রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

রাজ্জাকের ফিরে আসাটা মূল সমস্যার কোনো সমাধান নয়

মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) কর্তৃক অপহৃত বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাক ফিরে এসেছেন। অপহরণের আট দিন পর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা তাঁকে ছেড়ে দেয়। এর আগে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু রাজ্জাকের এই ফিরে আসা মূল সমস্যা সমাধানের কোনো কথা বলে না। মূল সমস্যাটি হচ্ছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে, যারা ধর্মীয়ভাবে মুসলমান। বস্তুত গত মে মাস থেকেই রোহিঙ্গা সমস্যাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে আন্দামান সাগরে শত শত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি, তাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের অপচেষ্টা, সাগরে মাসের পর মাস ভেসে থাকার পর বিশ্বব্যাপী যে বিতর্কের ঢেউ ওঠে, তাতে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সামনে চলে আসে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোর করে এবং মানবপাচারকারীদের সহযোগিতায় মালয়েশিয়া পাচার করার সর্বশেষ উদ্যোগটি ছিল মূলত সেখানে যে জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান চলছে, তারই ফল। নায়েক আবদুর রাজ্জাকের অপহরণের ঘটনাটি একই সূত্রে গাঁথা।
মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে ইউরোপের বসনিয়া-হারজেগোভিনার জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের তুলনা চলে। বসনিয়া একসময় ছিল যুগোস্লাভিয়া রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ ছিল মুসলমান। সার্বরা ছিল সংখ্যালঘু, ৩১ শতাংশ। অথচ এই সার্বরাই ১৯৯১ সালের পর থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। ১৯৯২ সালের মার্চে সেখানে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ওই গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে সেখানে সার্বরা (যারা ধর্মীয়ভাবে অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ান) ব্যাপকহারে মুসলমানদের গণহত্যা, ধর্ষণ আর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে, যা আন্তর্জাতিক আসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। এই গণহত্যা ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকলে ১৯৯৫ সালের মে মাসে সার্বীয় হেডকোয়ার্টারে ন্যাটো বিমান হামলা পর্যন্ত চালিয়েছিল। সেই গণহত্যায় যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের অনেকের বিচার হয়েছে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। আজকে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গাদের তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে নব্বইয়ের দশকের বসনিয়ার মুসলমানদের উচ্ছেদ অভিযানের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বসনিয়ায় সার্বরা যেমনটি চেয়েছিল বসনিয়াকে একটি সার্বীয় রাষ্ট্রে পরিণত করা ও সার্বিয়ার সঙ্গে একত্রিত হয়ে একটি গ্রেটার সার্বীয় রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া, আজকে মিয়ানমারের বৌদ্ধ নেতৃত্বও ঠিক তেমনটি চাচ্ছেন। তাঁরা চাচ্ছেন মিয়ানমারকে একটি বৌদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র হওয়ায় এবং বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ ধর্মীয়ভাবে মুসলমান হওয়ায় বাংলাদেশকে এই রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গারা ধর্মীয়ভাবে মুসলমান এবং শত বছর ধরে তারা আরাকান রাজ্যে বসবাস করে আসছে। কিন্তু তারা এখন উগ্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার। মিয়ানমারে সাম্প্রতিককালে বৌদ্ধ ধর্মভিত্তিক উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়েছে। এই উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদকে এখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রমোট করছে। এরা মূলত মিয়ানমারকে একটি পূর্ণ বৌদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আর এ লক্ষ্যেই তারা আরাকান প্রদেশে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করছে। তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ক্রিশ্চিয়ান কমিউনিটির ওপর যতটুকু না আক্রমণ হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি আক্রমণ হচ্ছে মুসলমানদের ওপর। পাঠকদের বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের (১ জুলাই ২০১৩, When Buddhists Go Bad) কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। বৌদ্ধ উগ্রবাদ কিভাবে মিয়ানমারে বিস্তার লাভ করছে, কিভাবে রোহিঙ্গারা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হচ্ছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে ওই প্রতিবেদনে। আছে উগ্রবাদী বৌদ্ধ নেতা ভিরাথুর বক্তব্য, যাকে কিনা বলা হয় 'বার্মিজ বিন লাদেন'। ভিরাথু তাঁর উগ্রবাদী মতবাদের জন্য ২০০৩ সাল থেকে সাত বছর জেলে কাটিয়েছিলেন সত্য, কিন্তু ক্ষমতাসীনরা তাঁকেই এখন মুসলমানদের উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহার করছে। ভিরাথু মিয়ানমারকে একটি বৌদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিয়ে যে সমস্যা, তার পেছনে কাজ করছে ওই উগ্র বৌদ্ধ মানসিকতা।

এই উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদ এখন মিয়ানমারের রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এমনকি বিরোধী নেত্রী অং সান সু চিও এই উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতার বাইরে যেতে পারেননি। তিনি এই উগ্র জাতীয়তাবাদকে সরাসরি সমর্থন না করলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নে এবং তাদের প্রতি যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ করেননি। তাই রাজ্জাককে ধরে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের ৫৪৪ জন নাগরিককে (যারা রোহিঙ্গা) যখন ফেরত নেওয়ার কথা বলল, তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে রোহিঙ্গা সমস্যাটিই এর পেছনে কাজ করছে। অথচ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মিয়ানমারের বিজিপি এই কাজটি করতে পারে না। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী (আর্টিকেল ৩) নায়েক আবদুর রাজ্জাকের অধিকার ছিল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী স্বীকৃত। তাঁর সঙ্গে সেভাবেই আচরণ করা উচিত ছিল। কিন্তু লুঙ্গি পরিয়ে, রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর ছবি আপলোড করে মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। আমাদের উচিত হবে বিষয়টি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট শাখাকে অবহিত করা। কেননা, জাতিসংঘ চার্টারের ২৫ নম্বর ধারায় জাতিসংঘের ভূমিকা এ ব্যাপারে স্পষ্ট। একই সঙ্গে আমাদের উচিত হবে রোহিঙ্গা সমস্যায় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর (যাদের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক ভালো) সাহায্য ও সহযোগিতা নেওয়া। আমরা বিরোধী নেত্রী অং সান সু চির সহযোগিতাও চাইতে পারি। তবে তাঁর ক্ষমতা সীমিত। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর স্থানীয় কমান্ডারের ভূমিকাই মুখ্য।
'রাজ্জাকের' অধ্যায়টি শেষ হলো বটে, কিন্তু এ ঘটনাই 'শেষ ঘটনা' হয়ে থাকবে না। মিয়ানমারের ব্যাপারে আমরা যদি শক্ত অবস্থানে যেতে না পারি, আমার ধারণা ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে। দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে যেতে হবে। এক. রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিককরণ করা। দুই. অবৈধ ইয়াবা পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অতীতেও আক্রান্ত হয়েছিল। সীমান্ত বরাবর বিশাল অঞ্চলজুড়ে মিয়ানমার কর্তৃক পুঁতে রাখা ভূমি মাইন বিস্ফোরণে অতীতে (১৯৯৩ সালে) বাংলাদেশের ৫৩ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন ও ১২৮ জন চিরস্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছিলেন। ১৯৮৫ সালে মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ২০ হাজার নিয়মিত সৈন্য মোতায়েন করলে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে মিয়ানমার উভয় দেশকে পৃথককারী নাফ নদে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। এই বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে পরে ২০০০ সালের ডিসেম্বরে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছিল। অনেকের স্মরণ থাকার কথা, ২০০১ সালের জানুয়ারিতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০ হাজার সৈন্য নিজ নিজ সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছিল। যদিও এটা সত্য, এরপর দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল এবং মিয়ানমার বাঁধ নির্মাণ কর্মসূচি স্থগিত রেখেছিল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় (২০০৬-২০০৮) বাংলাদেশ কর্তৃক গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান করায় (একটি কোরীয় কম্পানি কর্তৃক) মিয়ানমার সেখানে যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত পাঠিয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ নেভিও সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল। সুতরাং বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারকে আস্থায় নিয়েছে, কিন্তু মিয়ানমার সেই আস্থার কোনো মর্যাদা দেয়নি।
রোহিঙ্গা নিয়ে যে সমস্যা, তার শুরু মূলত ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে। ওই সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত 'Operation Dragon'-এর শিকার হয়ে আরাকানের মুসলমানরা (রোহিঙ্গা) দলে দলে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা ছিল আকিয়াব (সিটওয়ে), পালেটবা, মিনশিয়া, মায়োহং, মাইবন, মংডু এবং রাথেডং অঞ্চলের অধিবাসী। ওই সময় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৮ সালের জুলাই মাসে মিয়ানমার তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সব রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং ১৯৭৮ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে আগত এক লাখ ৮৭ হাজার ২৫০ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়। এদের সবার কাছেই মিয়ানমার সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত National Registration Card (NRC) ছিল। এরপর ১৯৯১ সালের মাঝামাঝি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আবারও আরাকানে 'অপারেশন পিয়েথায়া' নামে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করলে আবারও হাজার হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজার এলাকায় আবৈধভাবে প্রবেশ করে এবং আশ্রয় নেয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যত তা খুব একটা ফল দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমান বৃহত্তর কক্সবাজার এলাকায় অবৈধভাবে বসবাস করছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৪৫ জন। এরা টেকনাফের কুতুপালং ও নোয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। কিন্তু অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশ সরকার অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত 'মিয়ানমারের নাগরিক শুমারি ২০১৫' শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২২ কোটি টাকা। এই উদ্যোগটি ভালো। রোহিঙ্গাদের ওই দুটি ক্যাম্প থেকে নিঝুম দ্বীপে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাও করছে সরকার। এই উদ্যোগটিও ভালো। বাংলাদেশ সরকারকে এখন রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক 'ইয়াবা' আসছে। বাংলাদেশ ইয়াবার চালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রাজ্জাকের অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুর সঙ্গে 'ইয়াবার' প্রশ্নটিও তাঁর অপারেশনের সঙ্গে জড়িত। গত সাত বছরে ইয়াবার চোরাচালান বেড়েছে ১৭৭ গুণ। এই হিসাব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। ঢাকায় ইয়াবা বিক্রির রয়েছে পাঁচ শতাধিক স্পট (আমাদের সময়, ২৪ জুন)। আরেকটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩৯টি ইয়াবা কারখানা রয়েছে, যেখান থেকে চোরাইপথে প্রতি মাসে সীমান্ত দিয়ে শত কোটি টাকার ইয়াবা চালান ঢুকছে বাংলাদেশে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে বাংলাদেশে বছরে তিন হাজার কোটি টাকার মাদকের বাজার রয়েছে। এর অর্ধেক দখল করে রেখেছে ইয়াবা (সকালের খবর, ২৪ জুন)। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, ইয়াবা পাচারের সঙ্গে মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা জড়িত। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এ কাজে জড়িয়ে গেছেন।
সুতরাং রাজ্জাককে ফিরিয়ে নিয়ে এসে আমরা যদি আত্মতুষ্টিতে ভুগি, তাহলে আমরা ভুল করব। কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে এবং আমাদের সীমান্তরক্ষীদের আরো সতর্ক রাখতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এবং ইয়াবা চালান বন্ধ হলেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস পাবে।
Dainil Kalerkontho
28.06.15

0 comments:

Post a Comment