, যেখানে বোমা হামলায় মারা গেছেন ৭ ব্যক্তি, যাদের কেউ প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার প্রয়োজনীয়তা এখনও আসেনি। অর্থাৎ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার দরকার নেই। তিনি আমাদের এটি জানিয়ে দিতেও ভোলেননি যে, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, যারা হুকুমদাতা, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যটি এলো এমন এক সময়ে, যখন বাজারে নানা গুজব ভাসছে। অবরোধের যখন এক মাসের বেশি অতিক্রান্ত হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘অস্বাভাবিকতা’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বললেন। এটা ঠিক, ঢাকা শহর এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। কোনো বড় ধরনের পিকেটিংও আমরা লক্ষ্য করি না। কিন্তু মানুষের মধ্যে কোনো শংকা নেই এটা বলা যাবে না। শংকা আছে। ভয় আছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাসা থেকে বের হচ্ছে না। এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণেই গুজব উঠেছে যে, সরকার জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে। এটি সাংবিধানিকভাবেই বৈধ। সংবিধানের ১৪১(ক) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে এখন জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বাহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।’ তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর ও সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে। এখন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে ভাবনার সুযোগ নেই।তবে আরও দুটি বিষয় আমাদের ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। বিএনপি ঘেঁষা শত নাগরিক কমিটি, বিশেষ করে এর আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ সরকার ও বিএনপির মধ্যে সংলাপের আয়োজন করতে জাতিসংঘের মহাসচিবকে একটি চিঠি দিয়েছেন (যুগান্তর)। জাতিসংঘের ঢাকাস্থ প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা রোডার হাতে তারা চিঠিটি তুলে দেন ৪ ফেব্র“য়ারি। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ যথেষ্ট অভিজ্ঞ মানুষ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। এভাবে চিঠি লেখা যায় কি-না, কিংবা দেশের কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ(!) করতে বিদেশী কোনো সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো যায় কি-না, এ ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক তিনি। গণতন্ত্র নিয়ে তার একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। আমি নিজে তার ছাত্র। সন্দেহ নেই, দেশ এক বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন আছে। সরকার যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, সেটাও ভালো কোনো সংবাদ নয়। তাই বলে আমি বিদেশী হস্তক্ষেপ চাইতে পারি না। এটি আমাদের রাজনৈতিক দৈন। আমাদের সমস্যা আমাদেরই মোকাবেলা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি শুভবুদ্ধির উদয় হবেই। সুতরাং বান কি মুনকে চিঠি দেয়া অর্থহীন।আরও একটি সংবাদে আমি উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানুয়ারিতে নয়াদিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের বিষয়াবলী নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ফিল রাইনার ওয়াশিংটনে ৩ ফেব্র“য়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন (যায়যায়দিন, ৫ ফেব্র“য়ারি)। এর পেছনে সত্যতা কতটুকু আছে, আমরা জানতে পারব না। তবে নিঃসন্দেহে এটি উদ্বেগ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নানা ইস্যুতে আমাদের সংকট চলছে। এমনকি ‘সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে’র যে কথা যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে, তা থেকে যুক্তরাষ্ট্র এতটুকুও সরে আসেনি। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের প্রভাব অনেক বেশি। ভারত খুব সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশে একটি বন্ধুপ্রতিম সরকার চায়। অনেক পর্যবেক্ষকেরই ধারণা, ভারত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন একটি সরকারকেই দেখতে চায়। বাংলাদেশে বিএনপির ব্যাপারে ভারতের নীতিনির্ধারকদের তেমন আপত্তি না থাকলেও জামায়াতের ব্যাপারে তাদের আপত্তি রয়েছে। ফলে ২০ দলীয় জোটের ব্যাপারে ভারতের নীতিনির্ধারকদের অনেক হিসাব-নিকাশ আছে। তাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ফ্যাক্টর একটি বড় প্রশ্ন হয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে সত্যি সত্যি ওবামা-মোদি যদি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলে থাকেন, তা আমাদের জন্য কোনো ভালো খবর নয়। তবে আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য, অবরোধের ৩০ দিনে (৪ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত) ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা।বাংলাদেশের রাজনীতি একটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অবরোধ আর হরতালের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন আমরা পার করছি। আর প্রতিদিনই পেট্রলবোমা হামলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বার্ন ইউনিটগুলোয় অগ্নিদগ্ধ মানুষের করুণ কাহিনী প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদপত্রে। ছোট শিশুরা অগ্নিদগ্ধ বাবাকে চিনতে পারছে না। প্রশ্ন রাখছে, সে তো কোনো অন্যায় করেনি, তাহলে তাকে মানুষ পোড়াল কেন? এ প্রশ্নের জবাব কারও কাছে নেই। সাধারণ মানুষ জানেও না এ পরিস্থিতির অবসান হবে কীভাবে। অথবা কখন আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে দেশে। এমনিতে অবরোধের মাঝে ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীতে খুব বেশি যানবাহন না এলেও খোদ রাজধানীতে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনিয়মিতভাবে ক্লাস হচ্ছে। ভয়ের মাঝেও মানুষ তার নিত্যদিনের কাজ করে নিচ্ছে। কিন্তু তাদের মাঝে আছে অসন্তোষ আর রাজনীতিকদের প্রতি এক ধরনের বিদ্বেষ।এ পরিস্থিতিতেও দোষারোপের রাজনীতি আমরা লক্ষ্য করছি। সরকার দায়ী করছে বিএনপিকে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরকে অভিযুক্ত করছে। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী। তাদের দাবি, ৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচন না হলে এ পরিস্থিতির জন্ম হতো না। পরস্পরকে দোষারোপের মধ্য দিয়ে এক অসহিষ্ণু রাজনীতির জন্ম হয়েছে এ দেশে। এ বড় দল দুটির বাইরে শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের কেউই কোনো সমাধান বের করতে পারছেন না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ ৫ ঘণ্টা অনশন পর্যন্ত করেছেন ৩০ জানুয়ারি। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও অবস্থান ধর্মঘট করেছেন। কিন্তু পরিস্থিতির আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরই মাঝে খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু, খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া এবং গেট বন্ধ থাকায় সমবেদনা না জানিয়ে ফেরত আসা- সব মিলে একটি সংলাপের এবং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও এ ক্ষেত্রেও বরফ গলেনি। কেন খালেদা জিয়ার অফিস খোলা হল না, এ নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। তবে কোকোর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি সরকারের নীতিনির্ধারকরা কীভাবে নিয়েছেন জানি না। এটি একটি মেসেজ পৌঁছে দিয়েছে। কোকো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও রাজনীতি করেননি। জিয়া পরিবারের প্রতি মানুষ যে সহানুভূতিশীল, কোকোর জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আমি সরকার ও আইনশৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই একটাই কারণে আর তা হচ্ছে, তারা নির্বিঘ্নে এ জানাজা সম্পন্ন করতে দিয়েছেন। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। এরপরও সরকারের নীতিনির্ধারকদের মাঝে দু’-একজন ব্যক্তি ‘মৃত ব্যক্তি’ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন, যা অনাকাক্সিক্ষত। এ ধরনের মন্তব্য কারও নিজের অবস্থানকে জনমানসে শক্তিশালী করে না।একটি প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে- সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী? এটি সত্য, সরকার সাংবিধানিকভাবেই ক্ষমতায় আছে। সংবিধান অনুযায়ীই একটি নির্বাচন হয়েছে গেল বছরের ৫ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে সব দল অংশ না নিলেও নির্বাচন ছিল সাংবিধানিকভাবে বৈধ। কিন্তু ওই নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারেনি। কেননা গণতন্ত্রে ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস’-এর যে কথা বলা হয়, তা রক্ষিত হয়নি। অর্থাৎ বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপিত হয়নি। বিএনপিসহ আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তখন অবশ্য বলা হয়েছিল, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’। আমরা সেটাই ধরে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সরকার এক বছরের মধ্যে আরেকটি নির্বাচনের কথা বলবে। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রায় সবাই এখন বলছেন, পরবর্তী নির্বাচন হবে ২০১৯ সালে। সংবিধান আমাদের এ কথাটাই বলে- ৫ বছর পরপর নির্বাচন। এটাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, তা স্বাভাবিক ছিল না। অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতিতে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি আসনগুলোয় যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল কম। তারপরও নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯৬ সালেও এমন একটি নির্বাচন (৬ষ্ঠ সংসদ) আমরা দেখেছিলাম। কিন্তু সেই সংসদ টিকে ছিল মাত্র ১৩ দিন। ওই নির্বাচনের সঙ্গে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের তুলনা করতে চাই না। দুটি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তবে গণতন্ত্রে সব দলের অংশগ্রহণে যে নির্বাচনের কথা বলা হয়, ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে সেটা ছিল না এবং দশম সংসদ নির্বাচনেও (২০১৪) সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। ফলে এক জায়গায় মিলটা আছেই। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট একটি ভিন্ন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। বোমাবাজি আর পেট্রলবোমা এখন রাজনীতিকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করছে। অদৃশ্য বোমাবাজরা আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যেখানে সংসদ দেশের জনগণের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, আইন প্রণয়ন করবে, জাতিকে নেতৃত্ব দেবে, সেখানে অদৃশ্য বোমাবাজরা রাজপথে থেকে রাজনীতিকে কলুষিত করছে। বোমাবাজদের শিকারে পরিণত হচ্ছে শিশুরা পর্যন্ত।এই পেট্রলবোমার সংস্কৃতি যে আমাদের রাজনীতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, আমরা বোধকরি কেউই তা বুঝতে চাইছি না! বুঝতে না পারাটা অস্বাভাবিক। নাকি বুঝতে চাইছি না? আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।’ কিন্তু মানুষ যখন দগ্ধ হয় তখন তার মৌলিক মানবাধিকার লংঘিত হয় বৈকি। সংবিধানে চলাফেরার স্বাধীনতা (৩৬নং অনুচ্ছেদ) নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু রাজনীতির নামে যারা বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ছে, তারা তো সংবিধানের ওই ধারাকে একরকম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এ থেকে আমরা বের হয়ে আসব কীভাবে? কে দেবে আমাদের এ নিশ্চয়তা?রাজনীতির নামে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ফারজানা কিংবা মাইশার স্বপ্ন নস্যাৎ করেছে এ নষ্ট রাজনীতি। এ নষ্ট রাজনীতি থেকে যদি আমরা বের হয়ে আসতে না পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আগামী প্রজন্মের মাইশারা আমাদের ক্ষমা করবে না। জাতিসংঘের কাছে নালিশ করে অথবা ‘একটি লাশ পড়লে দুটি লাশ’ (চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির বক্তব্য, যায়যায়দিন, ৫ জানুয়ারি) এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। সমস্যাটা রাজনৈতিক। রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান করতে হবে। সবাইকে নিয়েই এ অদৃশ্য বোমাবাজদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের ঘৃণা করতে হবে। সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। রাজনীতির নামই মানবকল্যাণ। আর সেই মানবকল্যাণে নিয়োজিত রাজনীতিকদেরই আমরা দেখতে চাই Daily Jugantor ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

0 comments:

Post a Comment