রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

‘শাহবাগে প্রণবের সমর্থন খালেদা জিয়াকে বৈঠক বাতিলে উদ্বুদ্ধ করতে পারে’


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেছেন, শাহবাগের তরুণদের আন্দোলনে প্রণব মুখার্জির সমর্থন থাকার বিষয়টি খালেদা জিয়াকে সাক্ষাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তবে খালেদার সাক্ষাৎ বাতিল করাটা ঠিক হয়নি। সৌজন্যের খাতিরে সাক্ষাৎ করাটা উচিত ছিল। মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক শামসুর রেহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রণবের সফরকে সরকারি দলের পালে হাওয়া বলে ব্যাখ্যা করতে চাইছে। অনেকে বলছে, হাসিনার পাশের দাঁড়ানোর জন্য এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান প্রকাশ করতেই প্রণব ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু ‘সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চাওয়া’র বিষয়টি ভিন্ন একটি ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে তার এ বক্তব্যটি এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি বার্তা দিয়েছেন। এই বক্তব্যের ফল হিসেবে আগামী নির্বাচনে ভারতকে নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখা যাবে এমন আশা করতে পারে বাংলাদেশের মানুষ। এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশের সম্মান বাড়লো বলে তারেক শামসুর রেহমান মনে করেন।
তিস্তা ও সীমান্তচুক্তির ব্যাপারে প্রণবের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ভারতের প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে এর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ, এর সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির ভূমিকা জড়িত। মমতা এখন কেন্দ্রীয় সরকারে নেই। জোটেও নেই। তাই মমতাকে কেন্দ্রীয় সরকার রাজি করাতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় হলো, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, তিস্তার পানিবণ্টনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সিকিমের ভূমিকাও একটা ফ্যাক্টর। ইতিমধ্যেই সিকিম সরকার তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে ২৭টি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণ করেছে। সুতরাং সিকিমও এ ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপ দিতে পারে। এছাড়া সার্কের সম্মেলনে শেখ হাসিনার একটি প্রস্তাব ছিল, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা সংস্থা গঠনের। সেই প্রস্তাবে ভারত সমর্থন দেয়নি। সুতরাং বিষয়টি ভাবনার সৃষ্টি করে।
সীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে ’৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই চুক্তি অনুসারে সিটমহল বিনিময় হওয়ার কথা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালেই সংবিধানে তৃতীয় সংশোধনী এনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ভারতের মন্ত্রিসভা গত ৩৯ বছরে তার অনুমোদন দেয়নি। সম্প্রতি অনুমোদন দিলেও তাদের সংবিধান সংশোধন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কারণ, বিজেপি সংবিধানের সংশোধনীতে রাজি নয়। অর্থাৎ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণেই প্রণব মুখার্জির এই আশাবাদ বাস্তবায়নে সংশয় থেকে যাচ্ছে।
Daily MANOBJAMIN
( Interview, 5.3.13)

0 comments:

Post a Comment