রাজনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ সংক্রান্ত অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের একটি ওয়েবসাইট। লেখকের অনুমতি বাদে এই সাইট থেকে কোনো লেখা অন্য কোথাও আপলোড, পাবলিশ কিংবা ছাপাবেন না। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন লেখকের সাথে

নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধন জরুরি

দুটি বড় দল অথবা জোটের মাঝে সংলাপ এই মুহূর্তে জরুরি নানাবিধ কারণে। শুধু যে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই কথা হবে তা নয়, বরং সংবিধান ও নির্বাচনের আচরণবিধি নিয়ে নানা কথা আছে এবং জটিলতাও আছে। এই জটিলতাগুলো দূর করার যদি কোনো উদ্যোগ নেয়া না হয়, তাহলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন লেখায় এটা বলার চেষ্টা করেছি যে, গ্রিসে বিচারপতি পাপাদেমাসের নেতৃত্বে, পাকিস্তানে বিচারপতি খোসোর, নেপালে প্রধান বিচারপতি খিলরাজ রেগমির বুলগেরিয়ায় কূটনীতিক মারিয়ান রায়কভের নেতৃত্বে যদি একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায় তাহলে বাংলাদেশেও এটা সম্ভব। উল্লেখ্য গ্রিস ও পাকিস্তানে ইতিমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী জুন মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বুলগেরিয়া ও নেপালে। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দরকার সরকারের পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু এর পাশাপাশি সংবিধান ও রাজনৈতিক দলের আচরণবিধিতে যেসব অসঙ্গতি রয়েছে, তা দূর করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। না হলে শুধু সংলাপ করে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে না। যেমন সংসদ সদস্যরা তাদের পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে ব্যাপারে সংবিধানে অসঙ্গতি রয়েছে।
সংবিধানের ১২৩(৩) ‘ক’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে, মেয়াদ অবসানের কারণে ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে’। পাঠক, এখানে লক্ষ্য করুন, ‘পূর্ববর্তী’ শব্দটি রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। এর ৯০ দিন আগে নির্বাচন হতে হবে। তাহলে যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় তা হচ্ছে সংসদ ভেঙ্গে যাচ্ছে না। সংসদকে রেখেই নির্বাচনটা হবে। যদি তাই হয়, তাহলে যিনি নির্বাচিত এমপি তাকে রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাহলে কী দাঁড়াল ব্যাপারটা? একজন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বিজয়ী এমপি, অপরজন ২০১৩ সালের অক্টোবরে (?) অনুষ্ঠেয় দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এমপি। একই ব্যক্তি হলে সমস্যাটা তুলনামূলকভাবে কম। এখানে প্রধানমন্ত্রী কোনো এক অনুষ্ঠানে একটি কথা বলেছেনÑ তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবেন, যাতে কোনো জটিলতা না হয়। এখানেও সংবিধানের ব্যাখ্যায় আমাদের যেতে হবে। সংবিধানের ৫৭(২) ধারায় বলা আছে ‘সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাঙ্গিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্যকোনো সংসদ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাঙ্গিয়া দেবেন।’ আবার লক্ষ্য করুন ৫৭(৩) এ কী কথা বলা হয়েছেÑ ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই অযোগ্য করিবে না’। এর ব্যাখ্যা করা যায় এ রকম : ১. ধরে নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙ্গে দিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ‘বাধ্য নন; ২. প্রধানমন্ত্রী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা হারাবেন ৩. এটা কী চিন্তা করা যায়? সে ক্ষেত্রে কেন প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙ্গে দিতে বলবেন? ৪. আসল বিষয় হচ্ছে সংসদ ভেঙ্গে গেলেও তিনি কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থেকে যাচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন যে প্রভাবান্বিত হয়ে পড়বে না, তার গ্যারান্টি আমাদের কে দেবে? সংবিধানের ১২৩(৩) ধারা নিয়ে আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন। ১২৩(৩)-এ উল্লেখ আছে, ‘শর্ত থাকে যে (ক) উপ-দফায় (১২৩ ৩-ক) উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না’। তাহলে কী একই নির্বাচনী এলাকায় দু’জন সংসদ সদস্যের অস্তিত্ব থাকছে না? যিনি ‘৯০ দিন আগে’ যে কোনো এক সময় নির্বাচিত হবেন, তিনি তো দায়িত্ব নিতে পারবেন না। তাকে অপেক্ষা করতে হবে ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। যেদিন সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। সমস্যা আরও আছে। সংসদ সদস্যদের পদটি কী ‘লাভজনক’ পদ? এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। তবে ‘লাভজনক’ পদে যারা অধিকারী, সে ব্যাপারে সংবিধানের ৬৬(৪)২(ক) ধারায় একটি ব্যাখ্যা আছে। ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে (অর্থাৎ সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা) কোনো ব্যক্তি (রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী) প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য, হইবেন না।’ অর্থাৎ উপরে উল্লিখিত পদগুলো সংবিধান অনুযায়ী ‘লাভজনক পদ’ নয়। যদিও এখানে ‘সংসদ সদস্যপদ’ কথাটি লেখা হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে মেয়র পদকে লাভজনক পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও জনগণের ভোটে নির্বাচিত। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যপদ লাভজনক পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমতাবস্থায় সংসদ সদস্যপদে নির্বাচিত হয়ে তিনি যদি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হন, তিনি মন্ত্রী থেকে নির্বাচন করতে পারবেন কী না, সেটা একটা প্রশ্ন। রাজনৈতিক দলের আচরণবিধিতে [২০০৮(১৪)-ধারা(১)] বলা হয়েছে, মন্ত্রী বা সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তি নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারবেন না। এর অর্থ কী? একজন মন্ত্রী বা এমপি, তিনি তো সুবিধাভোগী শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। সরকারের কাছ থেকে ভাতা নেন, সুযোগ-সুবিধা নেন। তিনি তো সরকারের সুবিধাভোগী। তিনি যদি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে না পারেন, তাহলে প্রশ্ন তো থাকবেই। আর তিনি কী তা মানবেন? তিনি কী প্রভাব খাটাবেন না? অতীতে আমরা দেখেছি নির্বাচনের সময় নির্বাচনী কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আরপিওতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি থাকছে না। তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে যে নির্বাচন, তার নিরপেক্ষতা আমরা নিশ্চিত করবো কীভাবে?
গত রোববার ১৮ দল হরতাল পালন করেছে। তাদের বক্তব্য স্পষ্ট। কারাবন্দী নেতাদের ও কর্মীদের মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এবং সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে ১৮ দল এই হরতাল ডেকেছিল। সারাদেশের মানুষ ও সুশীল সমাজ যখন চাচ্ছে সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে একটি ‘সংলাপ’ হোক, তখন সরকার এই সংলাপ নিয়ে একটি ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে। সরকারের সুশীলরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে তত্ত্বাবধায়ক তথা নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি গুলিয়ে ফেলেছে।
তথাকথিত টিভি টক শোতে এইসব চিহ্নিত সুশীলরা বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এমনকি বয়োজ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা আল্লামা শফীকে নিয়ে কটূক্তি করতেও তারা দ্বিধাবোধ করেননি। তারা মূল বিষয়কে পাস কাটিয়ে অন্য বিষয়ে জনগণের দৃষ্টিকে নিয়ে যেতে চায়। তাতে তারা ব্যর্থই হয়েছে। মূল বিষয় হচ্ছে একটিÑ নির্বাচনকালীন সময়ে একটি সরকার। শেখ হাসিনা একটি দলের প্রধান। তিনি যদি ওই তিন মাসের জন্য সরকার প্রধান থাকেন, তাহলে নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, তা স্বীকার করেছেন ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি প্রধান এইচ এম এরশাদও। সরকার একদিকে বিএনপিকে বলছে সংসদে এসে আলোচনা করার জন্য। আবার দলের নীতি নির্ধারকরা বলছেন শেখ হাসিনাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন। সিদ্ধান্তটি যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে সংলাপ হবে কী জন্য? আমরা একবারও চিন্তা করছি না, দেশকে আমরা কোনো পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি? সরকারের নীতি নির্ধারকরা ভালো করেই জানেন বিএনপি ও ১৮ দল কোনো অবস্থাতেই ‘শেখ হাসিনাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী’ রেখে কোনো সমঝোতায় যাবে না। ফলে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং বিরোধী দলকে ঠেলে দিচ্ছে কঠোর কর্মসূচি দিতে। এ অবস্থায় বিএনপি তথা ১৮ দলকে কোনো অবস্থায় দোষ দেয়া যাবে না। তাদের বাধ্য করা হচ্ছে কঠোর কর্মসূচি দিতে। এরই মাঝে রাজনীতিতে যোগ হয়েছে ‘তারেক ইস্যু।’
রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতি নিয়েও বেড়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। বালাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন ঝুঁকির মুখে। সীমিত যে জিএসপি সুবিধা বাংলাদেশ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পায়, তাও বন্ধ হবার পথে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানি বালাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এখন যথেষ্ট স্থবিরতা। ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণ বেড়ে গেছে। রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে ব্যাপকভাবে। নির্মাণ ও আবাসন খাতে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সুশাসনের অভাব ও অবকাঠামো সঙ্কট অর্থনীতির ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র হিসাব মতে বেসরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে জিডিপির মাত্র ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। ২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর থেকে গত অর্থবছর (২০১১-১২) পর্যন্ত ওই হার ১৯ শতাংশের নিচে নামেনি। যেসব সূচকের মাধ্যমে বিনিয়োগের গতি প্রকৃতি অনুধাবন করা যায়, সেগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। অর্থনীতির এই চিত্র কোনো আশার কথা বলে না।
মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশ একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ এ পরিণত হবে কী না সেটা নিয়ে চিন্তিত। সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কানাডিয়ান হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সঙ্কটকে গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। এর আগে বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশের যৌথ চেম্বারের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ব্যবসা ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি ঢাকা ঘুরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অতি ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল। তারা একদিকে রাজনৈতিক সহিংসতায় যেমনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে মার্কিন জনগণের উৎকণ্ঠার খবরও জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্ব জনমত কোনো আশার কথা বলে না। রাজনীতির এই সঙ্কটকালীন সময়ে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তাতে করে পুরো সংলাপ প্রক্রিয়া এখন ঝুলে গেল। সংলাপ হবার আদৌ কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা এখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সরকার আদতেই ‘সংলাপ’ চায় না। সংলাপের জন্য যে পরিবেশ দরকার, সরকার নিজে সেই পরিবেশ ধ্বংস করেছে। সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, সরকার এককভাবে নির্বাচনের দিকেই এগুচ্ছে। কিন্তু এই পথ সুগম নয়। এই পথ দেশের কোনো মঙ্গল ডেকে আনবে না। পরিকল্পনা মাফিক সরকার ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। যুগ্মভাবে দেখলে দেখা যাবে সরকার প্রধান ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রায় প্রতি সপ্তাহেই গণভবনে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলছেন। কারা কারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাও ঠিক করে ফেলেছেন। ডিসেম্বরে অথবা জানুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন দীপু মনি, যিনি সরকার প্রধানের খুব ঘনিষ্ঠ। একদিকে সংলাপের কথা বলে, বিএনপিকে তথাকথিত ‘আমন্ত্রণ’, অন্যদিকে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে শীর্ষ নেতাদের ব্যতিব্যস্ত রাখাÑ আর এক সময় হঠাৎ করেই নির্বাচনের ‘সিডিউল’ ঘোষণা করা হবে! উদ্যোগ একটাই বিএনপি তথা ১৮ দলকে নির্বাচনী প্রচারণা তথা প্রস্তুতির সুযোগ না দেয়া। ছক সাজানো আছে। সেই ‘ছক’ ধরেই ধীরে ধীরে এগুচ্ছে সরকার। এই স্ট্র্যাটেজি ভুল। এতে করে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হবে। সঙ্কটের ব্যাপ্তি বাড়বে। তাই সকল বিরোধী দলকে সরকারের এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষের মাঝে যেতে হবে। সাধারণ মানুষের ঐক্যই পারে সরকারের পতন ঘটাতে।
31.05.13

0 comments:

Post a Comment