রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

মোদির ঢাকা সফর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

জীবনানন্দ দাশের কবিতার পঙ্কতি উচ্চারণ করে ভাঙা ভাঙা বাংলায় তিনি বললেন, ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়।’ তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। তিনি রাজনীতিক, কিন্তু একজন কবিও বটে। তার তিনটি কবিতার বইও প্রকাশিত হয়েছে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো কানায় কানায় পূর্ণ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দেশে রোববার তিনি বললেন, ‘কেমন আছ? আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। আমরা তোমাদের সঙ্গে নিয়েই চলব।’ এই সেই মোদি, যাকে যুক্তরাষ্ট্র এক সময় তার দেশ সফরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন, তাকে ওবামা আমন্ত্রণ জানালেন। সেই মোদি বাংলাদেশে এলেন। দুদিন থাকলেন। চলেও গেলেন। কিন্তু কী রেখে গেলেন তিনি? বাংলাদেশের মানুষ তার বক্তব্যে কিংবা যৌথ ঘোষণাপত্রে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার ওপর কতটুকু আস্থা রাখতে পেরেছে? এতদিন বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের নীতিনির্ধারকরা যে মনোভাব দেখিয়ে আসছিলেন, সেই বৃত্ত কী নরেন্দ্র মোদি ভাঙছেন? নাকি আদৌ তিনি ভাঙতে পারবেন? যখন তিনি বলেন, ‘আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি এবং তোমাদের সঙ্গে নিয়েই চলব’, তখন এক নয়া ইতিহাস গড়ার তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। ভারতের যে কর্তৃত্ববাদী আচরণ, যে আচরণের কারণে শঙ্কিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশ, সেই ‘পরিচয়’টা তিনি ভাঙতে চান। তার অগ্রাধিকার তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া রয়েছে প্রথমে। তার এপ্রোচটাই হচ্ছেÑ ‘নেইবারহুড ফাস্ট’ অর্থাৎ পার্শ¦বর্তী পড়শি আমার প্রথম অগ্রাধিকার। তারপর অন্যদেশ। এটা সত্য বাংলাদেশে আসতে তিনি সময় নিলেন দীর্ঘ এক বছর। ২৬ মে (২০১৪) তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এলেন ৬ মে। থাকলেন দু’দিন। যদিও এর আগে তিনি ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন। তিনি যখন দায়িত্ব নেন তখন উপস্থিত ছিলেন ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বিশাল এক প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা জাগিয়ে তিনি ঢাকা ত্যাগ করলেন রোববার রাতে। এই সফরে তিনি দেখা করলেন বেগম জিয়ার সঙ্গে। শুনলেন তার কথা। কথা বললেন ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি তুলে ধরলেন সম্ভাবনার কথা। বাংলাদেশের আরেক অগ্রগতির তিনি প্রশংসা করলেন। সালমা খাতুন, সাকিব আল হাসান কিংবা নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরিনের নাম উল্লেখ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি একজন ‘খাঁটি বন্ধু’ হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করলেন। তার এই ঢাকা সফরের রেশ যে আরও কিছুদিন থেকে যাবে, তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুদিনের ঢাকা সফরের পর যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হচ্ছে এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কী পেল? এই সফরকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা কিংবা কানেকটিভিটি এই তিন আলোকেই আমরা যদি মোদির এই সফরকে বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখব পাল্লাটা ভারতের দিকেই বেশি হেলে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রাপ্তি খুব বেশি নয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০০ কোটি ডলারের একটি আশ্বাস পেয়েছে। ভারতীয় অর্থে বাংলাদেশি বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। যেমন একটি হচ্ছে আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন। আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ককে চারলেনে উন্নীত করা হবে। এই ঋণ প্রকল্পের আওতায় ৫০০টি ভারতীয় বাসও কেনা হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশর স্বার্থ নাকি ভারতীয় স্বার্থ রক্ষিত হবে? এই সড়কে ভারতীয় পণ্য চলাচল করে। তথাকথিত কানেকটিটিভির আওতায় ভারতীয় পণ্য এখন কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভেতরে আশুগঞ্জ হয়ে আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরায় যাবে। তাতে লাভ হলো ভারতেরই। বাস কেনা হবে ভারতীয়। চলবে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে। প্রশ্ন হচ্ছে, ঢাকা শহর কী এখন এসব গাড়ি ধারণ করার ক্ষমতা রাখে? এমনিতেই যানজটে মানুষ অসহায়। রাস্তার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা বেশি। ঢাকার বাইরে রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। সে ক্ষেত্রে গাড়ি চলার সুযোগ কোথায়? খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বিআরটিসির শত শত গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে থাকতে থাকতে নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ এগুলো সারিয়ে তুলে চলাচলের উপযুক্ত করা যেত। তা অদৃশ্য কারণে বিআরটিসি করেনি। এখন আবার নতুন করে গাড়ি ক্রয় করা হবে। ভারতীয় ঋণের একটা সমস্যা হচ্ছে, এই ঋণ নেওয়া হয় সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটের আওতায়, সেখানে ভারতীয় স্বার্থ থাকবে বেশি। আমি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়ায় বলে আসছি সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিট কোনো ভালো ঋণ নয়। এতে করে ঋণ দেওয়া দেশের কাছে (এ ক্ষেত্রে ভারত) ঋণ গৃহীতা দেশের পরিপূর্ণ দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। ভারত যে দ্বিতীয়বারের মতো সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটে ঋণ দিল তাতে বাংলাদেশ নয়, বরং ভারতীয় স্বার্থই রক্ষিত হবে বেশি। সম্প্রতি ভারতের পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়াও একই ধরনের মন্তব্য করেছে। তারা বলেছে, ঋণের অর্থে যেসব প্রকল্প খরচ করা হবে, তার কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সেবা ভারত থেকে নিতে হবে। অর্থাৎ ঋণের দায় বাংলাদেশের, আর সুদাসল ছাড়াও রপ্তানি ব্যবসা হবে ভারতের। এই ঋণের টাকায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, তাতে ভারতের ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এখন দেখা যাবে এসব প্রকল্পে যেসব পণ্য দরকার হবে (ঠিকাদার, ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, যন্ত্রপাতি, ইঞ্জিনিয়ার) তা সরবরাহ করবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এমনকি অদক্ষ জনশক্তিও আসতে পারে। অথচ এসব পণ্য বাংলাদেশ উৎপাদন করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বিদেশেও রপ্তানি হয়। আমাদের দক্ষ জনশক্তি (ইঞ্জিনিয়ার, আর্টিটেক্ট) আছে। কিন্তু আমরা তাদের এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারব না। তাই আমরা কখনো বলি না সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিট একটি ভালো ঋণ। একসময় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো এ ধরনের ঋণ দিত (তারা অবশ্য বার্টার ট্রেড করত। আমাদের পণ্য নিত বিনিময়ে)। ভারত কিন্তু তা করবে না। বার্টার ট্রেডে ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা হয় না। মোদির সফরের প্রাক্কালে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেকগুলো। যেমন বলা যেতে পারে তিস্তাসহ সব নদীর পানিবণ্টন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আঞ্চলিক যোগাযোগ বা কানেকটিভিটি, ভারতের স্থলবন্দরগুলোতে অয়্যারহাউস নির্মাণ, এলসি ওপেন করার ব্যাপারে ভারতের সাত বোন রাজ্যে অবস্থিত ব্যাংকগুলোতে সুযোগদান, ‘কান্ট্রি অব অরিজিনের’ ঝামেলা দূর করা, ওষুধের ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা, ভিসা সহজীকরণ এবং শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করা। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অগ্রগতি হয়েছে, তা বলা যাবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে করে আমাদের স্বার্থরক্ষিত হয়েছে কম। তবে ৬৫ দফা যৌথ ঘোষণাপত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যা আমাদের আশান্বিত করেছে। যেমন বলা যেতে পারে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের কথা। যৌথ ঘোষণাপত্রের ২১নং দফায় বলা হয়েছে যে, ভারত সাংবিধানিক কারণে এখন আর এ প্রকল্পে অগ্রসর হবে না। এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত। কেননা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মানুষ ভারতের এই প্রকল্প নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় ছিল। এ ক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন কিন্তু থাকবেইÑ আর তা হচ্ছে ইতোমধ্যে সেখানে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে, তার কী হবে? আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়েও আমাদের দুশ্চিন্তা ছিল। এসব যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভারত এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। ভারত যদি সত্যিকার অর্থে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে না যায়, আমার ধারণা তাতে করে ভারত একদিকে যেমনি উপকৃত হবে, ঠিক তেমনি উপকৃত হবে বাংলাদেশও। কেননা ভারতের পরিবেশবাদীরাও এই আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধে। তবে একটা কথা এখানে মনে রাখা দরকারÑ আর তা হচ্ছে আন্তঃনদী সংযোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এটির নামকরণ করা হয়েছে বিবিআইএন। অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত (সাতবোন রাজ্য) এবং নেপালের সহযোগিতায় একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা। এই উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে এবং ভারতের উদ্যোগেই সার্কের শীর্ষ সম্মেলনে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ প্রথমে নিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইকে গুজরাল। তারই মতবাদ পরবর্তীকালে ‘গুজরাল ডকট্রিন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। এখন নরেন্দ্র মোদি নতুন আঙ্গিকে তা নিয়ে এলেন। বাংলাদেশ ভারতকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসনে সমর্থন দিয়েছে। এটা যৌথ ঘোষণাপত্রে আছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে জাপানের ক্ষেত্রেও একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কেননা জাপানও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে চায়। জাপানে আমাদের যথেষ্ট স্বার্থ রয়েছে। জাপানকে বাদ দিয়ে আমরা এককভাবে ভারতকে যদি শুধু এ পদে সমর্থন দিই, তাহলে বিতর্ক বাড়বে এবং জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রশ্নের মুখে থাকবে। কয়েকটি ব্যাপারে বাংলাদেশকে এখন ভারতের সঙ্গে দেনদরবারে যেতে হবে। এক. তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের ‘চাপ’ অব্যাহত রাখা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢাকা উপস্থিতি এবং নরেন্দ্র মোদির ‘মানবিক সমস্যা’ হিসেবে এই সমস্যাকে চিহ্নিতকরণ, আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করে না। সমস্যাটা ভারতের। সমাধান করতে হবে ভারতকেই। এ ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কতটুকু বাগে আনতে পারবেন, সেটা একটা প্রশ্ন। দুই. দুটি ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে (রিলায়েন্স ও আদানি গ্রুপ) বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে চুক্তি হয়েছে, তা মনিটর করা এবং বাংলাদেশের স্বার্থে ক্ষতি হয়, এমন কিছু না করা। রিলায়েন্স মিয়ানমারের গভীর সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত। পাইপলাইনের মাধ্যমে ওই গ্যাস কোম্পানি ভারতে নিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে ত্রিদেশীয় পাইপলাইন (মিয়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত) নির্মিত হবে। বাংলাদেশ এখান থেকে গ্যাস পাওয়ার ব্যাপারে রিলায়েন্সের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে পারে। তিন. ভারতের সঙ্গে ‘নতুন সম্পর্ক’ রচিত হওয়ায় বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চিন, ভারত ও মিয়ানমার) অর্থনৈতিক করিডোর যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা দেখা। চার. ভারতের সাতবোন রাজ্যগুলো কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো। নরেন্দ্র মোদি ‘জাদু’ জানেন। তিনি জানেন কীভাবে মানুষকে কাছে টানা যায়। অতীতের যে কোনো ভারতের প্রধানমন্ত্রী (ইন্দ্রিরা গান্ধি বাদে) যা পারেননি, তা পেরেছেন নরেন্দ্র মোদি। এই প্রথম বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল (জামায়াতসহ) নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে স্বাগত জানিয়েছিল। ফলে যে প্রত্যাশা তিনি সৃষ্টি করে গেলেন কিংবা যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়ে গেলন, তা এখন তাকে পূরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের মানুষ খুবই অতিথিপরায়ণ। বন্ধুকে সম্মান জানাতে জানে। মোদির উপস্থিতিতেই বাংলাদেশ ভারতের আরেকজন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িকে সম্মাননা জানিয়েছে। আস্থার একটা ‘ভিত’ তৈরি হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই ‘ভিত’ যেন নষ্ট হয়ে না যায়। কানেকটিভিটি দক্ষিণ এশিয়ায় সব দেশের সঙ্গে সম্প্রসারিত হোক। দক্ষিণ এশিয়ার দুটি বড় সমস্যা পানি ও বিদ্যুৎ। এর সমাধান হোক আঞ্চলিক সহযোগিতার আলোকে। দ্বিপক্ষীয় নয়। বহুপক্ষীয় তথা আঞ্চলিক সহযোগিতার আলোকে এ অঞ্চল থেকে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ উচ্ছেদ, সাগরভিত্তিক অর্থনীতিকে (ব্লু ইকোনমি) এ অঞ্চলের জনগণের মানোন্নয়নে ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া সম্ভব। ঢাকায় নরেন্দ্র মোদি আমাদের এ মেসেজটাই দিয়ে গেলেন। আমরা তার ওপর আস্থা রাখতেই পারি। Daily Amader Somoy 11.06.15

0 comments:

Post a Comment